The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

৫০০ বছরেও বাড়ি ভাড়া বাড়েনি যে দেশে!

সত্যিই এমন একটি কাহিনী শুনতে গেলে আশ্চর্যই হতে হয়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি অন্যতম হলো বাসস্থান। তবে দৈনন্দিন জীবনে বাড়ি ভাড়া এক মহা বিড়ম্বনা। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বাড়িওয়ালা নানা অজুহাতে বাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে দেন। তবে পৃথিবীতে এমনও দেশ রয়েছে যেখানে ৫০০ বছরেও বাড়ি ভাড়া বাড়েনি!

৫০০ বছরেও বাড়ি ভাড়া বাড়েনি যে দেশে! 1

সত্যিই এমন একটি কাহিনী শুনতে গেলে আশ্চর্যই হতে হয়। যেখানে আমাদের দেশে বছরে বছরে বাড়ি ভাড়া বাড়ার কারণে নগরবাসীকে হেনস্তার শিকার হতে হয় সেখানে এমন একটি দেশের খবর আমরা পেয়েছি, যে দেশে এক বা দুি বছর নয়, ৫০০ বছরেও বাড়েনি বাড়িভাড়া!

অদ্ভুত এই শহরটির নাম হলো ফুগেরেই। এটি জার্মানির অগসবার্গে অবস্থিত ছবির মতো সাজানো একটি শহর। এই শহরটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৫১৪ সালে। জ্যাকব ফুগার নামে এক ধনী ব্যক্তি এই শহরটির প্রতিষ্ঠাতা। শহরটির গোড়াপত্তনের সময় স্থানীয় দরিদ্র মানুষের কথা মাথায় রেখেই জ্যাকব ফুগার হাউজিং কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। তার নামের সঙ্গে মিল রেখেই হাউজিং কমপ্লেক্সটির নামকরণ করা হয়।

এই কমপ্লেক্সের প্রতিটি বাড়ির বার্ষিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ওই সময়ের মুদ্রায় এক রিহিনিস গিল্ডার যা বর্তমানে এক মার্কিন ডলার কিংবা ৮৪ টাকার সমান। তবে কয়েক শ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ভাড়া এক পয়সাও বাড়েনি। তবে বাড়ি ভাড়ার পাশাপাশি বাসিন্দার কাছ হতে সামান্য কিছু টাকা নেওয়া হয় গির্জা এবং রাস্তা মেরামতের জন্য।

এখানে ৬৭টি বাড়ি ও ১৬৭টি এ্যাপার্টমেন্ট মিলিয়ে ফুগেরেই গ্রামের বাসিন্দা বর্তমানে মোট ১৪২ জন। অধিকাংশ বাসিন্দা কয়েক পুরুষ ধরে এখানে বসবাস করছেন। ছোটখাটো কিছু সমস্যা থাকলেও তারা এই হাউজিং কমপ্লেক্স ছেড়ে কখনও কোথাও যেতে চান না। কারণ এতো সস্তায় এরকম ছবির মতো সাজানো বাড়ি আর কোথাও পাওয়া যাবে না!

জ্যাকবের স্বপ্ন ছিল দরিদ্র মানুষ যেনো তাদের সাধ্যের মধ্যে বাড়ি ভাড়া পেতে পারে। তবে এখানে বসবাসের জন্য তিনি কিছু শর্তও জুড়ে দিয়েছিলেন। বাসিন্দাকে অবশ্যই ক্যাথলিক ও কমপক্ষে অগসবার্গের দুই বছরের বাসিন্দা হতে হবে। তাছাড়া রাত ১০টায় কারফিউ মেনে চলতে হবে এবং স্থানীয় চার্চে ৩ বার তাকে প্রার্থনার অঙ্গীকারও করতে হবে। বাসিন্দাদের জন্য এই শর্ত এখন পর্যন্ত বহাল রাখা হয়েছে।

Loading...