বিশ্বের অন্যতম বিচের নগরী-গোয়া

সাগর, বালি, সূর্য ও সমুদ্র তরঙ্গে আছড়ে পড়া জলোচ্ছাস সহৃদয় ভাবনাহীন মানুষের দ্বারা পরিপ্লুত গোয়া একটি আদর্শ সৈকত গন্তব্য

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গোয়া ভ্রমণ ভারতীয় পর্যটন সীমার একটি উচ্চ বিন্দু। চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্য, রূপালি সুবর্ণ সৈকত, সবুজ পাহাড়, মুখে জল আনা সুস্বাদু সামুদ্রিক খাদ্য এবং অন্যান্য দৃশ্যমান এবং অলীক সৌন্দর্যের আশীর্বাদপ্রাপ্ত একটি আকর্ষণীয় স্হান হল গোয়া। গোয়ার একটি ভ্রমণ শরীর তথা আত্মাকে সতেজ করে তোলে।
ভারতের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত, এই ক্ষুদ্র পান্নার দেশ গোয়া পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পার্বত্য পরিসীমার ঢালে অবস্থিত। এই ছোট নবীন রাজ্য বিশ্বের একটা বিশিষ্ট সৈকত গন্তব্য। শত শত এবং হাজার হাজার মানুষ গোয়া ভ্রমণ করে।

১৯৬১ সালের আগে পর্যন্ত এটা পর্তুগিজদের শাসনাধীন ছিল এবং ১৯৮৭ সালে এই রাজ্য গোয়া নামে ভূষিত হয়। গোয়া ভ্রমণের আগে, আপনি ম্যাপস্ অফ ইন্ডিয়া দেখে নিতে পারেন, যেখানে আপনার সুবিধার্থে কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছে –

সাগর, বালি, সূর্য ও সমুদ্র তরঙ্গে আছড়ে পড়া জলোচ্ছাস সহৃদয় ভাবনাহীন মানুষের দ্বারা পরিপ্লুত গোয়া একটি আদর্শ সৈকত গন্তব্য। নারকেল গাছের সারিযুক্ত সমুদ্র সৈকত, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং অক্লান্ত উৎসবের মেজাজ সহ গোয়া ভ্রমণ সারা বিশ্ব জুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

গোয়ার একটা সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। গোয়ার গীর্জা এবং চ্যাপেল, সূর্য- ধৌত সৈকত বা রঙিন বাজার, যেখানেই আপনি যাবেন পর্তুগিজদের প্রভাব অনুভব করবেন। প্রকৃতপক্ষে, গোয়া পূর্ব ও পশ্চিমের একটি চমৎকার সংমিশ্রণকে প্রদর্শন করে।

গোয়া পৌঁছানোর উপায়ঃ

গোয়া ভারতের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যস্থল। এটি এলাকার ভিত্তিতে ভারতের সবচেয়ে ছোট রাজ্য কিন্তু তার সমুদ্র সৈকত, গীর্জা এবং স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। গোয়া প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক ও সেই সাথে অন্তর্দেশীয় পর্যটকদের দ্বারা পরিদর্শিত হয়। গোয়া দেশের যে কোনো অংশ থেকে সহজে প্রবেশযোগ্য এবং বিমান, রেল এবং সড়কপথ যোগাযোগ দ্বারা সুসংযুক্ত।

বিমান মাধ্যমেঃ

গোয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ডাবোলিম বিমানবন্দর হিসাবে পরিচিত যা সমগ্র গোয়া রাজ্যকে পরিষেবা প্রদান করে। এই বিমানবন্দরটি ডাবোলিমে অবস্থিত এবং রাজধানী শহর পাঞ্জিম থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই বিমানবন্দর ভারতের প্রধান শহর থেকে অন্তর্দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিমান সরবরাহ করে। অগ্রিম ভাড়া করা ট্যাক্সি এবং বাস এই বিমান বন্দর থেকে সহজেই উপলব্ধ।

