The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

পাকিস্তানের এক গ্রামেই পাওয়া গেছে ৯শ’ এইডস আক্রান্ত শিশু!

সেখানে এইচআইভি আক্রান্ত হওয়া শিশুদের অধিকাংশের বয়সই হলো ১২'র কম

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ খুব ছোট্ট একটি গ্রাম। সেই গ্রামের প্রায় ৯০০ শিশু এইচআইভি পজিটিভ। এই গ্রামটি পাকিস্তানে। এ বছরের এপ্রিলে সেখানকার একজন স্থানীয় চিকিৎসক তার ক্লিনিকে আসা শিশুদের উপসর্গ দেখেই সন্দেহ প্রকাশ করেন।

পাকিস্তানের এক গ্রামেই পাওয়া গেছে ৯শ' এইডস আক্রান্ত শিশু! 1

বিবিসি বাংলার এক খবরে জানা যায়, এরপর তিনি সেইসব শিশুর এইচআইভি পরীক্ষা করার উপদেশও দেন। ৮ দিনের মধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে বলে জানা যায়।

শুধুমাত্র পাকিস্তানেই নয়, এশিয়াতেও এতো মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে একসঙ্গে এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার নজির নেই বলা যায়।

বিস্ময়কর সংক্রমণ

পাকিস্তানের ঘটনায় বিস্মিত হওয়ার মতো বিষয়টি হলো, সেখানে এইচআইভি আক্রান্ত হওয়া শিশুদের অধিকাংশের বয়সই হলো ১২’র কম।

তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও এই রোগের কোনো উপস্থিতি কখনও ছিল না। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি ছিল যেখানে, সেই রাতোদেরোতে গিয়েছিলেন এই প্রতিবেদক।

সেখানকার একটি ছোট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক মুজাফফর ঘাঙরো ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে পরীক্ষা করছেন। বাবার কোলে চুপচাপ বসে রয়েছে শিশুটি। চিকিৎসক তার পোশাক সরিয়ে স্টেথোস্কোপ দিয়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করার সময় শিশুটিকে ধীরে ধীরে নি:শ্বাস নিতে বলেন।

ওই কক্ষের বাইরে অন্তত আরও এক ডজন রোগী নিজেদের পরীক্ষা করানোর জন্য অপেক্ষা করে আছেন। তাদের কারও কারও আবার বয়স কয়েক সপ্তাহ।

শিশুদের চিকিৎসক হিসেবে ওই অঞ্চলে চিকিৎসক ঘাঙরোর সুখ্যাতি ছিল দীর্ঘদিনের, তার কাছে চিকিৎসা করানোর খরচও কম ছিল। তবে তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর সব বদলে যায়।

ওই চিকিৎসক ঘাঙরোর সঙ্গে বিবিসির এই প্রতিবেদকের কথাও হয়। কথা বলার জন্য তিনি ক্লিনিক হতে বের হয়ে আসেন, তার একটি পা যান্ত্রিক হওয়ার কারণে কিছুটা খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয়েছে তাকে।

উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিশুদের মধ্যে এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণ করার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধেই। তারপর গ্রেফতার করা হয় অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে।

এমনিতেই হালকা মেজাজে থাকলেও ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়ে কথা বলা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই তার আচরণ বদলে যেতে শুরু করে।

তিনি দাবি করেন যে, “আমি কোনো অপরাধ করিনি”।

“স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারাই ভীষণ চাপের মুখে ছিলেন। তাদের অযোগ্যতার দায় কারও না কারও ওপর চাপাতে হতো তাদেরকে। বলির পাঁঠা হয়েছি আমি।”

কয়েক সপ্তাহ পর পাকিস্তান সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হওয়া এক তদন্তের পর চিকিৎসক ঘাঙরোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্ব কমে যায়। অভিযোগ করা হয় যে, তার দায়িত্বে অবহেলার মাত্রা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

চিকিৎসক ঘাঙরো বলেন, “গত ১০ বছর ধরে আমি চিকিৎসা পেশায় রয়েছি। এখন পর্যন্ত একজনও আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেনি যে, আমি সুঁই পুনর্ব্যবহার করেছি। আমি স্থানীয় মানুষদের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয়ও ছিলাম। তাই পেশাগত হিংসা হতে অন্যান্য চিকিৎসক এবং সাংবাদিকরা আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ তুলেছেন।”

‘মানুষ আমাদের শিশুদেরকে ঘৃণা করে’। চিকিৎসক ঘাঙরোর ক্লিনিক হতে কয়েক কিলোমিটার দূরে শুভানা খান গ্রামে ৩২জন শিশু এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছেন। এই শিশুদের পরিবারের কোনো সদস্যদের এইচআইভি ছিল না।

কয়েকটি শিশুর মায়ের সঙ্গে কথাও হয়। বলা যায় তাদের অবস্থা উন্মাদপ্রায়। তাদের সন্তানরা অপুষ্টিতে ভুগছে ও ক্রমাগত কাঁদছে।

এক শিশুর মা বলেন যে, “আমার সন্তানের ওজন মেপে তাকে ভিটামিন দিতে বলেছি আমি।”

“অথচ তারা আমাকে বলে যে, তারা শুধু ওষুধের সুপারিশ করতে পারবে, যা আমার নিজের টাকা দিয়েই কিনতে হবে।তবে আমার এতো দামি ওষুধ কেনার সামর্থ্যই নেই।”

যদিও পাকিস্তান সরকার এইচআইভি’র ওষুধ বিনামূল্যে দিচ্ছে, তবে অধিকাংশ রোগীরই এইচআইভি’র প্রভাবে শরীরে অন্যান্য যেসব রোগের সংক্রমণ হয়ে থাকে সেগুলোর ওষুধের খরচ বহন করতেই পারেন না।

তবে আর্থিক দৈন্য নয়, রাতোদেরো’র শিশুদের অভিভাবকদের যন্ত্রণা দিচ্ছে সমাজের মানুষের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তদের সম্পর্কে নানা মনোভাব।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে এইচআইভি’র ব্যাপক প্রাদুর্ভাব থাকা ১১টি দেশের একটি হলো পাকিস্তান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের তুলনায় পাকিস্তানে বর্তমানে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।

Loading...