The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ওসামা বিন লাদেন কীভাবে জঙ্গি হয়েছিলেন?

লাদেনের ফতোয়াটি ছিল, ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের উচিত মার্কিন সামরিক এবং বেসামরিক জনগণকে হত্যা করা, যতোক্ষণ না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের প্রতি সব সহায়তা বন্ধ করে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ওসামা বিন লাদেনকে নিশ্চয়ই কেও ভুলে যাননি। তিনি সারা বিশ্বের মানুষের অতি পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে আমেরিকার টুইন টাওয়ার হামলার পর আরও বেশি পরিচিতি বাড়ে বিন লাদেনের। এবার লাদেনের মা জানালেন কীভাবে জঙ্গি হয়েছিলেন ওসামা বিন লাদেন।

ওসামা বিন লাদেন কীভাবে জঙ্গি হয়েছিলেন? 1

ওসামা বিন মুহাম্মদ বিন আওয়াদ বিন লাদেন সৌদী আরবে জন্মগ্রহণকারী একজন মুসলিম সংগ্রামী যোদ্ধা যাকে আল কায়েদা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বা যাকে আখ্যায়িত করা হয় একজন সন্ত্রাসী হিসেবে। সাধারণত তিনি ওসামা বিন লাদেন বা উসামা বিন লাদেন নামেই অধিক পরিচিত।

বিন লাদেন বিশেষভাবে পরিচিত পান ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে আমেরিকার টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার জন্য। অন্য কয়েকজন ইসলামী জঙ্গীর সঙ্গে মিলে ওসামা বিন লাদেন দুইটি ফতোয়া জারি করেন; একটি ১৯৯৬ সালে, অপরটি ১৯৯৯ সালে । তার ফতোয়াটি ছিল, ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের উচিত মার্কিন সামরিক এবং বেসামরিক জনগণকে হত্যা করা, যতোক্ষণ না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের প্রতি সব সহায়তা বন্ধ করে এবং সব মুসলিম দেশ হতে সামরিক শক্তি অপসারণ করে।

ওসামা বিন লাদেন মার্কিন নেভি সিলের সদস্যদের হাতে নিহত হওয়ার অনেক বছর পর তারই মা আলিয়া ঘানেম প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমে ছেলেকে নিয়ে বেশ কিছু কথা বলেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তার মা লাদেন সম্পর্কে বেশ কিছু অজানা তথ্য দিয়েছেন।

বিন লাদেনের মায়ের দেওয়া বর্ণনায় উঠে এসেছে সিরিয়ায় কাটানো শৈশব হতে শুরু করে আফগানিস্তানে সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে তার মুজাহিদ জীবন সম্পর্কে নানা তথ্য। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদক তুলে এনেছেন সৌদি আরবের যে আর্থসামাজিক এবং ধর্মীয় পরিস্থিতির মধ্যে কিভাবে ওসামা বিন লাদেন উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়েন।

ওসামার মা আলিয়া ঘানেম ১৯৫০ দশকের মাঝামাঝি সময় সৌদি আরবে আসেন। ১৯৫৭ সালে রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন ওসামা বিন লাদেন। তিন বছর পর ওসামার বাবার সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে তার।

পরে সবে যাত্রা শুরু করা বিন লাদেন সাম্রাজ্যের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল-আত্তাসকে বিয়ে করেন আলিয়া ঘানেম। ওসামার বাবা ৫৪ জন সন্তানের জনক হন। তার অন্ততপক্ষে ১১ জন স্ত্রী ছিলেন।

ওসামার মা আরও জানিয়েছেন, সে যাদের সঙ্গে মিশেছিল তাদের একজন ছিল মুসলিম ব্রাদারহুডের অন্যতম সদস্য আবদুল্লাহ আজ্জাম। পরে ওই ব্যক্তিকে সৌদি আরব হতে নির্বাসিত করা হয়। তবে ততোদিনে সে ওসামার আধ্যাত্মিক পরামর্শকে পরিণত হয়েছে। ১৯৮০ দশকের শুরুতে ওসামা আফগানিস্তানে পাড়ি জমান রাশিয়ার দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য। ওসামা জঙ্গি হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কা করেছিলেন কখনও? এই প্রশ্নের জবাবে আলিয়া বলেন, আমার মাথায় এটা কখনই আসেনি।

যখন বুঝতে পারলেন ওসামা জঙ্গি হয়ে উঠেছিলেন তখন অনুভূতি কেমন ছিল জানতে চাইলে আলিয়া বলেন, আমরা খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। লাদেনের মা আরও জানান, ১৯৯৯ সালে পরিবারের লোকজন ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে সর্বশেষ সাক্ষাৎ করেছিল। ওই বছর কান্দাহারের কাছে একটি ঘাঁটিতে পরিবারের সদস্যরা দুইবার সেখানে গিয়েছিলেন।

তবে ওসামার সত্ভাই আহমেদ বলেছেন, ওসামার জঙ্গি জীবনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না তার মা। ৯/১১ হামলার এতো বছর পার হলেও হামলায় ওসামা জড়িত, তা এখনও মেনে নিতে পারেননি তার মা। আহমেদ বলেন, মা তাকে (ওসামাকে) খুব ভালোবাসতেন এবং তাকে কোনোভাবেই দায়ী করতে চান না। তিনি পরিস্থিতিকেই দায়ি করতে চান। তিনি শুধুই ছেলের ভালো দিক সম্পর্কেই জানেন। আর আমরা সবদিক দেখেছি। তবে তিনি তার জিহাদি দিক সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

নিউইয়র্ক হতে প্রথম যখন হামলার খবর শুনেছিলেন ওই সময়ের কথা জানিয়ে আহমেদ বলেছেন, আমি তখন খুব আঘাত পাই, আমি স্তব্ধ হয়ে যায়। আমার খুব অদ্ভুত ধরনের অনুভূতি ছিল। আমরা শুরু থেকে, অর্থাৎ প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জানতাম (হামলায় ওসামা বিন জড়িত)। তাই ছোট হতে বড় আমরা সবাই লজ্জিত ছিলাম। আমরা সবাই জানতাম আমাদেরকে বড় ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যেতে হবে। সব দেশ থেকে পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবেই চলে এলো।

Loading...