The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

পার্কের মালি থেকে কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার কাহিনী!

এই সেলিম মোল্লা একসময় ছিলেন পার্কের মালি

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পার্কের মালি থেকে কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার এক কাহিনী অনলাইন মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। ওই ব্যক্তির নাম সেলিম মোল্লা।

পার্কের মালি থেকে কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার কাহিনী! 1

এই সেলিম মোল্লা একসময় ছিলেন পার্কের মালি। পদোন্নতি পেয়ে হয়ে যান গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারি। তারপর আঙ্গুল ফুলে হয়েছেন কলাগাছ। দুর্নীতি করে কোটি-কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন সেলিম মোল্লা।

সম্প্রতি বেসরকারি টিভি চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান ইনভেস্টিগেশন ৩৬০ ডিগ্রি অনুষ্ঠানের একটি পর্বে এমন অবাক করা তথ্য উঠে আসে।

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ১৯৮৪ সালে রমনা পার্কের মালি হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন সেলিম মোল্লা। তার হাজিরা ছিল মাত্র ১০ টাকা। তবে পদোন্নতি পেয়ে তিনি বর্তমানে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারি।

সেলিম মোল্লার এক প্রতিবেশি বলেছেন, তার লেখাপড়া নাকি ছিল ক্লাস সেভেন পর্যন্ত। তারপর আর লেখাপড়া করা হয়নি। মানিকগঞ্জের ঝিটকা আনন্দমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য ঘুরেছেন, কিন্তু পাননি। সেই বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি বর্তমানে সেলিম মোল্লা।

১০ টাকা হাজিরা বেতনের সেলিম মোল্লা বর্তমানে কোটি টাকার মালিক! তার এই উত্থান দেখে অবাক হয়ে যান আশেপাশের লোকজনরাও। কি এমন আলাদিনের চেরাগ পেলেন, যা দিয়ে রাতারাতি কোটি-কোটি টাকার মালিক হয়ে গেলেন?

এতো টাকার মালিক হলেন কিভাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে সেলিম মোল্লা বলেছেন, বাংলাদেশের সবাই জানে, অফিস সহকারী পদে চাকরি করে সচিবালয়ে ফাইল সই করানোর কোনো ক্ষমতাই নেই। তাই টাকা কামানোরও কোনো সুযোগও নেই।

তবে ইনভেস্টিগেশন ৩৬০ ডিগ্রির অনুসন্ধানের সূত্র জানিয়েছে, সেলিম মোল্লার নিজের ও তার স্ত্রীর নামে ৪ কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল একটি বাড়ি রয়েছে। তার আরও রয়েছে ৮ কোটি টাকা মূল্যের বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, রয়েছে একটি মার্কেট, দুটি গাড়ি, একটি ট্রাক, ৩টি মোটরসাইকেল।

এছাড়াও রাজধানীর শাহজাদপুরে তার একটি ফ্ল্যাট ও খিলগাঁওয়ে আরও ২টি বাড়ি রয়েছে সেলিম মোল্লার। তবে এ সবকিছুই অস্বীকার করেছেন সেলিম মোল্লা।

তিনি বলেছেন, আমার ঢাকায় কোনো বাড়িঘর নেই। তবে নির্দিষ্ট নাম্বারের দুটি গাড়ির কথা বলার পর তিনি সুর পাল্টালেন। বললেন, আমার নামে একটি নোয়া গাড়ি রয়েছে। ওটি ভাড়ায় চলে। আর পরিবারের নামে একটা গাড়ি রয়েছে।

তারপর বাড়ি থাকার কথা স্বীকার করলেন তিনি। জানালেন, এটা হলো আমার স্ত্রীর বাপের বাড়ির সম্পত্তি। প্রশ্ন করা হয়, এতো সম্পদ কোথা থেকে এলো? জবাবে সেলিম মোল্লার দাবি ছিলো, আমাদের আগে থেকেই টাকা-পয়সা ছিল।

সেলিম মোল্লার এক প্রতিবেশী বলেছেন, ঐতিহ্যবাহী কোনো পরিবারই ছিল না সেলিম মোল্লার। খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন সে। তাই এতো টাকা-পয়সা পারিবারিক সূত্রে পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

Loading...