The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মহাবিশ্বের বয়স আসলে কতো?

নতুন ওই গবেষণাটি করেছেন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যাডাম রিয়েস

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাবিশ্বের বয়স আসলে কতো? কতো দ্রুতই-বা এটি প্রসারিত হচ্ছে? এসবই প্রশ্ন অনেক পদার্থবিজ্ঞানীর কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

মহাবিশ্বের বয়স আসলে কতো? 1

বিশেষ করে কসমোলজি বা মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ নিয়ে অধ্যয়নে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেন অনেকেই।

এতোদিন বিজ্ঞানীদের মধ্য মহাবিশ্বের বয়স নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সময়ও নির্ধারণ করা ছিল। তবে নতুন এক গবেষণা আগের ওইসব সকল ধারণার ভিত্তিকে কাঁপিয়ে দিয়েছে।

আগে ধারণা ছিল, এই মহাবিশ্ব প্রায় ১৩ দশমিক ৬ হতে ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছরের পুরোনো। তবে নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে যে, এই মহাবিশ্ব অতোটা বয়ষ্ক নয়। আগের ধারণা হতে এটা কমপক্ষে এক বিলিয়ন বছরের ছোট। তাছাড়া আগের ধারণার থেকেও দ্রুতগতিতে প্রসারিত হচ্ছে।

নতুন ওই গবেষণাটি করেছেন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যাডাম রিয়েস। তিনি ২০১১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। বার্তা সংস্থা এএফপি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নালের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রিয়েস দুই বছর ধরে এই বিষয়ে গবেষণা করে ওই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

রিয়েস তাঁর গবেষণার নমুনা হিসেবে ৭০টি সাফিয়েড নক্ষত্রও পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর তিনি সাফিয়েড নক্ষত্রগুলোর দূরত্ব এবং কম্পনের হার গণনা করেন। তাঁর ওই হিসাব পরে একটি সুপার নোভার সঙ্গে তুলনা করা হয়। নাসার হাবল টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই হিসাব করতে দুই বছর ধরে কাজ করেছেন অ্যাডাম রিয়েস। তারপর তিনি কম্পনের হার নির্ধারণ করেছেন ৭৪।

কম্পনের হার ৭৪–এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, এই মহাবিশ্বের বয়স ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন এবং ১৩ বিলিয়নের মাঝামাঝি। সে কারণে এটি আগের হিসাবকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তাঁর গবেষণার পর বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের কাছে এই বিষয়টি এতোটাই বিভ্রান্তিকর ঠেকছে যে এই সমস্যা সমাধানে পদার্থবিজ্ঞানের নতুন তত্ত্বের কথা ভাবছেন।

অ্যাডাম রিয়েস বলেছেন, বিষয়টা এখন এমন এক জায়গায় ঠেকেছে যে নতুন কোনো ধারণা ছাড়া এটি ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

নাসার জ্যোর্তিপদার্থবিজ্ঞানী জন মাদার ওই গবেষণার ফলাফলের বিষয়ে বলেন যে, এই ঘটনা বিজ্ঞানীদের সামনে দুটো বিষয় তুলে ধরেছে। প্রথমটি হলো, তাঁরা যে ভুলগুলো করছেন, তা এখনও ধরতে পারেননি। দ্বিতীয়টি হলো, প্রকৃতি এমনই রহস্যময় যেটি এখনও ভেদ করা সম্ভবই হয়নি।

ঘটনা যা–ই হোক না কেনো, বিজ্ঞানী অ্যাডাম রিয়েস অবশ্য হালকা রসিকতা করতেও ছাড়েননি। তিনি বলেছেন যে, ‘এটি বেশ ভালো সংবাদ। সবাইকে তো দেখতে বেশ কম বয়সীই লাগছে!’

Loading...