The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

পঞ্চাশ পেরোনোর আগেই দৃষ্টি হারান এক গ্রামের প্রায় সব পুরুষ!

এই ‘প্যারান’ গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই হলো ‘রেটিনাইটিস পিগমেনটোসা’য় আক্রান্ত

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সত্যিই শুনতে গেলে বিষয়টি মনে হবে অদ্ভুত। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে এমন ঘটনা। পঞ্চাশ পেরোনোর আগেই দৃষ্টি হারিয়ে ফেলছেন এক গ্রামের প্রায় সব পুরুষ!

পঞ্চাশ পেরোনোর আগেই দৃষ্টি হারান এক গ্রামের প্রায় সব পুরুষ! 1

গ্রামটি দেখতে একেবারে খারাপ না। সবুজ গাছপালায় ঘেরা ছোট্ট একটি পাহাড়ি গ্রাম। এই গ্রামে বসবাস করেন সর্বসাকুল্যে সাড়ে তিনশো জন মানুষ। কিন্তু এই গ্রামের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষই অন্ধত্বের শিকার! আরও অনেকেই ক্রমশ তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলছেন। এটি আর কোথাও নয় পেরুর ঘটনা। দেশটির ‘প্যারান’ নামে এই গ্রামটি তাই ‘অন্ধদের গ্রাম’ বা ‘দৃষ্টিহীনদের গ্রাম’ নামেই অধিক পরিচিত।

প্রায় ৩ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই চোখের একটি জিনগত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। চোখের এই রোগটির নাম হলো ‘রেটিনাইটিস পিগমেনটোসা’। এই বিরল রোগটির নাম আমাদের তেমনভাবে জানা না থাকলেও ‘রাতকানা’ রোগের কথা আমরা অনেকেই জানি। চক্ষু চিকিত্সকদের মতে, ‘রাতকানা’ রোগের জন্য প্রধানত দায়ি হলো এই ‘রেটিনাইটিস পিগমেনটোসা’। এই রোগে চোখের ‘টানেল ভিশন’ নষ্ট হয়ে যায়। চোখের ভিতরে রেটিনা নামে যে গুরুত্বপূর্ণ পাতলা মেমব্রেন থাকে, তার প্রধান দুটি অংশই হলো রড ও কোণ। এই রড ও কোণ ‘ফটো রিসেপ্টর’এর কাজ করে। এই রোগের কারণে রেটিনার রড কোষ ধীরে ধীরে তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে থাকে।

এই ‘প্যারান’ গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই হলো ‘রেটিনাইটিস পিগমেনটোসা’য় আক্রান্ত। এই রোগের কারণে এই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে কারও দেখা যায় শৈশব থেকেই দৃষ্টিশক্তি ক্ষীন, আবার কারও বয়স পঞ্চাশ পেরুতে না পেরুতেই চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসে।

জানা গেছে, একটা সময় এই অঞ্চলে সোনা, রুপর খোঁজে হাজির হয় একটি খনন সংস্থা। এই খনন সংস্থার দৌলতেই এই গ্রামের বাসিন্দারা প্রথম চিকিত্সার সুযোগ পেয়েছেন। সে সময়ই এই গ্রামে আসা একদল চিকিত্সক পরীক্ষা করে জানিয়ে দেন যে, চোখের এই রোগ আসলে জন্মগতভাবেই হয়ে থাকে। এক্স ক্রোমোজোমের সমস্যা থেকেই এই রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে।

মহিলাদের চেয়ে ‘রেটিনাইটিস পিগমেনটোসা’ রোগটিতে পুরুষরাই বেশি আক্রান্ত হন। পর পর বেশ কয়েকটি ঘটনায় দেখা যায় যে, এই গ্রামে পুত্র সন্তান জন্মালে তার অন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই বেশি থাকে। সে কারণে এই গ্রামের বাসিন্দারা অন্য কোনও এলাকার মানুষের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কেও জড়ান না। সে কারণে সভ্যতার আলো পৌঁছালেও, পেরুর এই গ্রামটি আজও দেশের অন্যান্য জনপদ হতে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।

Loading...