The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

গবেষণা বলছে আগামী শতাব্দিতে আকাশের রং বদলে যাবে!

সমুদ্র, মহাসাগরের যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবদের বলা হয়, ‘ফাইটোপ্লাঙ্কটন’, এতে করে দ্রুত হারে জলবায়ু পরিবর্তনের বড় প্রভাব পড়েছে তাদের উপর

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ক্রমেই রং বদলাচ্ছে পৃথিবীর আকাশ। রং বদলাচ্ছে সাগর এবং মহাসাগরও। আগামী শতাব্দিতে পৃথিবীর আকাশ আর নীল থাকবে না বলে মন্তব্য করা হয়েছে। গবেষণা থেকেই এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণা বলছে আগামী শতাব্দিতে আকাশের রং বদলে যাবে! 1

ক্রমেই রং বদলাচ্ছে পৃথিবীর আকাশ। রং বদলাচ্ছে সাগর এবং মহাসাগরও। আগামী শতাব্দিতে পৃথিবীর আকাশ আর নীল থাকবে না বলে মন্তব্য করা হয়েছে। গবেষণা থেকেই এমন তথ্য উঠে এসেছে।

শুধু আকাশের রং নয়, বদলে যাবে সাগর, মহাসাগরের রংও। মহাকাশ হতে আমাদের প্রিয় গ্রহটিকে আর নীলাভ দেখাবে না বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এই দু:সংবাদটি দিয়েছে ম্যাসাটুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (এমআইটি) একটি গবেষণা পত্র। গবেষণা পত্রে জানানো হয় যে, উষ্ণায়নের জন্য খুব দ্রুত হারে বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর জলবায়ু। যে কারণে দ্রুত বদলে যাচ্ছে সাগর, মহাসাগরের উপরের স্তরের রংও। তারই জন্য পৃথিবীর আকাশও তার গৌরব হারাবে আগামী শতাব্দিতে। হারিয়ে যাবে আকাশের সুন্দর নীল রং। গবেষণাপত্রটি বেরিয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার-কমিউনিকেশন্‌স’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যাতে।

ওই গবেষণা বলেছে, সমুদ্র, মহাসাগরের যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবদের বলা হয়, ‘ফাইটোপ্লাঙ্কটন’, এতে করে দ্রুত হারে জলবায়ু পরিবর্তনের বড় প্রভাব পড়েছে তাদের উপর। এরই প্রভাব পড়ছে সাগর, মহাসাগরের রং পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও। কারণ এই ফাইটোপ্লাঙ্কটনদের বিশেষ কয়েকটি প্রজাতি সূর্যালোকের বর্ণালীর একটি বিশেষ ধরনের আলোকে শুষে নিতে পারে। অন্য প্রজাতি সেটি পারে না।

মূল গবেষক এমআইটি-র প্রিন্সিপাল রিসার্চ সায়েন্টিস্ট স্তেফানি দাতকিউয়েউইত্‌জ বলেছেন যে, ‘আগামী শতাব্দিতে পা দেওয়ার সময়েই বোঝা যাবে যে, দেখা যাবে কতোটা বদলে গেছে পৃথিবীর সব ক’টি সাগর কিংবা মহাসাগরের রং। যার অর্থ হলো, ৮০ বছরের মধ্যেই পৃথিবীর ৫০ শতাংশ সাগর, মহাসাগরের রং একেবারে বদলে যাবে।’

এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, নীল রং ছাড়া সূর্যালোকের বর্ণালীর সব রংকেই শুষে নিতে পারে পানির অণু। সাগর, মহাসাগরে এখন যে প্রজাতির ফাইটোপ্লাঙ্কটনদের আধিপত্য রয়েছে, তাদের শরীরে থাকা পিগমেন্টগুলো বর্ণালীর সবুজ রংটিকে কম শুষে তাকে বেশি করে প্রতিফলিত করে থাকে।

গবেষক দাতকিউয়েউইত্‌জ বলেছেন, ‘সাবট্রপিক এলাকায় যেখানে সাগর বা মহাসাগরের পানি নীল, সেখানে ফাইটোপ্লাঙ্কটনদের প্রজাতি বদলে যাওয়ায় সেই রং অনেকটা কালচে হয়ে যাবে। যে কারণে সেখানকার মহাসাগরে রং হয়ে উঠবে নীনের পরিবর্তে কালচে নীল। দুই মেরুর কাছে যেখানে সাগর ও মহাসাগরের রং সবুজ, সেখানে সেটা আরও গাঢ় হয়ে উঠবে।’

Loading...