The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

চার শিশু গাড়ি চুরি করে ৯০০ কিলোমিটার পাড়ি দিলো!

অবাক করা এই ঘটনাটি ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ায়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ যারা গাড়ি চুরি করার মতো কাজটি করেছিলো সেই চারজনেরই বয়স ১০ হতে ১৪ বছরের মধ্যে। অথচ এই চার শিশু মিলেই চুরি করে ফেলে একটি গাড়ি! তারপর চুরি করা এই গাড়ি নিয়ে পাড়ি দিয়েছে ৯০০ কিলোমিটারের বেশি পথ!

চার শিশু গাড়ি চুরি করে ৯০০ কিলোমিটার পাড়ি দিলো! 1ফাইল ফটো

অবাক করা এই ঘটনাটি ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ায়। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাড়ি নিয়ে পালানো এই চার শিশুর মধ্যে ছেলে শিশু ৩টি, আরেকটি মেয়েশিশু। সম্প্রতি নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্র্যাফটন শহর হতে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ওই চার শিশুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ, তবে কী অপরাধে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হবে, সেটি এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, সপ্তাহের শেষভাগে কুইন্সল্যান্ডের গ্রেসমেয়ার শহর হতে নিজেদেরই এক অভিভাবকের গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় ওই চার শিশু। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এক পরিবারের সদস্য নয়। পালানোর পূর্বে এক শিশু পরিবারের উদ্দেশে বিদায়ী বার্তা লিখে রেখে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্র্যাফটনের গ্লেন ইনেস এলাকায় গাড়িটিকে দেখতে পেয়ে তাড়া করা শুরু করে পুলিশ। তবে চালক ও আরোহী শিশুদের বয়স বিবেচনায় এনে একপর্যায়ে তাড়া করা থামিয়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। পরে গ্র্যাফটনের একটি রাস্তার ধারে গাড়িটিকে থেমে থাকতে দেখার পর সেটিকে আটক করে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ইন্সপেক্টর ড্যারেন উইলিয়ামস সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, টানা গাড়ি চালালেও এই পথ অতিক্রম করতে আনুমানিক ১০ ঘণ্টা সময় লাগার কথা ছিলো। উইলিয়ামস বলেছেন, ‘শিশুরা গাড়ির ভেতর নিজেদের আবদ্ধ করে রাখে। গাড়ির ভেতর ঢুকে ওদের গ্রেফতার করার জন্য আমাদের ব্যাটন (ছোট লাঠি) ব্যবহার করতে হয়।’ প্রায় ১০ ঘণ্টার এই যাত্রায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সব শিশুই গাড়ি চালিয়েছে বলে জানিয়েছে উইলিয়ামস। এতো কম বয়সী একটি শিশুর পক্ষে টানা এতোক্ষণ গাড়ি চালানো সম্ভব নয় বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ উদ্ধার করার পূর্বে বানানা শহরের একটি সার্ভিস স্টেশন হতে পেট্রলও চুরি করেছে ওই চার শিশু, এমন অভিযোগও তোলা হয়েছে! সার্ভিস স্টেশনের এক কর্মী সিডনির ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে বলেছেন, ‘চার শিশু যখন গাড়িটি চালিয়ে সার্ভিস স্টেশনে এলো, তখন তাদের কাছে সবকিছু স্বাভাবিক বলেই মনে হয়। তবে একজন যখন জানালা খুলে কথা বললো, তখন তাকে খুবই খর্বাকৃতির বলেই মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল জানালা পর্যন্ত মুখ ওঠাতেই কষ্ট হচ্ছে তার!’

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ বলেছে, শিশুদের অভিভাবকের উপস্থিতিতেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে ১৭ বছরের নিচে কাওকে গাড়ি চালানোর জন্য লাইসেন্সই দেওয়ার নিয়ম নেই।

Loading...