অপারেশন টরেন্টঃ µTorrent ব্যবহারের বিস্তারিত [টিউটোরিয়াল]

ফাইল শেয়ার এর জন্য জনপ্রিয় মাধ্যম হলো টরেন্ট। আপনি যা চাইবেন তার সব কিছুই পাবেন টরেন্ট এর মাধ্যমে। গেমস, মুভি, মিউজিক ভিডিও, সফটওয়ার আরও কতো কি! টরেন্ট এর কিছু শব্দার্থ জেনে রাখুন, তাহলে টিউটোরিয়াল বুঝতে সুবিধা হবে। Torrent হলো P2P ফাইল শেয়ার। P2P হলো Peer 2 Peer। Peer হলো একই সময়ে ডাউনলোড ও আপলোড করে। যে আপলোড করে তাকে Seeds বলা হয়। যে সফটওয়ারের মাধ্যমে টরেন্ট ডাউনলোড করা হয় তাকে Client বলে। যে সার্ভারে টরেন্ট ফাইলটা রাখা হয় সেটাকে Tracker বলে। এরকমই একটা Tracker সফটওয়ার µTorrent কীভাবে ব্যবহার করবেন সেটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।


uTorrent-logo-wallpaper_8339

প্রথমেই সরাসরি µTorrent এর অফিসিয়াল ওয়েব সাইট থেকে এটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করে ফেলুন। এটার ইন্সটলেশন অন্যান্য সফটওয়ারের মতোই একদম সোজা। তবে ইন্সটলেশনের সময় অবশ্যই প্রতিটি পদক্ষেপ খেয়াল করবেন কারণ এতে বিজ্ঞাপণ হিসেবে আরও অন্য সফট ইন্সটল দিতে আপনাকে অনুরোধ করতে পারে, আপনি ওতে টিক চিহ্ন উঠিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র µTorrent ইন্সটল করুন।

এবার টরেন্ট ফাইল কীভাবে খুঁজে বের করে ডাউনলোড করবেন, ছোট্ট একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা পরিস্কার করে দিই। ধরুন, আপনি the butterfly effect মুভিটা নামাতে চাচ্ছেন। গুগলে গিয়ে সার্চ দিন এভাবে the butterfly effect+torrent লিখে। দেখুন, প্রথম লিঙ্কে দেখাচ্ছে, The.Butterfly.Effect[2004]DvDrip[Eng]-Zeus_Dias (download torrent …, লিঙ্কে ক্লিক করুন। সেখান থেকে নিম্নোক্ত ছবি অনুযায়ী ক্লিক করুন

torrent1

এরপর এমন একটি ডায়ালগ বক্স আসবে, ok করুন

torrent2

এরপর যে ডায়ালগ বক্স আসবে সেখান থেকে save in এ ব্রাউজ করে আপনার ফাইলটি ড্রাইভের কোথায় সেভ করবেন সেটি দেখিয়ে দিন।

torrent4

এরপর ok করুন

torrent3

এরপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, দেখুন আপনার কাংখিত মুভিটি নামা শুরু হয়েছে, নীচের ছবি লক্ষ্য করুন

torrent5

ছোট্ট একটা বাড়তি কাজ বাকী আছে। যারা লিমিটেড নেট ব্যবহার করেন তাদের ব্যান্ডউইথ বাঁচিয়ে রাখতে এই কাজটি করে রাখতে পারেন। সেটা হলো টরেন্টের আপলোড স্পীড কমিয়ে রাখা। এতে করে আপনার বাড়তি ব্যান্ডউইথ খরচ হবে না। এটা করতে হলে সিস্টেম ট্রেতে যান। µTorrent উপর মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করুন।

torrent6

দেখুন ডাউনলোড আর আপলোড লিমিট দেয়া আছে। ডাউনলোড লিমিট আনলিমিটেড করে দিন (এটা অবশ্য ডিফল্টভাবে দেয়াই থাকে)।

torrent7

এর পর আবার রাইট বাটনে ক্লিক করে এখান থেকে আপলোড লিমিট আস্তে আস্তে কমিয়ে ১ কিলোবাইট করে দিন। প্রথমবারেই কিন্তু এক কিলোবাইটের অপশন আসবে না। ৩২, ২০, ১০, ৫, ৩ এভাবে কমতে কমতে ১ কিলোবাইটে আসবে। এইজন্য আপলোড লিমিটে কয়েকবার ক্লিক করে করে কমাতে হবে। এই কাজটা কয়েকবারে করবেন। ধরুন, ৩০ কিলোবাইট থেকে ২০ করে দিলেন। দুই তিন সেকেন্ড পর আবার আপলোড লিমিটে ক্লিক দিয়ে সেটাকে ১০ করে দিন। এভাবে ১ কেবিপিস পর্যন্ত আসেন। যদি আমি ভালোভাবে বুঝাতে পারি, তাহলে এই কাজটা করতে আপনার সর্ব্বোচ্চ ৩০ সেকেন্ড লাগার কথা। নীচের ছবি দেখুন

torrent8

পিসিতে নতুন করে উইন্ডোজ দেবার আগ পর্যন্ত এই কাজ আর করতে হবে না। যারা ননটেকি টরেন্ট বুঝেন না, তারা এই পদ্ধতি ফলো করতে পারেন। উইন্ডোজ সেভেন কিংবা এক্সপি, সবকিছুতেই একই ভাবে কাজ করবে।

কিছুদিন ব্যবহার করলেই আপনি নিজেই বুঝবেন কোনটা ভালো মানের টরেন্ট। তবে seed/leech বেশী যেসব ফাইলের সেগুলো নামাতে পারবেন আরামে। যেমন নীচে দেখুন

torrent10

দাগ দেয়া অংশ সমূহে দেখুন, এখানে seed/leech অনেক তার মানে এই ফাইলগুলো নামাতে আপনাকে তেমন একটা বেগ পেতে হবে না। যেসব ফাইলে দেখবেন seed/leech কম দেয়া আছে, ২০/৩০ কিংবা ০ সেসব ফাইল না নামানোই ভালো হবে।

টরেন্ট এর সুবিধা হল, এটা আপনার ব্রাউজিং স্পিড স্লো করবে না। আপনি পিসি বন্ধ করে ফেললেও কোনো সমস্যা হবে না। পিসি অন করার পর শুধুমাত্র সফটওয়ারটা আবার রান করুন, দেখবেন আপনার মুভিটি আবার নামা শুরু হয়েছে। যদি দেখেন ডাউনলোড নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে, তাহলে নীচের ছবি অনুযায়ী force start করুন।

torrent9

একটি সতর্কতাঃ আপনি যে ফাইলটা ডাউনলোড করেছেন সেটার কিছু অংশ ছাড়া অন্য কোন কিছুই আপলোড হবে না। ধরুন এই মুহুর্তে আপনার কাছে তিনটা টরেন্ট আছে যেগুলোর ডাউনলোড কমপ্লিট হয়ে গিয়েছে, আপনি যদি চান এর মধ্যে থেকে একটির আপলোড হওয়া বন্ধ রাখবেন আর বাকিগুলোর আপলোড চালু রাখবেন, তাহলে ঐ টরেন্টের উপর রাইট ক্লিক করে স্টপ অপশনে ক্লিক করুন, তাহলেই আপলোডিং থেমে যাবে।

আপনার সুবিধার্থে কিছু জনপ্রিয় টরেন্ট সাইটের লিঙ্কঃ

পাইরেট বে

kickass

এক্সট্রাটরেন্ট

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...