সীমান্তে বেপরোয়া বিএসএফ ॥ গুলি হত্যা নির্যাতন ঘটনায় বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ সামপ্রতিক সময়ে সীমান্ত নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে বিষেজ্ঞরা বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কারণ, সীমান্তে ভারতীয় বাহিনী বিএসএফ ইদানিং তাদের ইচ্ছা স্বাধীন মতো গুলি চালাচ্ছে। নির্বিচারে হত্যা করছে বাংলাদেশের মানুষকে। এটি অন্তত ভারতের কাছে বাংলাদেশ আশা করে না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বেশ কঠোর ভাষায় এর সমালোচনা করেছেন। সবচেয়ে বেশি সমালোচনায় পড়ে সীমান্ত এলাকায় নির্যাতনের ঘটনা। অমানুষিকভাবে বাংলাদেশী নাগরিকের ওপর নির্যাতনের ভিডিও চিত্র প্রকাশের পর দু’দেশের নীতি নির্ধারকদের মধ্যেও বেশ আলোচনার ঝড় ওঠে।
বিনা কারণে তারা বাংলাদেশীদের ওপর গুলিবর্ষণসহ নানা অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে। এতে বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশীদের ধরে ভারতের কারাগারে পাঠিয়ে দিচ্ছে বিএসএফ সদস্যরা। বিএসএফ প্রধানের সীমান্তে গুলি বন্ধ না করার মন্তব্যে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে ভারতীয় ছিটমহলের নাগরিকরাও। গত কয়েক দিনে বিএসএফ সদস্যরা পাঁচ বাংলাদেশীকে অপহরণ করে ভারতের কারাগারে পাঠিয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের বেউরঝাড়ি সীমান্ত থেকে বিএসএফ সদস্যরা এক বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে। এছাড়া সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশী আহত হয়েছে। এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) : ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সুলতান আহম্মেদ পিএসসি জানান, বিএসএফের অপহরণ করা ৫ বাংলাদেশীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের কাছে ফেরত চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিএসএফ তাদের ফেরত না দিয়ে সেদেশের কৃষ্ণনগর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেউরঝাড়ি সীমান্তে বিএসএফের হাতে নুর আলম (২৭) নামে এক বাংলাদেশী আটক হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে সীমান্তের ৩৮০ মেইন পিলারের ওপারে গেলে ভারতের বড়বিল্লাহ বিএসএফ ক্যাম্পের টহল জওয়ানের হাতে তিনি আটক হন। নুর আলম বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চড়ইগতি গ্রামের ইলিয়াস খানের ছেলে। ৯ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও-৩০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে ১৬ জানুয়ারি এ উপজেলার রত্নাই কাশিবাড়ি গ্রামের আইজ উদ্দিনের ছেলে মতিউর রহমান (২৫) রত্নাই সীমান্তের ওপারে গেলে বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে। পরে তাকে ভারতের ইসলামপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
সাতক্ষীরা : জেলার কাকডাঙ্গা সীমান্তের সোনাই নদী তীরে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের একশ’ গজ অভ্যন্তরে দুই বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ী বিএসএফের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সীমান্তজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে দু’দেশের সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে। গুলিবর্ষণের কয়েক ঘণ্টা পরই দু’দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠকে বিজিবি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। বিএসএফ এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টি সম্পর্কে তদন্ত করবে বলে জানিয়েছিল। অপরদিকে, ভারতের চোরাচালানিদের হামলায় আহত বিএসএফ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
কাকডাঙ্গা সীমান্তের মেইন পিলার ১৩ সাব-পিলার ৩- এর রিভার পিলার ৪-এর কাছে দুই বাংলাদেশী গুলিবিদ্ধ হন। তারা নদীর ঘাটে গরু নিয়ে বসে ছিলেন। আহতরা হলেন- কলারোয়ার কেড়াগাছি গ্রামের আবু দাউদের ছেলে ইয়াকুব আলী (২৮)ও কায়বা গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে আবদুল হামিদ (৩০)। তাদের চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা ও কলারোয়া হাসপাতালে পাঠানোর পর ইয়াকুবকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছে বিজিবি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : বিএসএফের আগ্রাসী মনোভাব ও অত্যাচার-নির্যাতন বৃদ্ধি পাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গরু ব্যবসায়ীদের অবৈধ পথে সীমান্ত পার না হওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বিজিবি। ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দফতরে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ নির্দেশ দেয়া হয়। বিজিবি ৩৯ ব্যাটালিয়

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...