The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

দার্জিলিং হলো শৈল শহরের রাণী

দার্জিলিং তার অনাবিল সৌন্দর্য এবং মনোরম জলবায়ুর কারণে ভারতের একটি জনপ্রিয় ছুটির গন্তব্য হয়ে আসছে।

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ”শৈল শহরের রানী” নামে পরিচিত দার্জিলিং, হিমালয়ে অবস্থিত এবং চা উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে, যা একটি (ইউনেস্কো) বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। ১৯ শতকের মাঝামাঝি এই শৈল শহর উন্নত হয়, যখন ব্রিটিশরা দার্জিলিং-এ একটি স্বাস্থ্যালয় এবং একটি সামরিক ডিপো গড়ে তোলে। পূর্বে দার্জিলিং ছিল প্রাচীন গোর্খা রাজধানী। পরে সিকিমের মহারাজা ব্রিটিশদের দার্জিলিং উপহার করেন।

দার্জিলিং তার অনাবিল সৌন্দর্য এবং মনোরম জলবায়ুর কারণে ভারতের একটি জনপ্রিয় ছুটির গন্তব্য হয়ে আসছে। পর্যটন ছাড়াও, দার্জিলিং তার বিভিন্ন ব্রিটিশ শৈলীযুক্ত বেসরকারি বিদ্যালয় গুলির জন্য জনপ্রিয়, যা ভারত জুড়ে এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশগুলি থেকেও ছাত্র-ছাত্রীদের আকর্ষণ করে।

দার্জিলিং পরিভ্রমণের শ্রেষ্ঠ সময়ঃ

দার্জিলিং পরিদর্শনের শ্রেষ্ঠ সময় হল সেপ্টেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত।

দার্জিলিং-এ পরিদর্শনযোগ্য স্থানঃ

টাইগার হিল
দার্জিলিং হলো শৈল শহরের রাণী 1

অবজারভেটরি হিল

সেন্ট অ্যাণ্ড্রুজ চার্চ
দার্জিলিং হলো শৈল শহরের রাণী 2

ওয়ার মেমোরিয়াল

পিস প্যাগোডা
দার্জিলিং হলো শৈল শহরের রাণী 3

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে

চৌরাস্তা অ্যান্ড দ্য মল
দার্জিলিং হলো শৈল শহরের রাণী 4

হ্যাপি ভ্যালি টি গার্ডেন

পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিকাল পার্ক
দার্জিলিং হলো শৈল শহরের রাণী 5

ধীরধাম মন্দির

দার্জিলিং পৌঁছনোর উপায়ঃ

এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হওয়ায়, দার্জিলিং দেশের অন্যান্য অংশ গুলির সাথে ভাল ভাবে সংযুক্ত। এখানে দার্জিলিং যাওয়ার উপায় বলা হয়েছে।

রেলপথ দ্বারাঃ

দার্জিলিং-এ পৌঁছানোর নিকটবর্তী প্রশস্ত-মাপের রেলওয়ে স্টেশন নিউ-জলপাইগুড়িতে অবস্থিত। ভারত জুড়ে সব ট্রেনগুলি এই স্টেশনে পৌঁছায়। ভারতের প্রধান শহর থেকে এই স্টেশনে পৌঁছানোর ট্রেনগুলির একটি তালিকা হল –

মুম্বাই থেকেঃ

মুম্বাই এল.টি.টি – গুয়াহাটি এক্সপ্রেস/ ১৫৬৪৫
মুম্বাই এল.টি.টি – গুয়াহাটি সাপ্তাহিক এক্সপ্রেস (ভায়া ভাগলপুর)/ ১৫৬৪৭
মুম্বাই এল.টি.টি – কামাক্ষ্যা কর্মভূমি এক্সপ্রেস (অসংরক্ষিত)/ ১৫৬১১

দিল্লী থেকেঃ

সিকিম মহানন্দা এক্সপ্রেস/ ১৫৪৮৪
নর্থ ইস্ট এক্সপ্রেস/ ১২৫০৬
নিউ দিল্লী-ডিব্রুগড় টাউন রাজধানী এক্সপ্রেস / ১২৪২৪
নিউ দিল্লী-নিউ জলপাইগুড়ি এস.এফ এক্সপ্রেস/ ১২৫২৪
ব্রহ্মপুত্র মেল ১৪০৫৬
পূর্বোত্তর সম্পর্ক-ক্রান্তি এক্সপ্রেস/ ১২৫০২