রেলপথ মাধ্যমেঃ

গোয়া রাজ্যের দুটি রেল লাইন আছে, একটি দক্ষিণ পশ্চিম রেলপথ দ্বারা পরিচালিত এবং অন্যটি কোঙ্কন রেলপথ দ্বারা পরিচালিত। প্রধান রেল স্টেশনটি হল মারগাঁও রেলস্টেশন যা মারগাঁওয়ে অবস্থিত। এই রাজ্যের আরও অন্যান্য রেল স্টেশন আছে, যেমন পেরনেম, থিভিম, কারমালি এবং কাণকোণ যা বহু ট্রেন দ্বারা সুসংযুক্ত।

সড়ক মাধ্যমেঃ

গোয়া ৬৬, ৪-এ, ৩৬৬, ৫৬৬ এবং ৭৬৮-নং জাতীয় সড়ক দ্বারা সুসংযুক্ত। গোয়ায় মোট ২২৪ কিমি জাতীয় মহাসড়ক, ২৩২ কিলোমিটার রাষ্ট্রীয় মহাসড়ক এবং ৮১৫ কিলোমিটার জেলা মহাসড়ক রয়েছে।

ট্যারিফ বিধিঃ

  • নূন্যতম ভাড়া প্রতিদিন ১০০ কিলোমিটার-এর জন্য।
  • অন্যান্য রাজ্যের থেকে আসার ট্যাক্স, টোল ট্যাক্স, পার্কিং ফি, ফেরি চার্জ, ইত্যাদি। জি.টি.ডি.সি. কর্তৃক প্রদেয় হলে অতিরিক্ত চার্জ করা হবে।
  • রাত্রে থাকা – রাত ৮-টা থেকে সকাল ৮টা।
  • যদি গাড়ি ভাড়া করা হয় এবং ৮-টার আগে থেকে রাত ৮-টার পর রাখা হয় তাহলে রাত্রি স্থগিত চার্জ প্রযোজ্য হবে।।
  • চার্জ গ্যারেজ থেকে গ্যারেজ করা হয়।
  • ৮ ঘণ্টার পেরিয়ে গেলে ডিটেনশন( আটকে রাখার) চার্জ প্রযোজ্য হয়।

লঞ্চ এবং ফ্ল্যাট-বটম ফেরিঃ

গোয়া ভ্রমণের জন্য জলপথ একটি অনন্য উপায়। গোয়ায় নৌকা এবং ফেরির বিভিন্ন পরিষেবা রয়েছে। গোয়ায় অনেক খাঁড়ি এবং নদী থাকায় নৌপরিবহন এখানে খুব সস্তা এবং সহজলভ্য পরিবহন মাধ্যম। কিছু জায়গায় জল পরিবহন গ্রহণ করা অপরিহার্য এবং সেই সময় পর্যটকদের নৌকা বা ফেরি ভাড়া করা ছাড়া আর অন্য কোন উপায় নেই।

লঞ্চ পরিসেবা শুধুমাত্র যাত্রীদের জন্য উপলব্ধ এবং পরিষ্কার আবহাওয়ার সময় (সেপ্টেম্বর থেকে মে) নিয়মিত সময় অন্তর ডোনা পাউলা এবং মরমুগাঁও হারবারের মধ্যে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে নদীপথের মাধ্যমে যাত্রী ও যানবাহন উভয় পারাপারকারী ফ্ল্যাট-বটম ফেরিগুলি নিম্নলিখিত স্থানগুলির মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হয় –

