The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

খিদে পেলেই গয়না গিলে খায় এক নারী!

ওই তরুণী গত সপ্তাহে পেটে ব্যথা ও বমির সমস্যা নিয়ে স্থানীয় রামপুরহাটের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভারতে পশ্চিমবঙ্গে বীরভূমে এক তরুণীর পেটে অস্ত্রোপচার করে প্রায় দু’কেজি সোনার গয়না ও ৬০টি মুদ্রা পাওয়া গেছে! খিদে পেলেই নাকি গয়না ও মুদ্রা খেয়ে ফেলতো ওই নারি!

খিদে পেলেই গয়না গিলে খায় এক নারী! 1

ওই তরুণী গত সপ্তাহে পেটে ব্যথা ও বমির সমস্যা নিয়ে স্থানীয় রামপুরহাটের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা এক্স-রে করে বুঝতে দেখতে পান, তার পেটে বহু ধাতব পদার্থ রয়েছে। তারপর বুধবার তার অপারেশন করা হয়।

ওই তরুণীর বাড়িতেই একটি মনোহারী জিনিসের দোকান রয়েছে। খিদে পেলেই সেখান থেকে গয়না, মুদ্রা সবকিছু আস্ত খেয়ে ফেলতো রুনি খাতুন নামে ওই তরুণী!

প্রায় সোয়া এক ঘন্টা ধরে অপারেশন করার পর তার পাকস্থলী থেকে বের করা হয় ওই গয়না ও মুদ্রা। ওই তরুণীর পরিবার জানিয়েছেন যে, রুনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। খিদে পেলেই গয়না কিংবা হাতের কাছে যা পেতো- তাই খেয়ে ফেলতো।

তার পেট থেকে বের করা অলংকারসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা রুনি খাতুনের অপারেশন করে যে চিকিৎসক, সেই চিকিৎসক সিদ্ধার্থ বিশ্বাস সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, “প্রায় এক সপ্তাহ পূর্বে মেয়েটি হাসপাতালে আসে।

“তার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা ও বমি হচ্ছিল। আমরা তার এক্স-রে করাই। সেখানেই ধরা পড়ে যে মেয়েটির পাকস্থলীতে ধাতব পদার্থ আটকে রয়েছে। তখন আমরা অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নিই। আমরা এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে অপারেশন করেছি ৫ জন চিকিৎসক। তারপরেই ওই সোনার গয়না ও মুদ্রা পাওয়ার যায় তার পেট থেকে।” শুধু যে গয়না বা মুদ্রাই খেয়ে ফেলতেন ওই তরুণী, তা নয় অন্যান্য সামগ্রীও ছিলো।

অপারেশন শেষে পাকস্থলী হতে বের করা জিনিষের যে তালিকা তৈরি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, তার মধ্যে রয়েছে গলার হার ৬৯টি, কানের দুল ৮০টি, আংটি ১৯টি, পায়ের নূপুর ৪৩টি, নাকছাবি ১১টি, মার্বেল গুলি ৪টি, চাবি ৪টি এবং একটি ঘড়ি ছিলো! ওই তরুণীর পাকস্থলীতে পাওয়া গয়নার ওজন দাঁড়িয়েছে ১ কেজি ৬৮০ গ্রাম। এর সঙ্গে রয়েছে মুদ্রার ওজনও।

ডা. সিদ্ধার্থ বিশ্বাস বলছিলেন, “এই পরিমাণ ধাতব পদার্থ পাকস্থলীতে আটকিয়ে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই পেটে ব্যথা হবে। তবে এখন রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।” “ওর মানসিক ভারসাম্যহীনতার চিকিৎসা করানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

Loading...