মিশরে সঙ্কট ঘনিভূত ॥ অর্ন্তবর্তী সরকারের ডিক্রি জারিকে মুরসি সমর্থকদের প্রত্যাখান

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ মিশরে সঙ্কট ক্রমেই ঘনিভূত হচ্ছে। অর্ন্তবর্তী সরকারের ডিক্রি জারিকে মুরসি সমর্থকরা প্রত্যাখান করেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও এই সংকটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

Crisis Egypt

অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে মিশর প্রকৃতপক্ষেই গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্‌লাদিমির পুতিনের পর এবার এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মিশরের আল আজহার ইউনিভার্সিটির প্রধান মুফতি আহমেদ আল তায়েব। তিনিও আশঙ্কা করছেন গৃহযুদ্ধে রূপ নিতে পারে মিশর পরিস্থিতি। ৮ জুলাই সেনাদের গুলিতে কমপক্ষে ৫১ জন নিহত হওয়ার পর উত্তাল হয়ে পড়েছে দেশটি। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ প্রকট।

এ অবস্থায় অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট আদলি মানসুর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তিনি নির্বাচন নিয়ে একটি ডিক্রি জারি করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, মুসলিম ব্রাদারহুডের খসড়া সংবিধান, যা স্থগিত করা হয়েছে তা সংশোধন করতে ১৫ দিন সময় দিয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হবে। এরপর সংশোধিত সংবিধান চূড়ান্ত করা হবে। এর চার মাসের মধ্যে তার ওপর গণভোট হবে। পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে আগামী বছরের শুরুতে। নতুন পার্লামেন্ট আহ্‌বান করার পরই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হবে। কিন্তু তার দেয়া এই ডিক্রি প্রত্যাখ্যান করেছে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুড। তারা আদলি মানসুরকে নেতা মানতেই নারাজ। তাদের কথা, আদলি মানসুরকে জনগণ ক্ষমতায় বসায় নি। তাই তার কোন ডিক্রি বা কোন নির্দেশ দেয়ার ক্ষমতা নেই। তারা মুরসির ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে জীবন উৎসর্গ করতে রাজি।

মিশর পরিস্থিতি এ অবস্থায় কোন দিকে মোড় নেয় তা বলা মুশকিল। তবে ৮ জুলাইয়ের সহিংসতার যে ছবি বিলম্বে পাওয়া গেছে তা ভয়াবহ। তাতে দেখা গেছে, নিহতদের রক্তে ভেসে গেছে মিশরের রাজপথ। লাইন দিয়ে শুইয়ে রাখা হয়েছে লাশ। প্রতিটি লাশের পরনের পোশাক রক্তে সয়লাব। তার মাঝে বিলাপ করছেন স্বজনরা। হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে বহু সংখ্যক মানুষ। তাদের কারও হাতে, কারও পায়ে, কারও নাকে গুলি লেগেছে। মুসলিম ব্রাদারহুডের দাবি, ৮ জুলাই ফজরের নামাজের পর তাদের অবস্থান ধর্মঘটে সেনাদের গুলিতে নিহতের সংখ্যা ৫৩। এর মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। তবে সেনাবাহিনীর দাবি, সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা করেছিল। তারা জবাব দিয়েছে মাত্র। শিশু নিহত হওয়ার কথাও তারা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ইন্টারনেটে নিহত বলে যে শিশুকে দেখানো হচ্ছে তা আসলে সিরিয়ার ছবি।

এদিকে অন্তর্র্বতী প্রেসিডেন্ট আদলি মানসুর নির্বাচন সংক্রান্ত যে ডিক্রি জারির তীব্র বিরোধিতা করেছেন মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখার উপ-চেয়ারম্যান এসাম আল ইরিয়ান। ব্রাদারহুডের এ শাখাটির নাম ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি (এফজেপি), ইরিয়ান বলেছেন, নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে যারা সরিয়ে দিয়েছে তারা যাকে নিয়োগ দিয়েছে তিনিও সাংবিধানিক ডিক্রি জারি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেশকে পেছনে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এফজেপি’র আইন উপদেষ্টা আহমেদ আবু বারাকাহ বলেছেন, এ ডিক্রি অকার্যকর ও বে আইনি। অপরদিকে ব্রাদারহুডের মুখপাত্র জিহাদ আল হাদ্দাদ গতকাল সারা দেশে অবস্থান ধর্মঘট ও প্রতিবাদ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। বিক্ষোভ প্রতিবাদে অংশ নেয়া আশরাফ আওয়াদ বলেছেন, এ প্রেসিডেন্টকে কেও ভোট দেয় নি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার শপথ নেয়ার কোন বৈধতা নেই। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন তার কোনটাই জনগণ মানবে না। হামদি আল সাইদ নামে আরেক প্রতিবাদী বলেন, আমি আমার ভোটের পক্ষে অবস্থান নেবো। আমি মুরসিকে ভোট দিয়েছি। ৮ জুলাই যাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তাদের মতো শহীদ না হওয়া পর্যন্ত আমি মুরসির পক্ষে অবস্থান করবো। মুসলিম ব্রাদারহুডের ধারণা মুরসিকে আটকে রাখা হয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড ব্যারাকে। এ জন্য তার বাইরে তার সমর্থকরা সোমবার থেকে অবস্থান করেন। সেখানে সেনারা গুলি করে মানুষ হত্যাকে ব্রাদারহুড ‘গণহত্যা’ বলে দাবি করছে।

মুরসি সমর্থকরা মিশরবাসীকে আহ্‌বান জানিয়েছেন- আপনাদের বিপ্লব যারা ট্যাংক দিয়ে হরণ করছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। এমন হত্যাকাণ্ডের পর আল আজহার ইউনিভার্সিটির প্রধান মুফতি আহমেদ আল তায়েব দেশে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, সহিংসতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নিঃসঙ্গ অবস্থান গ্রহণ করবেন। এরই মধ্যে কট্টরপন্থি নুরি পার্টি অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারাও ৮ জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে মিশরবাসীর সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাসীও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। বিশ্বের মুসলিম দেশসহ প্রায় সব নেতারা মিশর পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবীড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশ্ববাসীর আশা, একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে মিশরের জনজীবন স্বাভাবিক হবে। সূত্র: ইন্টারনেট

Advertisements
Loading...