The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

টানা ৬০ বছর প্রতি সপ্তাহে রক্ত দেওয়া এক ব্যক্তির গল্প!

জেমসের রক্তে অদ্ভুত এক ধরনের রোগপ্রতিরোধী অ্যান্টিবডি থাকার কারণে সেটি দিয়ে অ্যান্টি ডি নামে জীবন রক্ষাকারী ইনজেকশন তৈরি করা হতো

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সত্যিই আমরা মাঝে মধ্যে এমন খবর দেখি যেগুলো আমাদেরকে বিস্মিত করে। আজকের এই খবরটিও তেমনই একটি খবর। এক ব্যক্তি টানা ৬০ বছর প্রতি সপ্তাহে রক্ত দিয়েও সুস্থ্য জীবন যাপন করছেন!

টানা ৬০ বছর প্রতি সপ্তাহে রক্ত দেওয়া এক ব্যক্তির গল্প! 1

সত্যিই আমরা মাঝে মধ্যে এমন খবর দেখি যেগুলো আমাদেরকে বিস্মিত করে। আজকের এই খবরটিও তেমনই একটি খবর। এক ব্যক্তি টানা ৬০ বছর প্রতি সপ্তাহে রক্ত দিয়েও সুস্থ্য জীবন যাপন করছেন!

সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা যায়, টানা ৬০ বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে রক্ত দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক জেমস হেরিসন। এভাবে রক্ত দানের মাধ্যমে তিনি বাঁচিয়েছেন ২৪ লাখ অস্ট্রেলিয়ান শিশুর মহামূল্যবান জীবন। তিনি রক্ত দেওয়া শেষ করেন ২০১৮ সালে।

আমরা সবাই জানি চার মাস পরপর রক্ত দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু সেই নিয়ম থাকলেও জেমস প্রতি সপ্তাহে রক্ত দিয়ে এতোগুলো শিশুর জীবন বাঁচিয়েছেন। আর এই ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ অস্ট্রেলিয়া সরকার জেমস হ্যারিসনকে দিয়েছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা পদক ‘মেডাল অব দ্য অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া’। এই তথ্য দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান রেড ক্রস ব্লাড সার্ভিস।

এই বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, জেমসের রক্তে অদ্ভুত এক ধরনের রোগপ্রতিরোধী অ্যান্টিবডি থাকার কারণে সেটি দিয়ে অ্যান্টি ডি নামে জীবন রক্ষাকারী ইনজেকশন তৈরি করা হতো।

মূলত এই ইনজেকশনের মাধ্যমে শিশুদের মৃত্যুঝুকি অনেকটা কমে যায়। জেমস মূলত ১৪ বছর বয়সে অন্যের দেওয়া রক্তে জীবন ফিরে পান। তারপর পূর্ণাঙ্গ বয়স হওয়ার পর হতে তিনি নিয়মিত রক্ত দেওয়া শুরু করেন।

এভাবে রক্ত দেওয়ার এক পর্যায়ে চিকিৎসক তার রক্তে এই মহামূল্যবান উপাদানটি খুঁজে পায়। পরে এটিকে ইনজেকশনের মাধ্যমে ব্যবহার করা শুরু করেন চিকিৎসকরা। এজন্য তিনি প্রতি সপ্তাহে রক্ত দেওয়া শুরু করেন। এভাবে টানা ৬০ বছর রক্ত দিয়েছেন জেমস হ্যারিসন।

চিকিৎসক ফলকেনমির সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, অস্ট্রেলিয়াতে প্রতি ১০০ জনের ১৭ জন নারীর ক্ষেত্রেই রেসাস নেগেটিভ রক্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে প্রায় সময়। এসব ক্ষেত্রে অ্যান্টি ডি ইনজেকশনই হলো একমাত্র ভরসা। জেমস হ্যারিসনের রক্ত অসাধারণ প্রকৃতির রক্ত। গত বছর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াতে তৈরি হওয়া অ্যান্টি ডি ইনজেকশনের প্রতিটি ব্যাচই তৈরি হয়েছে জেমস হ্যারিসনের রক্ত হতে।

Loading...