  • আলদোনা – করজুয়েম।
  • আমোনা – খান্দোলা।
  • আরোন্ডা – কিরনপানি।
  • আসোলনা – ক্যাভেলোসিম।
  • কারোনা – কাল্ভিম।
  • কোর্তালিম – মারকেম।
  • কোর্তালিম- আগাসাইম।
  • দূরভাত – রাসোই।
  • কেরি – তিরাকোল।
  • নারভা – দিভর।
  • ওল্ড গোয়া – দিবার / পাইদাদে।
  • রাইবন্দর – দিবার।
  • পানাজি – বেতিম।
  • পোমবুরপা – চোরাও।
  • রাইয়া – শিরোদা।
  • রাইবন্দর – চোরাও।
গোয়ার দর্শনীয় স্থানঃ

 


কান্দোলিম সৈকতঃ

গোয়া রাজ্যের উত্তর পানাজি থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, কান্দোলিম সৈকত আরব সাগর বরাবর সৈকত তটরেখার একটি দীর্ঘ প্রসারণ যা আগুদা দুর্গ থেকে শুরু হয়ে চাপোরা সৈকতে গিয়ে শেষ হয়। এছাড়াও এটি আব্বা ফারিয়ার জন্মস্থান হিসাবে বিখ্যাত, যিনি গোয়ার একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং সন্মোহনবিদ্যার জনক ছিলেন।


মিরামার সৈকতঃ

মিরামার সৈকত মান্দোভী নদী এবং আরব সাগরের সঙ্গম থেকে ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটা ডোনা পাউলার দিকে গোয়ার রাজধানী শহর পাঞ্জিম থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গোয়ার মিরামার সৈকত এছাড়াও ‘গাসপার ডাইয়াস’ নামে পরিচিত।

গোয়ার মিরামার সৈকত উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে শুরু হয় এবং তারপর এমারেল্ড কোস্ট পার্কওয়েতে শেষ হয়। নারকেল গাছের সারি সহ এটি একটি সুবর্ণ সৈকত। এই সৈকতের কোমল বালি সান্ধ্য পদচারনার একটি আদর্শ স্থান। তাছাড়া, পর্তুগিজ শব্দ ‘মিরামার’ কথার অর্থ হল ‘সমুদ্র পরিদর্শন’। গোয়ার ‘মিরামার সৈকত’ থেকে পর্যটকরা আরব সাগরের একটি চমৎকার ঝলক দেখতে পারেন।


মাজোরদা সৈকতঃ

মাজোরদা সৈকত বগমোলার দক্ষিণ অংশে অবস্থিত। এটি গোয়ার এক অপূর্ব সমুদ্র সৈকত যা ডাবোলিম বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গোয়ার মাজোরদা সৈকত বাস, অটো রিকশা ও ট্যাক্সি সহ একটি চমৎকার সড়কপথ দ্বারা মারগাঁওয়ের সাথে সুসংযুক্ত। এটি গোয়ার এক অন্যতম জনপ্রিয় সৈকত। ভারতীয় পুরাণের উপর গোয়ার মাজোরদা সৈকতের একটি জোরালো প্রভাব আছে। পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে জানা যায় যে একদা ভগবান রামকে শৈশবকালে অপহরণ করে এই মাজোরদা সৈকতে আনা হয়েছিল। এমনকি এটাও বলা হয় যে ভগবান রাম তাঁর স্ত্রী সীতার সন্ধানে এই সৈকতে এসেছিলেন। তিনি কাবও-দি-রামেও এসেছিলেন বলে মানা হয় যা এই সৈকতের দক্ষিণে অবস্থিত।


মোবর সৈকতঃ

রোমাঞ্চকর কার্যকলাপের জন্য মোবর সৈকত পর্যটকদের কাছে একটি আদর্শ স্থান। এটা গোয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত যা পর্যটকদের রোমাঞ্চকর ক্রীড়াকলাপের ইচ্ছাপূরণ করতে সক্ষম করে যেমন – ওয়াটার স্কিইং, ওয়াটার সার্ফিং, জেট স্কি, ব্যানানা এবং বাম্প রাইড এবং প্যারাসেলিং। এই সৈকত সারা বছর ধরেই পর্যটক দ্বারা পরিদর্শিত হয়, তবে গোয়ার মোবর সৈকত পরিদর্শনের সেরা সময় হল সেপ্টেম্বর এবং মার্চ মাসের মাঝামাঝি।

