free web tracker
শেয়ার করুন:

ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ কুষ্টিয়ার কৃষকরাও আধুনিকতার মধ্যে চলে আসছেন। তারা এখন পরিবেশবান্ধব কৃষির দিকেই ঝুঁকছেন। যা দেশের অন্য অঞ্চলের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করবে।

প্রকাশ থাকে যে, পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। যার মধ্যে প্রাকৃতিক উপায়ে জমির উর্বরতা বৃদ্ধিকরণ, রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো উল্লেখযোগ্য। প্রাকৃতিকভাবে জমির উর্বরতা বৃদ্ধির এক অন্যতম উপায় হচ্ছে ধৈঞ্চার চাষ।

গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ধৈঞ্চাগাছ কিছুটা বড় হলে সেটিকে মাটিতে পিষে ফেলা হলে সেই জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় কয়েকগুণ। বিকল্প জ্বালানি হিসেবেও রয়েছে ধৈঞ্চার ব্যাপক ব্যবহার। পরিবেশবান্ধব কৃষির উন্নয়নে বাংলাদেশেও এখন ধৈঞ্চা চাষ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি বর্ষা মৌসুমে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে অধিকাংশ জমিতে কেবল ধৈঞ্চার চাষ হতে দেখা গেছে। বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার কৃষক জমির উর্বরতা বাড়াতে এবং কৃষি ও গৃহস্থালী কাজে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের জন্য ব্যাপক হারে ধৈঞ্চার চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। জানা গেছে, তারা এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধৈঞ্চা চাষ করছেন।

দৌলতপুর উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের দীঘলকান্দা গ্রামের চাষীরা জানান, অনাবাদি মৌসুমে ধৈঞ্চা চাষ করলে জমির উর্বরতা বাড়ে। এতে পরে জমিতে ধানসহ যে ফসলই আবাদ করা যায়, তার বাম্পার ফলন হয়। কৃষকরা জানিয়েছেন, আগে তারা এ মৌসুমে জমিকে অলস ফেলে রাখতেন। এখন ধৈঞ্চার চাষ করে তারা যেমন একদিকে পরবর্তী আবাদি মৌসুমের জন্য জমিকে উর্বর করে তুলছেন, তেমনি ধৈঞ্চার খড়ি হিসেবে ব্যবহারে বিকল্প জ্বালানির চাহিদা পূরণ করে চলেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দীঘলকান্দা গ্রামের চাষী মোজাম্মেল জানান, ধৈঞ্চার আছে অর্থনৈতিক উপযোগিতাও। এর বীজ বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছি আমরা। ধৈঞ্চা এমন একটি ফসল, যা বায়ু থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে শিকড়ে জমা করে। তাই এ ধৈঞ্চা চাষের মাধ্যমে মাটিতে নাইট্রোজেন ও জৈব উপাদান বাড়ানো হয়। পৃথিবীর বহু দেশে ধৈঞ্চা আবাদ বহুল প্রচলিত। বাংলাদেশ সরকারও কৃষকদের ধৈঞ্চা চাষে আগ্রহী করে তোলার জন্য বিভিন্ন চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারকে এ কাজে সহযোগিতা প্রদানের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটি বাংলাদেশ) ২০০০ সাল থেকে বিভিন্ন প্রচারণা, সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড, কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ বিতরণ এবং তাদের ধৈঞ্চা চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিতকরণ কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। বিএটি বাংলাদেশের লক্ষ্য হচ্ছে, ২০১৪ সালের মধ্যে তাদের ৭৫ শতাংশ নিবন্ধিত চাষীকে ধৈঞ্চা চাষের আওতায় আনা। এ লক্ষ্যে ২০১১ সালে সংস্থাটি ১ লাখ ৫২ হাজার কেজি এবং ২০১২ সালে ২ লাখ কেজি ধৈঞ্চা বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। চলতি বছর সংস্থাটির নিবন্ধিত চাষীদের মধ্যে ৫০ শতাংশেরও বেশি চাষী ধৈঞ্চা চাষ করেছেন।