কলকাতা থেকেঃ

কাঞ্চনজঙ্গা এক্সপ্রেস/ ১৫৬৫৭
তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস/ ১৩১৪১
হাওড়া – নিউ জলপাইগুড়ি শতাব্দী এক্সপ্রেস/ ১২০৪১
সরাইঘাট এক্সপ্রেস/ ১২৩৪৫
কামরূপ এক্সপ্রেস/ ১৫৯৫৯
উত্তর বঙ্গ এক্সপ্রেস/ ১৩১৪৭
কাঞ্চন-কন্যা এক্সপ্রেস/ ১৩১৪৯
দার্জিলিং মেল ১২৩৪৩
পদাতিক এক্সপ্রেস/ ১২৩৭৭

চেন্নাই থেকেঃ

চেন্নাই-নিউ জলপাইগুড়ি এস.এফ এক্সপ্রেস/ ২২৬১১
চেন্নাই এগমোর-ডিব্রুগড় সাপ্তাহিক এক্সপ্রেস/ ১৫৯২৯
যশবন্তপুর-ডিব্রুগড় এক্সপ্রেস/ ১৫৯০১
ব্যাঙ্গালোর গুয়াহাটি এস.এফ এক্সপ্রেস/ ১২৫০৯
ত্রিভান্দ্রাম সেন্ট্রাল-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস/ ১২৫১৫

সড়কপথ দ্বারাঃ

দার্জিলিং-এ একটি শক্তিশালী সড়ক জালবিন্যাস আছে এবং এর প্রতিবেশী শহরগুলির সাথে নিয়মিত বাস দ্বারা ভালো ভাবে সংযুক্ত, যেমন – শিলিগুড়ি, কার্শিয়াং, গ্যাংটক কালিম্পং।

বিমানপথ দ্বারাঃ

শিলিগুড়ির কাছাকাছি বাগডোগরা হল দার্জিলিং-এর নিকটতম বিমানবন্দর, যা দার্জিলিং থেকে ৬৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এই বিমানবন্দর দিল্লী, কলকাতা ও গুয়াহাটি থেকে নিয়মিত বিমান দ্বারা সংযুক্ত।

দার্জিলিং-এর হোটেলঃ

দার্জিলিং-এ পছন্দসই প্রচুর হোটেল দেখা যায়। শীর্ষ ঋতু গুলিতে হোটেলের মূল্য খুব বেড়ে যাওয়ার দরুন অগ্রিম একটি হোটেল বুক করে নেওয়ার পরামর্শ সর্বত্রই দেওয়া হয়।

দার্জিলিং এর বাজেট হোটেলঃ

অ্যান্ডিস্ গেস্ট হাউস
ডঃ জাকির হোসেন রোড
দার্জিলিং

ডেকেলিং হোটেল
৫১, গান্ধী রোড
দার্জিলিং – ৭৩৪১০১
ফোন নম্বর: ০৯৬ ৭৯ ৭৩৪০৪৮

হোটেল টাওয়্যার ভিউ
টি.ভি টাওয়্যার
ডঃ জাকির হোসেন রোড
দার্জিলিং – ৭৩৪১০

দার্জিলিং-এ মাঝারি হারের হোটেলঃ

হোটেল সেভেন সেভেনটিন
এইচ.ডি.লামা রোড
দার্জিলিং – ৭৩৪১০১

ম্যাইন ওল্ডি বেলভিউ
চৌরাস্তা
দ্য মল্
দার্জিলিং

দার্জিলিং-এর শীর্ষ হোটেলঃ

মেফেয়ার দার্জিলিং
গভর্নর হাউসের বিপরীতে
দার্জিলিং – ৭৩৪১০১ http://www.mayfairhotels.com/mayfair-darjeeling/

