The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

৩.৮ মিলিয়ন বছর পূর্বের মাথার খুলির সন্ধান!

ইথিওপিয়ার ওয়ারানসো-মিল্লেতে একটি বহু প্রাচীন নদী এবং হ্রদের কাছে খননকাজ চলার সময় সেখানে এই জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছিলেন নৃবিজ্ঞানীরা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আজকের কথা নয়, প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন বছর পূর্বের কথা। সেই সময় এই পৃথিবীতে বাস করতো মানুষের পূর্বপুরুষরা। এবার ৩.৮ মিলিয়ন বছর পূর্বের মাথার খুলির সন্ধান পাওয়া গেলো!

৩.৮ মিলিয়ন বছর পূর্বের মাথার খুলির সন্ধান! 1

সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির এক খবরে জানা যায়, বহু বছরের পুরনো একটি মাথার খুলি আবিষ্কার হয়েছে। যে খুলিটির সঙ্গে মূলত মানব প্রজাতির মিল পাওয়া গেছে। এই খুলিটি একটি নদীর ব-দ্বীপে বালির মধ্যে কবর দেওয়া হয়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্ত পাথর হয়ে গিয়েছিলো। বালিপাথরের মধ্যে এই খুলির জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। ২০১৬ সালে এই খুলিটি আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কারের পর দীর্ঘদিন তারা নানা গবেষণা করে বেশ উচ্ছ্বসিত হন বিজ্ঞানীরা।

ইথিওপিয়ার ওয়ারানসো-মিল্লেতে একটি বহু প্রাচীন নদী এবং হ্রদের কাছে খননকাজ চলার সময় সেখানে এই জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছিলেন নৃবিজ্ঞানীরা। সেইসঙ্গে মিলেছিল বহু প্রাচীন হাড় ও খুলি।

এই সময় তারা জানান, এই খুলিটিই হলো আমাদের এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নমুনাগুলোর মধ্যে একটি।

ক্লেভল্যান্ডের যাদুঘরের প্রাকৃতিক ইতিহাসের নৃতাত্ত্বিক ও মানুষের বিবর্তনবাদ নিয়ে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক দলের সদস্য জোহানেস হেইল-সেলেসি নামের একজন এই তথ্য প্রদান করেছেন।

হেইল-সেলেসি ও তার সহকর্মীরা নেচার জার্নালে জানিয়েছেন যে, এই খুলিটি সম্ভবত অস্ট্রেলোপিথেকাস অ্যানামেন্সিস নামে পরিচিত প্রজাতির একজন পুরুষের। অন্যান্য প্রাচীন হাড়ের সঙ্গে তুলনা করা হলে, এই মাথার খুলিটি পরিবর্তিত হয়ে ধীরে ধীরে আধুনিক মানুষের মাথার খুলিতে পরিণত হয়েছে বলেও মনে করছেন নৃতাত্ত্বিকরা। এইভাবেই নৃতাত্ত্বিকরা মানবসত্তার মাথার খুলির বিবর্তনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে দেখছেন এবং তাদের গবেষণায় এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

মানব বিবর্তনবাদ নিয়ে গবেষণায় যুক্ত সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির জনৈক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডেভিড স্ট্রেইট এই বিষয়ে বলেছেন, ‘এই নমুনাটি মানব বিবর্তনের প্রথম দিকের একটি অন্যতম প্রতীকী নমুনা।’

আবিষ্কার হওয়া এই খুলি হতে বোঝা যায় আদিম ও মানবিক উভয় বৈশিষ্ট্যেরই মিশ্রণ ছিল সেই সভ্যতা। এই প্রজাতি লম্বা ও শক্ত হাত থাকলেও সেই হাত না ব্যবহার করে শুধু দু’পায়েই হাঁটতো এরা। এমনকি তারা সক্ষম পর্বতারোহী ছিল বলেও বোঝা যায়। এই গবেষকরা তাদের গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন। তাদের ধারণা গবেষণার মাধ্যমে আরও অনেক কিছু হয়তো তারা জানতে পারবেন।

Loading...