‘ট্রাম্প তার পূর্বসূরীদের মতোই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন’ -ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

২৩ মে সন্ধ্যায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এই মন্তব্য করেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘ট্রাম্প তার পূর্বসূরীদের মতোই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন’।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী তার নিজ দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের গভীর শত্রুতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে, ইরানের কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আমেরিকার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।

২৩ মে সন্ধ্যায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এই মন্তব্য করেন। ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্টের পরিণতি বুশ ও রিগ্যানের মতো পূর্বসূরিদের চেয়ে ভালো কিছু হবে না, তিনিও তাদের মতোই ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেছেন, পরমাণু আলোচনার শুরু হতে ইরান যে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে তা হলো- আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসা আসলে তেহরানের সাজে না, এর কারণ হলো দেশটি কোনো প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করে না।

পরমাণু সমঝোতা হতে বেরিয়ে গিয়ে আমেরিকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে বলে উল্লেখ করেন ইরানের এই নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী। তিনি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতাতে অটল থাকতে চাইলে ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই ঘটনার কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব আনতে হবে।

ইউরোপের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা কয়েকটি শর্তও আরোপ করেন। তিনি বলেছেন, তিন ইউরোপীয় দেশের শীর্ষ নেতাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের উপস্থিতি নিয়ে কখনও কোনো অবস্থাতেই কথা বলবেন না।

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আরও বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সাংঘর্ষিক সম্পর্ক নেই, তবে এসব দেশের প্রতি তেহরানের অবিশ্বাস রয়েছে। ইউরোপীয়রা অতীতে ইরানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে বলেই এই অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। এই অবিশ্বাস ভাঙতে তিন ইউরোপীয় দেশকে (ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি) বাস্তবে গ্যারান্টি দিতে হবে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...