উইন্ডামেয়্যার হোটেল
অবজারভেটরি হিল
দার্জিলিং – ৭৩৪১০১
ফোন নম্বর: ০৩৫৪ ২৫৫ ৪০৪১ http://www.windamerehotel.com/

দার্জিলিং-এ কেনাকাটাঃ
দার্জিলিং হলো শৈল শহরের রাণী 6

দার্জিলিং-এ ক্রেতাদের খুশি রাখার জন্য অনেককিছু আছে। নেহরু রোড এবং তারপর চৌরাস্তার মাথা থেকে, প্রচুর দোকান দেখা যায় যেখান থেকে আপনি জিনিসপত্র এবং উপহার উপকরণ ক্রয় করতে পারেন। দার্জিলিং-এ কিছু স্থানীয় জনপ্রিয় হস্তনির্মিত উপকরণ হল খুকরি, যা মুলত একটি সু-সজ্জিত হাতল যুক্ত বাঁকা ছুরি। দার্জিলিং-এ যে কেউ অন্যান্য কিছু ঐতিহ্যবাহী উপকরণ নিতে পারেন যেমন –
তিব্বতীয় মুখোশ, স্থানীয় অলঙ্কার উপকরণ ,পশমী উপকরণ, শাল এবং পশমিনা। তিরুপতি হ্যান্ডলুম এম্পোরিয়াম নির্দিষ্ট মূল্যে শাল ও জ্যাকেট কেনার একটি আদর্শ জায়গা। এই স্থান পরিত্যাগের পূর্বে বিশ্বখ্যাত দার্জিলিং চা-এর কয়েকটি প্যাকেট নিতে ভুলবেন না, যা হাউস অফ টি নামে একটি জনপ্রিয় দোকান থেকে ক্রয় করতে পারেন।

দার্জিলিং-এর রন্ধন প্রণালীঃ
দার্জিলিং এর স্থানীয় মানুষেরা গোমাংস এবং মসুর দিয়ে ভাত খেতে পছন্দ করেন। অন্যান্য জনপ্রিয় স্থানীয় খাবার হল মোমো (মাংস বা সবজি দিয়ে পিঠার মত খাবার), থুপকা (মাংস এবং নুডলস দিয়ে তৈরি একটি ঘন স্যুপ), গানড্রাক (গাঁজানো সরিষা পাতা) এবং চ্যাং (স্থানীযবিয়ার)।

দার্জিলিং-এর রেস্তোরাঁঃ

দার্জিলিং-এ থাকাকালীন, বিভিন্ন সুস্বাদু স্থানীয় খাবার চেখে দেখতে ভুলবেন না, এখানে কয়েকটি রেস্টুরেন্ট আছে যেখানে আপনি কিছু স্থানীয় খাবার ও তার পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় খাবার উপভোগ করতে পারেন।

সোনমস্ কিচেনঃ
তাদের প্রাতরাশ খাদ্য তালিকার জন্য বিখ্যাত, সোনম কিছু সুস্বাদু ফরাসি টোস্ট, প্যানকেক ও স্যান্ডউইচ পরিবেশন করে। এছাড়াও, এখানের সূপ এবং পাস্তাটি খেয়ে দেখতে পারেন।

গ্লেনারিসঃ
এই রেস্তোরাঁ তার মহাদেশীয় খাদ্য ,চীনা খাদ্য, এবং তন্দুরি উপকরণ তৈরি করার জন্যে বিখ্যাত।

পার্ক রেস্তোরাঁঃ
এই রেস্তোরাঁয় আপনি কিছু প্রকৃত থাই খাবার পেতে পারেন। তাদের খাদ্য তালিকার সবচেয়ে বিখ্যাত উপকরণ হল টম খাঁ গাই – এটি নারকেল এবং চিকেন দিয়ে তৈরি একটি সুস্বাদু স্যুপ।

কুঙ্গাসঃ
এটি একটি ছোট পারিবারিক রেস্তোরাঁ, মোমো, নুডলস এবং তাজা ফলের রসের জন্য কুঙ্গাস বিখ্যাত।

হেস্টি টেস্টিঃ
দার্জিলিং-এর এই সাধারণ নিরামিষ রেস্তোরাঁয় আপনি পাবেন এক ধরনের সেরা মশলা ধোসা।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...