তিন জমিদারবাড়ি একদিনে মাত্র ৩৬০ টাকায়

আঠারো শতকের মধ্যভাগে জমিদার গোবিন্দরাম শাহ বালিয়াটি জমিদারবাড়ি নির্মাণ করেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রতিদিনের অফিস-কাজ কারই বা ভালো লাগে? ব্যস্ত নগরজীবনে কাজকর্মের চাপে যখন পিষ্ট হয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই ঢাকার আশপাশের কোনো দর্শনীয় স্থান ঘুরে আসতে পারেন। একঘেয়েমি দূর হওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্যের সান্নিধ্য পাবেন খুব কাছ থেকে।

ঢাকার কাছাকাছি পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জায়গার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি জমিদারবাড়ি, একই রাস্তায় টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার পাকুটিয়া জমিদারবাড়ি এবং একই জেলার দেলদুয়ার উপজেলার বারোভূঁইয়াদের ইতিহাস গাঁথা নর্থ হাউস। আর ভাবতে পারেন আপনি খরচের কথা। তিন জমিদারবাড়ি ঘুরে আসতে আপনার খরচ হবে মোট ৩৬০ টাকা।

বালিয়াটি জমিদারবাড়ি:

আঠারো শতকের মধ্যভাগে জমিদার গোবিন্দরাম শাহ বালিয়াটি জমিদারবাড়ি নির্মাণ করেন। বালিয়াটি জমিদারবাড়ি প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর অবস্থিত। জমিদারবাড়ির পুরো চত্বরটি উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। এতে রয়েছে সাতটি প্রাসাদসম ইমারত, যাতে মোটকক্ষ রয়েছে ২০০টি। এখানে রয়েছে পূর্ব বাড়ি, পশ্চিম, উত্তর, মধ্য ও গোলাবাড়ি নামে বড় আকারের পাঁচটি ভবন। মূল ভবনগুলোর সামনের দেয়ালজুড়ে নানা রকম কারুকাজ আর মূর্তি চোখে পড়ে। ভবনগুলোর সামনে প্রাচীরের দেয়ালে রয়েছে চারটি প্রবেশপথ। চারটি প্রবেশপথের চূড়ায় রয়েছে পাথরের তৈরি চারটি সিংহমূর্তি। ভবনগুলোর পেছনের দিকে আছে বড় একটি শানবাঁধানো পুকুর। ছয়টি ঘাট আছে পুকুরের চারপাশে।

পাকুটিয়া জমিদারবাড়ি:

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা প্রাচীন লৌহজং নদীর তীরে অবস্থিত। ঊনবিংশ শতকে যমুনা নদীর মাধ্যমে নাগরপুর এলাকার সঙ্গে ভারতের কলকাতার সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ ঘটে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে মুঘল আমলের শুরুর দিকে নাগরপুরের সুবিদ্ধা খাঁর হাত ধরে নাগরপুরের বিখ্যাত ‘চৌধুরী’ বংশের আবির্ভাব ঘটে। সুবিদ্ধা খাঁর পথ অনুসরণ করে কলকাতা থেকে আসেন রামকৃষ্ণ সাহা মণ্ডল। ১৯১৫ সালের ১৫ এপ্রিল তিন একর জমির ওপর একই নকশায় তৈরি করা হয় তিনটি মহল। পাকুটিয়া জমিদারবাড়িটি তিন মহলা বা তিন তরফ নামে পরিচিত।

নর্থ হাউস:

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলাসংলগ্ন নর্থ হাউস বাড়ির অবস্থান। এখনো বারোভূঁইয়াদের এক ভূঁইয়া উত্তরসূরি হিসেবে আছেন এই নর্থ হাউসের মালিক। অপরূপ সৌন্দর্যের এক রাজবাড়ি হলো দেলদুয়ার উপজেলার এই নর্থ হাউস। নর্থ হাউসের সামনের দিকে আছে শানবাঁধানো পুকুরঘাট। প্রাসাদের সামনেই চোখে পড়বে বারোভূঁইয়াদের তৈরি সাত গম্বুজবিশিষ্ট জামে মসজিদ। আপনি চাইলেই এখানে নামাজ আদায় করে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকতে পারেন। নর্থ হাউসের ভেতরে প্রবেশ করলে আপনার মনে হবে আপনি প্রাচীন ইংল্যান্ডের কোথাও আছেন। সামনের দিকে চোখে পড়বে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো কড়ই গাছ, আছে প্রাচীন পোড়ামাটির ফলক, পানির ফোয়ারা। বাড়ির পেছনের অংশে আছে বিভিন্ন জাতের আমগাছের বাগান।

যেভাবে যাবেন:

প্রথমে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে এসবি লিংক বাসে করে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া যেতে হবে, ভাড়া ৭০ টাকা। সাটুরিয়া থেকে বালিয়াটি জমিদারবাড়ির সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া জনপ্রতি ১০ টাকা। বালিয়াটি জমিদারবাড়ি প্রবেশের টিকিটের মূল্য বড়দের জন্য ২০ টাকা, ছোটদের ৫ টাকা। বালিয়াটি জমিদারবাড়ি রোববার বন্ধ থাকে। এই জমিদারবাড়ি থেকে পাকুটিয়া জমিদারবাড়ির দূরত্ব আট কিলোমিটার। আপনাকে যেতে হবে সিএনজি অটোরিকশায় করে, ভাড়া ২০ টাকা। পাকুটিয়া জমিদারবাড়ির কোনো প্রবেশ ফি নেই। পাকুটিয়া থেকে নর্থ হাউস যেতে হলে আপনাকে অটোরিকশায় করে যেতে হবে দেলদুয়ার, ভাড়া ৬০ জনপ্রতি টাকা। নর্থ হাউসের কোনো প্রবেশ ফি লাগে না। তবে ভেতরে ঢুকতে অনুমতি নিতে হবে। নর্থ হাউসে ভুল করেও শুক্রবার যাওয়া যাবে না।

কোথায় খাবেন:

খাবারের জন্য আপনাকে কোনো ধরনের চিন্তা করতে হবে না, আপনি চাইলে বালিয়াটি জমিদারবাড়িসংলগ্ন বাজার থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে নিতে পারেন। অথবা পাকুটিয়া জমিদারবাড়িসংলগ্ন পাকুটিয়া বাজারে সিকদার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেতে পারেন।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...