The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

শিল্পগুরু মাইকেলেঞ্জেলোর বিখ্যাত দুটি শিল্পকর্ম

প্রথীতযশা শিল্পগুরু মাইকেলেঞ্জেলো তার মৃত্যুর ৪৫০ বছর পরেও তাঁকে এবং তাঁর শিল্পকর্ম নিয়ে আমাদের কৌতূহলের যেনো শেষ নেই

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মাইকেলেঞ্জেলো বুনারোত্তি (Michelangelo) রেনেসাঁ যুগের শিল্পসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন শিল্পী। তার শিল্পকর্মগুলো ইতালি তথা পশ্চিমা শিল্পের উন্নয়নে অসাধারণ প্রভাব বিস্তার করেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

শিল্পগুরু মাইকেলেঞ্জেলোর বিখ্যাত দুটি শিল্পকর্ম 1

এই প্রথীতযশা শিল্পগুরু মাইকেলেঞ্জেলো তার মৃত্যুর ৪৫০ বছর পরেও তাঁকে এবং তাঁর শিল্পকর্ম নিয়ে আমাদের কৌতূহলের যেনো শেষ নেই। তিনি ছিলেন একাধারে একজন ভাস্কর, চিত্রকর, স্থপতি ও কবিও। তবে ভাস্কর ও চিত্রকর হিসেবেই বেশি জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। তাই মাইকেলেঞ্জেলোকেই সর্বকালের সেরা একজন ভাস্কর হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। মাইকেলেঞ্জেলোর বিখ্যাত কয়েকটি শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু শিল্পকর্ম। ব্যাক্কাস, ম্যাডোনা অফ দ্য স্টেপস, দোনি তোন্ডো, তাদেও তোন্ডো, ম্যাডোনা এ্যান্ড চাইল্ড, ক্রুশিফিকেশন অফ সেন্ট পিটার, মোজেস ইত্যাদি অন্যতম। যেগুলো বিশ্বের তাবত মানুষকে নাড়া দেয়। আজ এর মধ্যে দুটি শিল্পকর্মের কথা তুলে ধরা হচ্ছে। আসুন আজ দেখে নেই মহান ও বিখ্যাত এই শিল্পগুরু মাইকেলেঞ্জেলোর বিখ্যাত দুটি শিল্পকর্ম।

ডেভিড

মাইকেলেঞ্জেলোর সবচেয়ে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় শিল্পকর্মটি হলো ডেভিড (David) এর ভাস্কর্য। এই ভাস্কর্যটি প্রায় ৫.১৭ মিটার (১৭.0 ফুট) লম্বা। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি মার্বেলের তৈরি পুরুষ নগ্ন মূর্তি। এই মূর্তিটি প্রতিনিধিত্ব করছে বাইবেলের নায়ক ডেভিডকে। মাইকেলেঞ্জেলোর তৈরি ডেভিডের এই মূর্তিটি অন্য সবার মতো ছিল না। যেখানে বেশিরভাগ শিল্পী ও ভাস্কর গোলিয়াথ এর সঙ্গে যুদ্ধের পর ডেভিডের জয়ী রূপ তুলে ধরেছেন সেখানে মাইকেলেঞ্জেলো তুলে ধরেছেন যুদ্ধে যাওয়ার আগে ডেভিডের চিন্তিত ও সতর্ক অবস্থান সম্পর্কে। মাইকেলেঞ্জেলো ডেভিড এই মূর্তির কাজ শুরু করেন তার বয়স যখন মাত্র ২৬ বছর! এবং এই কাজ শেষ হতে সময় লাগে প্রায় ৩ বছরের মতো। মাইকেলেঞ্জেলোর এই কাজ দেখলে বিশ্বাসই হয় না যে তিনি এটি আসলে পাথর কেটে তৈরি করেছেন।

প্রথমদিকে ডেভিডকে পিয়াজ্জা দেলা সিনিওরিয়া তে রাখা হলেও মূর্তিটি বর্তমানে রয়েছে ফ্লোরেন্স শহরের গ্যালারিয়া দেল’অ্যাকাদেমিয়া (অ্যাকাডেমিয়া গ্যালারি) তে, ছোট্ট একটি গম্বুজের নীচের ঠিক কেন্দ্রস্থলে।

দ্য লাস্ট জাজমেন্ট

মাইকেলেঞ্জেলোর বিখ্যাত কয়েকটি শিল্পকর্মের ২য় তম স্থানে রয়েছে দ্য লাস্ট জাজমেন্ট (The Last Judgment)। এটি একটি ফ্রেস্কো (সদ্য প্লাস্টার করা ভিজে দেওয়াল বা ছাদে জল মেশানো গুঁড়ো রঙ দিয়ে আঁকা হয়েছিলো এই ছবি)। এটি মাইকেলেঞ্জেলো এবং পশ্চিমা বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী একটি শিল্পকর্ম বলা হয়ে থাকে। এই ফ্রেস্কোটির অবস্থানও ভ্যাটিকান সিটির সিস্টিন চ্যাপেলে। তবে সিলিং এর পরিবর্তে রয়েছে বেদিতে বা দেওয়ালে (অল্টারে)। এখানে চিত্রিত রয়েছে ওল্ড টেস্টামেন্টের সৃষ্টিতত্ত্ব হতে যিশু খ্রিস্টের ছোট-বড় ৩০০ টি চরিত্রও। এই ফ্রেস্কোটি মাইকেলেঞ্জেলো আঁকেন সিস্টিন চ্যাপেলের প্রায় ৫ হাজার স্কোয়ার ফুট জুড়ে।

শিল্পগুরু মাইকেলেঞ্জেলোর বিখ্যাত দুটি শিল্পকর্ম 2

এই ফ্রেস্কোটিতে ফুটে উঠেছে ঈশ্বরের শেষ হিসাব-নিকাশ। যেখানে মূলত দেখানো হয়েছে যিশু খ্রিস্টের পুনর্জীবন। তিনি অবস্থান করছেন ফ্রেস্কোর ঠিক মাঝামাঝি। তার চারপাশে রয়েছে যিশুর আরও বিশিষ্ট অনুগামীগণ। নিচের দিকে দেখানো হয়েছে মৃতের পুনরূজ্জীবন ও পাপিদের নরকে প্রেরণের দৃশ্যও। তবে নগ্নতা থাকার কারণে ১৫৬৪ সালে কাউন্সিল অব ট্রেন্ট, দ্য লাস্ট জাজমেন্ট ফ্রেস্কোটির নিন্দা করেছিলো এবং চিত্রশিল্পী এবং ভাস্কর ড্যানিয়েল দ্য ভোল্টেরা কর্তৃক কিছু অশ্লীল দৃশ্য নতুন করে চিত্রায়িত করে।

Loading...