The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

আল কায়দা যুদ্ধের হুমকি দিলো ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে

দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পরই কাশ্মীর নিয়ে সম্প্রতি কড়া অবস্থান নেই মোদী সরকার

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ জম্মু-কাশ্মীরে ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা। এক ভিডিও বার্তায় আল কায়দা প্রধান এই জিহাদের ডাক দিয়েছেন।

আল কায়দা যুদ্ধের হুমকি দিলো ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে 1

সংগঠনের তরফে হতে সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। তাতে ভারতীয় সেনা ও উপত্যকার সরকারের উপর জঙ্গিদের আপসহীনভাবে আঘাত হানার নির্দেশ দিয়েছে আল কায়দা প্রধান আয়মান আল-জওয়াহিরি।

দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পরই কাশ্মীর নিয়ে সম্প্রতি কড়া অবস্থান নেই মোদী সরকার। সন্ত্রাসের সঙ্গে কোনও রকম আপস করা হবে না বলেও বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারপর উপত্যকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাড়ি বাড়ি দফায় দফায় ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়। তদন্ত শুরু করা হয়েছে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়েও। এমন এক পরিস্থিতিতে উপত্যাকার জঙ্গিরা যাতে মনোবল না হারিয়ে ফেলে, তার জন্যই জওয়াহিরি এই বার্তা দিয়েছে বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একজন আধিকারিক।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ওসামা বিন লাদেন প্রতিষ্ঠিত আল কায়দার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলো পূর্ব আফ্রিকার সন্ত্রাসী সংগঠন হরকত আল-শাবাব আল মুজাহিদিন। সম্প্রতি তারাই জওয়াহিরির ওই ভিডিও সামনে এনেছে। সেটির সত্যতা যাচাই করে দেখে ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশ নীতি সংক্রান্ত সংগঠন ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিস’। নিজেদের লং ওয়ার জার্নাল ওয়েবসাইটে জওয়াহিরির বার্তা সবিস্তারে প্রকাশও করেছে তারা।

সাদা পোশাক পরে, ডান দিকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বাঁদিকে কোরান নিয়ে ‘ডোন্ট ফরগেট কাশ্মীর’ নামের ভিডিওটিতে কথা বলতে শুরু করে জওয়াহিরি। তাতে সে বলে যে, ‘‘আমার মতে, এই মুহূর্তে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আপসহীন আঘাতকেই প্রাধান্য দেওয়া দরকার কাশ্মীরের মুজাহিদদের। ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে অর্থ ব্যবস্থাকে, যাতে করে লোকবল ও সরঞ্জাম, সব ক্ষেত্রেই মুখ থুবড়ে পড়ে ভারত।’’

জওয়াহিরি আরও বলেছে, ‘‘কাশ্মীরের লড়াই কোনওভাবেই আলাদা লড়াই নয়, বরং ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়েরই জিহাদ। সর্বত্র এই বার্তা পৌঁছানো উচিত যে কাফেররা মুসলিম দেশগুলিকে দখল করে রেখেছে, যতোদিন পর্যন্ত না তাদের তাড়ানো যাচ্ছে, ততোদিন কাশ্মীর, ফিলিপিন্স, চেচনিয়া, মধ্য এশিয়া, সিরিয়া, আরব উপমহাদেশ, সোমালিয়া, ইসলামিক মাঘরেব (উত্তর অফ্রিকার মুসলিম দেশগুলি) ও তুর্কেস্তানে জিহাদকে সমর্থন করা বিশ্বের সমস্ত মুসলিমের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।’’

মূলত সীমান্ত সন্ত্রাসের মাধ্যমে কাশ্মীরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে পাকিস্তান, সে কথাও তুলে ধরেছেন জওয়াহিরি। সেই সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তান— দুই দেশকেই আমেরিকার দালাল বলেও কটাক্ষ করেছে জাওয়াহিরি। পাকিস্তানের কাশ্মীর নীতিকে তালিবান ও অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিদের সঙ্গে তুলনা করে জওয়াহিরি বলেছে, ‘‘আফগানিস্তান হতে রাশিয়াকে হটানোর পরেও আরব মুজাহিদিনকে কাশ্মীরে ঢুকতেই দেয়নি পাকিস্তান। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে মুজাহিদিনকে কেবলমাত্র ব্যবহার করে এসেছে তারা। কাজ ফুরোলেই নির্যাতন করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।’’ ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সংঘাতে প্রকৃতপক্ষে ধর্মের কোনও জায়গা নেই, মার্কিন গোয়েন্দারা এই সীমান্ত বিরোধে কলকাঠি নাড়ে বলেও মন্তব্য করেন জওয়াহিরি।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...