The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বাংলাদেশে নতুন ভাইরাস ‘ওয়েস্ট নাইল’

কিছুদিন যাবত ডেঙ্গুর মহামারীতে আক্রান্ত গোটা দেশ ঠিক এমন সময় এমন একটি খবর যেন আমাদের জন্য নতুন বিপদের ইশারা করছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সম্প্রতি আমাদের বাংলাদেশ নানা প্রতিকূলতা ও প্রাকৃতিক জটিলতা দিয়ে বেশ ভয়ঙ্কর সময় পার করছে। পরিবেশ ও নানাবিধ সমস্যার মধ্যে যেখানে আমরা ডেঙ্গুর সাথে মোকাবেলায় ব্যস্ত ঠিক এমন সময় আবির্ভাব ঘটল নতুন এক ভাইরাসের। যান নাম ‘ওয়েস্ট নাইল’।

বাংলাদেশে নতুন ভাইরাস ‘ওয়েস্ট নাইল’ 1

আমাদের দেশে নতুন ভাইরাস শুনতে আতকে ওঠার মতো অবস্থা প্রায়। যেখানে কিছুদিন যাবত ডেঙ্গুর মহামারীতে আক্রান্ত গোটা দেশ ঠিক এমন সময় এমন একটি খবর যেন আমাদের জন্য নতুন বিপদের ইশারা করছে। কোথা থেকে ভাইরাস এসেছে তা নিয়ে এখনো কোনো ধরনের তথ্য পাওয়া যায়নি এবং কতজন মানুষই এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে তার সঠিক ধারনাও মেলেনি। এ ভাইরাসটির নাম ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস।

ওয়েস্ট নেইল ভাইরাস সম্পর্কে আমাদের দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিজ্ঞানী গবেষকরা বলছেন এই ভাইরাসটি আমাদের বাংলাদেশ সম্পূর্ণ নতুন একটি ভাইরাস। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র থেকে একজন ব্যক্তির শরীরে এ ভাইরাস সনাক্ত করা হয় যা কিছুদিন আগে আইসিডিডিআরবি থেকে তথ্য লিখিতভাবে সরকারের কাছে ও সরকারের তিনটি দপ্তরকে লিখিতভাবে নিশ্চিত করা হয় এবং জানানো হয়। যদিও এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ের উপর তথ্য ও বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি প্রদান করে থাকেন।

এছাড়া বিভিন্ন জরিপ ও জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে আমাদের দেশের যেই অঞ্চলে এই রোগী শনাক্ত করা হয়েছে সেখানে বা আশেপাশের রোগীদের জরিপ করলে এই রোগে আক্রান্ত রোগী বা ভাইরাস আক্রান্তদের খুঁজে পাওয়া যাবে। তাই সে ক্ষেত্রে সময় নষ্ট না করে এ কাজটি দ্রুততার সাথে শুরু করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের পরামর্শকরা।

নানাবিধ গবেষণায় জানা যায় যে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসটি সাধারণত কাকজাতিয় পাখির শরীরের সুপ্ত অবস্থায় থাকে। এই ভাইরাসে সংক্রমিত মশা বা পোকামাকড় মানবদেহে কামড় দিলে সে শরীরে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী স্নায়ুতন্ত্রের রোগে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারে। স্বাভাবিকভাবে এ রোগের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না তবে লক্ষ্য তীব্রতর দেখা যায় যদি ঘোড়া এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। এই ভাইরাস আক্রমণের ফলে ঘোড়ার তীব্রতর অবস্থার পাশাপাশি মৃত্যু ঘটে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় এই ভাইরাস আফ্রিকা মহাদেশের উগান্ডার ওয়েস্ট নাইল অঞ্চলের একজন নারীর শরীরে প্রথম শনাক্ত করা হয় ১৯৩৭ সালে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ভাইরাসের মহামারীতে রয়েছে গত প্রায় ৫০ বছর যাবত। বিশ্বের অনেক দেশে অনেক মানুষেরই ভাইরাস আক্রান্ত করেছে। এ ভাইরাসের মহামারিতার শিকার হয়েছে গ্রিস, ইজরায়েল, রোমানিয়া রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো। আফ্রিকা, ইউরোপ এর কিছু অংশ মধ্যপ্রাচ্য পশ্চিম এশিয়া অস্ট্রেলিয়া ও পাশাপাশি বিভিন্ন দেশেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ১৯৯৯ সাল থেকে নিউইয়র্ক শহরে এই ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস আসে এবং প্রায় ২০১০ সাল পর্যন্ত এর প্রভাব চলতে থাকে। এই ভাইরাসের রোগ প্রতিরোধ কোন টিকা এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি অথবা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রোগীদের নির্দিষ্ট চিকিৎসার ব্যবস্থাও এখন পর্যন্ত বের করা সম্ভব হয়নি। তাই এই ওয়েস্ট নাইল একটি ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হয়েছে দিনে দিনে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজনের জ্বর ও অন্যান্য ধরণের সাইড ইফেক্ট দেখা যেতে পারে। বিভিন্ন জরিপে জানা যায় এ আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দেড়শ জনের একজন তীব্রতার অবস্থার শিকার হয় এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ৫ ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে এই ভাইরাসকে শনাক্ত করা সম্ভব। দুটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া এই ভাইরাস শনাক্ত করার মত প্রযুক্তি অন্য কারো কাছে বর্তমানে নেই বলে জানানো হয় গত সোমবার রাতে। নতুন ভাইরাস এর সম্পর্কে ও ভাইরাস মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন নতুন এ ভাইরাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে এবং এর পাশাপাশি এর সঠিক প্রতিকার সম্পর্কে অবগত হতে হবে। ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের বাহক হিসেবে মশা কাজ করতে পারে তাই সকলকে মশার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জোর দিতে হবে বলে জানানো হয়।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...