গোয়ার মোবর সৈকত একটি অতি জনপ্রিয় পর্যটক গন্তব্য। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক জলক্রীড়ার ইচ্ছাপূরণ করতে এই সৈকত ভ্রমণে আসে। বস্তুত, ক্যাভেলোসিম -মোবর জলক্রীড়ার জন্য বিখ্যাত।


কোলভা সৈকতঃ

কোলভা সৈকত পশ্চিমে মারগাঁও থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এক প্রাচীনতম, বৃহত্তম এবং দক্ষিণ গোয়ায় সবচেয়ে দর্শনীয় সমুদ্র সৈকত। এই সৈকত প্রায় ২৫ কিমি সূক্ষ্ম চূর্ণ সাদা বালি নিয়ে গঠিত এবং উপকূল বরাবর নারকেল গাছ দ্বারা বেষ্টিত যা উত্তরে বগমোলা থেকে দক্ষিণে কাবো-দি-রাম ও দক্ষিণ গোয়ায় উপকূলরেখা বরাবর প্রসারিত।

ঔপনিবেশিক রাজত্বের সময় এটা মারগাঁওয়ের উচ্চ সমাজের ব্যাক্তিদের বিশ্রামের এলাকা হিসাবে ব্যবহৃত হত যারা ‘মুনদাঙ্কা’ (ছুটি কাটানো)-র জন্য কোলভা পরিদর্শন করতে আসতেন। এখনও এই গ্রামের সুন্দর ঘর ও ভিলা গুলি সেই সময়কার বিলাসবহুল জীবনধারার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।


অঞ্জুনা সৈকতঃ

পানাজি থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে বারদেজ তালুকায় অবস্থিত, অঞ্জুনা সৈকত গোয়ার পশ্চিম উপকূল এবং আরব সাগর সহ ৩০ কিলোমিটার সম্প্রসারিত সৈকত তটরেখার অংশ।

অঞ্জুনা গ্রাম, একটি পাঁচ বর্গ মাইল এলাকা সহ আরব সাগর এবং পার্বত্যময় সৈকতের মধ্যে অবস্থিত। এই সৈকত তার কোমল সাদা বালি এবং নারকেল গাছের সারি সহ তার অত্যাশ্চর্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত।


ভারকা সৈকতঃ

ভারকা সৈকত গোয়ায় এক অতি জনপ্রিয় পর্যটক গন্তব্য। এটি গোয়ার এক অত্যন্ত চমৎকার ও সুন্দর সমুদ্র সৈকত এবং যা বেনালিম থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই সৈকত শহরের মৎস্যজীবীদের কাঠের নৌকার জন্য সুপরিচিত। গোয়ার ভারকা সৈকত তার কোমল সাদা বালি এবং তার পরিচ্ছন্নতার জন্য বিখ্যাত। এটা গোয়ায় সবচেয়ে পরিষ্কার সমুদ্র সৈকত যা পর্যটকদের কিছু নির্জন সময় কাটানোর সুযোগ দেয়।


সিঙ্কেরিম সৈকতঃ

গোয়ার সিঙ্কেরিম সৈকত পানাজি থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এটি অসম্ভব সুন্দর ও গোয়ার অন্যান্য সৈকতের চেয়ে নির্জন ও শান্ত। এখানকার দীর্ঘ বর্ধিত বালুময় ভুখন্ড পদচারনার জন্য এক আদর্শ। এখানকার কোমল বালি এবং শীতল জল আপনার পা কে একটি স্নেহপূর্ণ অনুভূতি প্রদান করবে। এই সৈকত শান্ত ও আকর্ষণীয় হওয়ায় এটি সাঁতারু দের জন্য এক আদর্শ স্থান। এই সৈকতের পরিছন্নতা ও নির্মলতার জন্য পর্যটকরা একে বেছে নেন। সুদৃশ্য সিঙ্কেরিম সৈকত গোয়ার এক প্রাচীনতম সংরক্ষিত সমুদ্র সৈকত। বিখ্যাত আগুদা দুর্গ এখানেই অবস্থিত। আগুদা দুর্গ ১৭ শতকের গোড়ার দিকে পর্তুগিজদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল বিদেশি আক্রমণের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা এবং মান্দোভি নদীর মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য।


