The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

১৭ মাস পরও জানা গেলো না শিশুটি ছেলে না মেয়ে! [ভিডিও]

১৭ মাস বয়সী ওই সন্তানকে লিঙ্গ নিরপেক্ষ হিসেবে বড় করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ একটি শিশুর জন্ম হয়েছে আজ নয় দীর্ঘ ১৭ মাস যাবত। কিন্তু এই দীর্ঘ ১৭ মাস পরও জানা গেলো না শিশুটি আসলে ছেলে না মেয়ে!

১৭ মাস পরও জানা গেলো না শিশুটি ছেলে না মেয়ে! [ভিডিও] 1

ইংল্যান্ডের ক্যানশ্যাম এলাকায় বসবাসকারী হবিট হামফেরি (৩৮) এবং জ্যাক ইংল্যান্ড জন (৩৫) নামে এক দম্পতি নিজের সদ্যজাত সন্তান ছেলে না মেয়ে তা বুঝতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে এক অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ১৭ মাস বয়সী ওই সন্তানকে লিঙ্গ নিরপেক্ষ হিসেবে বড় করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তারা। এমনকি শিশুটির দাদা-দাদির কাছে প্রায় এক বছর ধরে সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় গোপনও করেছেন এই দম্পতি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এই দম্পতি জানিয়েছেন, সন্তান যেনো অচেতনভাবেই কোনো লিঙ্গ পক্ষপাত না হয়ে পড়ে, সে কারণেই এই ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা। সন্তানের জন্য তারা ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের পোশাক কেনেন। তাদের সন্তানকে দুই ধরনেরই পোশাক পরানো হয়।

জানা যায় যে, ওই দম্পতি সার্কাস দেখানোর কাজে কর্মরত রয়েছেন। তারা বসবাস করেন ভাসমান এক নৌকার ঘরে। তারা সন্তানের নাম রেখেছেন অনুশ। জানা যায়, ১১ মাস বয়সের সময় অনুশের নানি তার লিঙ্গ পরিচয় জানতে পারেন। সেটিও অনুশের ন্যাপি পরিবর্তন করে দেওয়ার সময়।

সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রেও ওই দম্পতি চেষ্টা করেছেন একটি ব্যতিক্রমি কিছু রাখার। সন্তানের এমন নাম খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন, যা দিয়ে বোঝা যাবে না তার লিঙ্গ পরিচয় আসলে কি।

ওই দম্পতি জানিয়েছেন যে, সন্তানকে পক্ষপাতহীন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তার লিঙ্গ নির্ধারণ না করে বড় করে তোলার ব্যাপারেই আমরা ভেবেছি। আমাদের মনে হয়েছে যে, এতে করে সন্তান লিঙ্গ পরিচয়ের ফ্রেমে আটকে না থেকে সবাইকে সমান হিসেবে ভাবতে পারার সুযোগ পাবে।

এই দম্পতি আরও বলেছেন, আমরা তাকে কিছুই বানানোর চেষ্টা করছি না। আমরা চাই যে, সে যেনো তার মতোই হয়। হবিট হামফেরি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে অবচেতনভাবেই লিঙ্গগত পক্ষপাত কাজ করে। তবে আমি যখন গর্ভবতী হই, তখনই আমরা আলোচনা করেছি যে, কীভাবে লিঙ্গগত পক্ষপাতিত্ব থেকে আমরা অনেক দূরে থাকবো।

তিনি আরও বলেছেন, সে কারণে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, আমরা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় মানুষের কাছে কখনই জানাবো না। এজন্য তাদের নাম আগেই সেভাবে নির্ধারণ করেছি। তাকে আমাদের সন্তান হিসেবেই বড় করছি।

তিনি আরও বলেছেন, অনেকেই বলে যে, গোলাপি রঙ কেবল মেয়েদের জন্য ও নীল রঙ ছেলেদের জন্য। অথচ আমরা সব রঙের পোশাক সব সময় তাকে পরিয়ে রাখি। এমনকি আমার মা আগে না জানলেও ১১ মাস বয়সে আমার সন্তানের ন্যাপি পরিবর্তন করতে গিয়ে অনুশের লিঙ্গ পরিচয় জানতে পেরে যায়।

তিনি আরও বলেছেন, প্রথমবার সন্তান হওয়ার পর এমনিতেই অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। তার ওপর সন্তানের পরিচয় গোপন করার কারণে অনেকের কাছেই সেটি অপছন্দনীয় হয়ে দেখা দেয়। তবে এসব সমস্যা মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

ওই নারী আরও বলেন, দেখা যাচ্ছে আমাদের সন্তান ছেলে-মেয়ে উভয়েরই খেলনা নিয়ে খেলা করছে। সে কোনো কোনো সময় চা বানানোর খেলনা পছন্দ করছে, আবার মোটরবাইকও তার পছন্দের একটি জিনিস। সেই কারণে বড় হয়ে সে নিজের কোন লিঙ্গ নির্ধারণ করতে চাইবে সেই সিদ্ধান্তটাও সে নিজেই নেবে, আমরা কেবল ওকে বড় করে তুলছি মাত্র।

দেখুন ভিডিওটি

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...