বৃহত্তর কুষ্টিয়ার কৃষকদের একটি বড় অংশ বর্তমানে মাটির উর্বরতা বাড়াতে ধৈঞ্চা চাষ এবং গৃহস্থালী ও কৃষিকাজে ব্যবহার্য জ্বালানির জন্য ধৈঞ্চার খড়ির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তারা গাছ কেটে জ্বালানি বানানোর সনাতন পথ থেকে সরে এসেছেন। বিএটি বাংলাদেশ তামাক প্রক্রিয়াকরণের প্রতিটি পর্যায়ে কাঠের বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যে ধৈঞ্চার কাঠি, তামাকের কাঠি, পাটকাঠি, ধানের খড়, তুষ, আখের ছোবড়া এবং অন্যান্য ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবহারে তাদের নিবন্ধিত তামাকচাষীদের উদ্বুদ্ধ করছে। কুষ্টিয়া অঞ্চলে সংস্থাটি ফ্লু কিওরড ভার্জিনিয়া (এফসিভি) জাতের তামাক চাষ করে থাকে। এ অঞ্চলে উৎপাদিত এফসিভি জাতের তামাকের পুরোটাই বর্তমানে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

পরিবেশবান্ধব কৃষির আরেক গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করা। রাসায়নিক কীটনাশকের চেয়ে জৈব কীটনাশক বা বিভিন্নরকম ফাঁদ ব্যবহার করা হলে জমিতে কীটপতঙ্গের সংক্রমণ যেমন ঠেকানো যায়, তেমনি জমি ও ফসলকে রক্ষা করা যায় বিষাক্ত ওষুধের হাত থেকে। কুষ্টিয়ার কৃষকরা বর্তমানে রাসায়নিক কীটনাশক থেকে বিকল্প কীটনাশকের দিকে কার্যকরভাবে সরে আসার লক্ষ্যে নিমপাতার দ্রবণ এবং বিভিন্ন রকমের ফাঁদ ব্যবহার করছেন ব্যাপক হারে। তাদের এসব কাজে আগ্রহী করে তুলতে বিএটি বাংলাদেশের উদ্যোগে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা ক্লাব (আইপিএম ক্লাব), বিএটি বাংলাদেশ এ পর্যন্ত দেশে ৩৫টি আইপিএম ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছে। এসব ক্লাবে এ পর্যন্ত ৩৭টি এফএফএস সেশন সম্পন্ন হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছরের মধ্যে সারাদেশে আরও অন্তত ১০টি আইপিএম ক্লাব স্থাপনের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

এছাড়া পরিবেশবান্ধব কৃষিকাজে বিএটি বাংলাদেশ তামাকচাষীদের বাড়ির আঙ্গিনায় জৈব সার উৎপাদনে স্বল্প ব্যয়ে কম্পোস্ট পিট তৈরিতে যথাযথ কারিগরি জ্ঞান এবং সহায়তা প্রদান করছে বলে জানা যায়। এসব প্রকল্প চালু হলে কুষ্টিয়া দেশের একটি মডেল হিসেবে পরিগণিত হবে বলে মনে করছেন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা মনে করেন, এ অঞ্চলে এটি সফল হলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হবে। কৃত্রিম সারের অপকারিতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ফসল উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করতে কুষ্টিয়া অঞ্চলের এ প্রকল্প মডেল হিসেবেই পরিগণিত হবে। যা দেশের প্রতিটি সচেতন মানুষের কাম্য।


সতর্কবার্তা:

বিনা অনুমতিতে দি ঢাকা টাইমস্‌ - এর কন্টেন্ট ব্যবহার আইনগত অপরাধ, যে কোন ধরনের কপি-পেস্ট কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, এবং কপিরাইট আইনে বিচার যোগ্য!

July 16, 2012 তারিখে প্রকাশিত


315 জন মন্তব্য করেছেন

মন্তব্য লিখতে লগইন করুন

আপনি হয়তো নিচের লেখাগুলোও পছন্দ করবেন

দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর রায় নিয়ে জামায়াতেও উদ্বিগ্নতা
কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনে পর্যটন শিল্পে ধস
এক নিরীহ প্রাণী ভেড়ার কাহিনী
নিরাপত্তার জন্য সেন্টমার্টিনে গোসল বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ
বাঘা মসজিদ ও মাঝারে ঘুরে আসুন
সেন্টমার্টিনে বেড়াতে যাবার আগে ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদ সম্পর্কে জেনে নিন
ভেজাল ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে চকলেট তৈরি করায় ডেইরি মিল্ক কারখানা সিলগালা
বেলার নির্বাহী পরিচালক রিজওয়ানার স্বামী অপহরণ পরিকল্পিত?
সাদা বক ও মাছ শিকার
পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই করা যাবে পাসপোর্ট!
সেন্টমার্টিনে নিখোঁজ ৪ ছাত্রের লাশ উদ্ধার
শুনানী শেষ: জামায়াত নেতা সাঈদীর আপিলের রায় যেকোনো দিন
E
Close You have to login

Login With Facebook
Facility of Account