ইমাকুলেট কনসেপশন গির্জা ও রেইস মাগোস দুর্গঃ

আওয়ার লেডি অফ দি ইমাকুলেট কনসেপশন গির্জা ১৫৪১ সালে নির্মিত গোয়ার প্রথম গির্জা। এটা বলা হয় যে কিছু সল্প সংখ্যক মানুষ মিলে ও তাদের সম্পদ দিয়ে এই গির্জাটিকে ১৬১৯ সালে পুনরায় নির্মিত করেন যা সেই সময়ের এক আকর্ষণীয় ধর্মীয় গন্তব্য ছিল।


মরজিম সৈকতঃ

টার্টল বিচ নামে সুপরিচিত, মরজিম সৈকত উত্তর গোয়ার পেরনেমে অবস্থিত। এই সৈকত অত্যাধুনিক শৈলী, ফুল, সবুজ পরিবেশ দ্বারা প্রতিপালিত। মরজিম সৈকতের বিশেষত্ব হল এটি অলিভ রিডলে কচ্ছপের সংরক্ষণ ও প্রতিপালন করে যা হল একটি লুপ্তপ্রায় প্রজাতি। এই লুপ্তপ্রায় প্রজাতির কচ্ছপ এবং কাঁকড়ার একটি দর্শন আপনার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে অবিস্মরণীয় করে তুলবে। এই সৈকত অগভীর হওয়ার কারণে ঘুড়ি ওড়ানো এই সমুদ্র সৈকতের একটি জনপ্রিয় কার্যকলাপ।


বেতালবাতিম সৈকতঃ

আমরা প্রত্যেকেই একটি সুন্দর সূর্যাস্ত দেখে অভিভূত হই কিন্তু বেতালবাতিম সৈকতের সূর্যাস্তের সৌন্দর্য কল্পনা বাইরে। মাজোরদা সৈকতের দক্ষিণে অবস্থিত বেতালবাতিম সৈকত গোয়ার এক অন্যতম সুন্দর সৈকত। এই সৈকতের আকর্ষণীয় সূর্যাস্তের কারণে এটি গোয়ার ‘সূর্যাস্ত সৈকত’ হিসাবে সুপরিচিত।এটা অন্যান্য সৈকতের তুলনায় শুধু শান্তিপূর্ণই নয় বরং তার সাথে এটি অত্যন্ত পরিস্কার ও পরিছন্ন। এই সৈকতের শান্ত এবং নির্জন স্থান একে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে।


বোন্ডলা অভয়ারণ্যঃ

এই ঋতুতে গোয়া যাওয়ার কথা ভাবছেন? তাহলে আপনার প্রিয় পশুদের নিকট থেকে দেখার জন্য বোন্ডলা অভয়ারণ্যে আসতে একদম ভুলবেননা। গোয়ার ক্ষুদ্রতম কিন্তু অত্যন্ত জনপ্রিয় অভয়ারণ্য,শহরের উত্তর-পূর্ব অংশের পোন্ডা তালুকায় অবস্থিত। মাত্র ৮ কিমি অত্যন্ত ছোটো এলাকার অন্তর্গত, বোন্ডলা অভয়ারণ্য আর্দ্র পর্ণমোচী অরণ্য এবং চিরহরিৎ গাছপালা দ্বারা আবৃত।এই ছোট্ট অভয়ারণ্যের প্রাঙ্গনের মধ্যে রয়েছে -একটি ক্ষুদ্র চিড়িয়াখানা, গোলাপ বাগান, হরিণ সাফারি পার্ক, বোটানিকাল গার্ডেন, প্রকৃতি শিক্ষা কেন্দ্র এবং পরিবেশ বান্ধব-পর্যটন কুটির।


