ইমরান খানকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা সেনাবাহিনীর- প্রশ্ন তুলেছেন রেহাম খান

ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী ও সাংবাদিক রেহাম খান

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ইমরান খানকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা সেনাবাহিনীর- এমন প্রশ্ন তুলেছেন ইমরান খানের দ্বিতীয় স্ত্রী রেহাম খান। তিনি বলেছেন, ইমরান খানকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা দু-তিন বছর পূর্বেই সাজায় সেনাবাহিনী।

একসময়ের প্লেবয় ইমরান খান পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। তবে ইমরান খানের দ্বিতীয় স্ত্রী রেহাম খান প্রশ্ন তুলেছেন যে, তাঁর দল কীভাবে জয়ী হলো? এর পেছনে সেনাবাহিনীর হাত দেখছেন সাংবাদিক রেহাম খান। তিনি বলেছেন, ইমরান খান হবেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ‘আদর্শ হাতের পুতুল’। সেনাবাহিনী যা যা বলবে, সেটিই অনুসরণ করে চলতে হবে ইমরানকে। পিটিআইয়ের প্রধানকে ক্ষমতায় বসানোর প্লট সাজানো হয় ২ বা ৩ বছর পূর্বেই।

ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী ও সাংবাদিক রেহাম খান বর্তমানে যুক্তরাজ্য রয়েছেন। ভারতের দ্য হিন্দুকে লন্ডন হতে টেলিফোনে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রেহাম খান। দ্য হিন্দু’র সুহাসিনি হায়দারকে দেওয়া সেই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে রেহাম অভিযোগ করেন, এবারের জালিয়াতির নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। তাছাড়া পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে, বিশেষ করে ভারত ইস্যুতে ইমরান খানের নীতি কী হবে, দেশটির সেনাবাহিনীর ইচ্ছাই সেখানে প্রাধান্য পাবে বলেই মনে করছেন রেহাম খান।

জানা যায়, রেহাম খানের আত্মজীবনী প্রকাশিত হয়েছে এই মাসেই। রেহামের বইটি প্রকাশের আগেই পাণ্ডুলিপির কিছু অংশ অনলাইনে ফাঁস হয়। রেহাম অনেক আগেই ইমরানের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন, কুৎসিত যৌনাচারের অভিযোগ তোলেন। বইটিতে ইমরানকে ভণ্ড, মিথ্যাবাদী, বেরোজদার, এমনকি নামাজও পড়েন না বলে উল্লেখ করেছেন রেহাম। তিনি অভিযোগ তোলেন যে, নিজ দলে বড় পদ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নারী কর্মীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেন ইমরান খান।

৫টি আসনে ইমরান খান জয়ী হওয়া ও নির্বাচনে পিটিআইয়ের ফলাফল সম্পর্কে রেহামের প্রতিক্রিয়া জানতে চান সুহাসিনি হায়দার। জবাবে রেহাম বলেছেন, ফল কী হবে সেটি আমি আগেই জানতাম। আমি এ-ও জানি, নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হতো, তাহলে ইমরানের জেতার কোনো সুযোগই থাকতো না। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশসহ কয়েকটি স্থানে পিটিআই এতো ভালো করা অসম্ভব। কারণ হলো, ওই সব স্থানে পিটিআইয়ের প্রাদেশিক সরকারের কোনোই জনপ্রিয়তা নেই। লাহোর ও করাচির মতো জায়গায় যা ঘটেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। কারণ এসব জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদেরা পিটিআইয়ের নতুনদের কাছেই পরাজিত হয়েছেন।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...