আরভালেম গুহাঃ

অপূর্ব সৈকত এবং জলপ্রপাত ছাড়াও গোয়া একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের গন্তব্যস্থল। গোয়া একটি প্রাচীন রাজ্য হওয়ায় এখানে স্থাপত্য পাওয়া গেছে। গোয়ায় উপস্থিত ঐতিহাসিক নিদর্শনের একটি সুন্দর উদাহরণ হল আরভালেম গুহা বা “পান্ডব গুহা”। উত্তর গোয়ার বিচোলিম শহরে অবস্থিত এটি একটি শিলা কাটা প্রাচীন গুহা যা আমাদের পৌরাণিক কাহিনী সম্পর্কে জানার সুযোগ দেয়। এই গুহার উৎপত্তি হয় ষষ্ট শতকে।


আরভালেম জলপ্রপাতঃ

পর্বতের একটি পাথুরে ভূখণ্ড থেকে সুন্দরভাবে ঝরে পরা এক চমৎকার জলরাশি! এটি গোয়ার এক আশ্চর্যকর জলপ্রপাতের ছবি। হারভালেম জলপ্রপাত নামে সুপরিচিত, এটা উত্তর গোয়ার বিচোলিম থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে আরভালেমে অবস্থিত। ৭০ মিটার উচ্চতা থেকে জলরাশির নিক্ষেপণ সত্যিই এক বিস্ময়কর দৃশ্য।


পালোলেম সৈকতঃ

পালোলেম সৈকত, দক্ষিণ গোয়ার কাণকোণ জেলার চৌদি থেকে ২ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এবং যা এছাড়াও ‘প্যারাডাইস বিচ’ নামে সুপরিচিত। এটি গোয়ার এক অন্যতম কুমারী সৈকত যা, কয়েক বছর ধরে পর্যটকদের চোখের নিভৃতে ছিল কিন্তু পর্যটকদের পদার্পণের পর থেকে এখন এটি ক্রমান্বয়ে বানিজ্যিক এবং উন্নত হয়ে উঠছে। কাণকোণের দক্ষিণ তালুকায় অবস্থিত পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পশ্চাৎপটে এটি একটি উজ্জ্বল সূর্যাস্ত এবং চমৎকার সূর্যোদয়ের স্থান।আকর্ষণীয় পালোলেম সৈকত আমাদের মধ্যে একটিশান্তির অনুভূতি প্রদান করে যা গোয়ার এই নির্মল সমুদ্র সৈকতের এক অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।


গোয়ার গির্জাঃ

গোয়ার গির্জা গুলি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই রাজ্যে বেশ কিছু গির্জা আছে যা গোয়ার পর্তুগিজ শাসনের দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। ধর্মাচরণের একটি স্থান ছাড়াও এই গির্জা পুরাতন দিনের স্থাপত্যের এক সুন্দর নিদর্শন। গোয়ার কিছু জনপ্রিয় গির্জা হল – সেন্ট ক্যাথিড্রাল চার্চ, সেন্ট ফ্রান্সিস অফ আসিসি, বাসিলিকা অফ বম জিসাস, সেন্ট অগাস্টাইন চার্চ এবং অন্যান্য। প্রতিবছর এই গির্জা বহু পর্যটক দ্বারা পরিদর্শিত হয়।


মহালক্ষ্মী মন্দিরঃ

গোয়ার বান্দোরা গ্রামে অবস্থিত মহা লক্ষ্মী মন্দির, দেবী মহালক্ষ্মীকে (ক্ষমতা ও শক্তির দেবী) নিবেদিত। মন্দিরে একটি সুন্দর চক নির্মিত আছে যা এখানকার প্রধান আকর্ষণ। ১৪১৩ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম দিকে নির্মিত এই মন্দির সমস্ত দেশ জুড়ে পর্যটকদের দ্বারা পরিদর্শিত হয়,বিশেষ করে নবরাত্রির সময়, যা এখানে মহান জাঁকজমক এবং আনন্দের সাথে পালিত হয়।


মঙ্গেশি মন্দিরঃ

গোয়ার মঙ্গেশি মন্দির আধুনিক এবং ঐতিহ্যবাহী হিন্দু স্থাপত্যের একটি সংমিশ্রণ। এই মন্দিরটি শিবের অবতার, প্রভু মঙ্গুয়েশিকে উৎসর্গীকৃত। কিংবদন্তীরা বলেছেন যে প্রভু ব্রহ্মা নিজে এই শিব লিঙ্গটি পবিত্রীকৃত করেন, যা এখানে পূজিত হয়। এই অধিষ্ঠাত্রী দেবতার মূর্তিটি প্রতি সপ্তাহের সোমবার একটি শোভাযাত্রার দ্বারা বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।


গোয়ায় কেনাকাটাঃ

গোয়ায় কেনাকাটা একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা। গোয়ার আদর্শ সৈকত গন্তব্যগুলিতে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী চমৎকার হস্তশিল্প উপলব্ধ। গোয়ার হস্তশিল্প সত্যিই এখানকার মানুষদের কারিগরি দক্ষতা ও সৌন্দর্যবোধকে প্রতিফলিত করে। এখানে আপনি পেতে পারেন –

  • ঝিনুকের খোলস দ্বারা তৈরি পণ্য।
  • বাঁশের কাজ।
  • পিতলের পণ্যদ্রব্য।
  • দুর্লভ এবং পুরাতন মুদ্রা।
  • পাথর ও প্রবালের তৈরি উপহার সামগ্রী।
  • পোড়ামাটি।
  • কাগজ দ্বারা তৈরি হস্তনির্মিত জিনিস।
  • খোদাইকৃত আসবাবপত্র।
  • সামুদ্রিক পরিধান এবং হ্যামোক( বিছানার সদৃশ দোলনা বিশেষ)।

এগুলি ছাড়াও কেনা কাটার সময় আপনি এক বা একাধিক কাজু বাদামের প্যাকেট অথবা পোর্ট ওয়াইন (মাদক দ্রব্য) কিনতে পারেন। গোয়ার সবথেকে উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ হল “ফেনী” – কাজুবাদাম দ্বারা তৈরি এক মাদক দ্রব্য, সাম্প্রতিক কালে যেটি গোয়ায় খুবই বিখ্যাত। বহ ভারতীয় ডিজাইনাররা গোয়ায় তাদের নিজস্ব বুটিক খুলেছেন যা আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এখানকার চমৎকার নকশা আপনাকে পাগল করে দেবে। গোয়ায় কিছু পুরাতন আর্ট গ্যালারী আছে যেখানে শিল্প-প্রেমীরা ভারতীয় চিত্রকলা এবং প্রাচীন সংগ্রহের সন্ধানে যায়। আপনি গোয়ার যেকোন স্থানে কেনাকাটা করতে পারেন। সমগ্র রাজ্যে প্রচুর সরকারি এম্পোরিয়া এবং ব্যাক্তিগত দোকান আছে। মাপুসার ফ্রাইডে মার্কেট এবং অঞ্জুনার ওয়েডনেসডে মার্কেট এখন অত্যন্ত বিখ্যাত। রঙিন সৈকতের পার্শ্ববর্তী স্টল গুলি গোয়ায় কেনাকাটার জন্য বিশেষ করে শামুখ এবং পাথরের কারুশিল্প, শুকনো মাছ এবং মশলা কেনাকাটার জন্য এখানকার মানুষদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...