The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ভ্রমণ: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, সুন্দরবনসহ শীতকালে ভ্রমণের কয়েকটি স্থান

ভ্রমণ মানুষের হৃদয় পরিশুদ্ধ করে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশে ভ্রমণের বহু স্থান রয়েছে। সেইসব স্থানে বিশেষ করে এই শীতের সময় আমরা বেড়াতে যেতে পারি। এতে করে আমাদের এক ঘেয়েমিটা কেটে যাবে। আসুন আজ জেনে নেই কয়েকটি ভ্রমণের সুন্দরতম স্থান সম্পর্কে।

ভ্রমণ: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, সুন্দরবনসহ শীতকালে ভ্রমণের কয়েকটি স্থান 1

রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি

বর্তমানে রাঙ্গামাটি জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানের নামই হলো সাজেক ভ্যালি। রাঙ্গামাটির ছাদ খ্যাত সাজেক ভ্যালি সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ১৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। সাজেকের অবস্থান হলো রাঙামাটি জেলায় হলেও ভৌগলিক কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হতে সাজেক যাতায়াত অনেক সহজতর। চারপাশে মনোরম পাহাড় সারি ও সাদা তুলোর মতো মেঘের ভ্যালি আপনাকে মুগ্ধ করবে তাতে সন্দেহ নেই। সাজেক এমনই আশ্চর্য্যজনক স্থান যেখানে একই দিনে প্রকৃতির তিন রকম রূপের সান্নিধ্যে আপনি হতে পারেন মুগ্ধ। কখনও বা খুব গরম অনুভূত হবে তারপর হয়তো হটাৎ করেই বৃষ্টিতে ভিজে যাবেন বা চোখের পলকেই মেঘের ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাবে আপনার চারদিক। প্রাকৃতিক নিসর্গ ও তুলোর মতো মেঘের পাহাড় থেকে পাহাড়ে উড়াউড়ির খেলা দেখতে সাজেক হলো একটি আদর্শ স্থান।

বান্দরবান

বান্দরবান হলো আরেকটি মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশের স্থান। মেঘ ছোঁয়ার কথা মনে আসতেই যে স্থানটির কথা আমাদের মাথায় আসে তা হলো এই বান্দরবান। শীতকালে পার্বত্য জেলা বান্দরবান ঘুরার জন্য অন্যরকম আবেদন দেখা যায়। সাঙ্গু নদীর পাশে গড়ে ওঠা পাহাড়ের সারি নিয়ে বান্দরবান মেঘকে মাথায় নিয়ে পর্যটকদের যেনো হাতছানি দেয় প্রতি মুহূর্ত। আদিবাসী বোমাং রাজার বাড়ি হতে শুরু করে জাদির পাহাড়ের চূড়ার স্বর্ণ মন্দির, মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সের হ্রদ, নীলাচল, নীলগিরি, ঝুলন্ত সেতু ও ছোট চিড়িয়াখানা, শৈল প্রপাত, চিম্বুক পাহাড়, আদিবাসীদ গ্রাম, ভ্রাম্যমাণ বাজার ইত্যাদি সমস্ত কিছুই বান্দরবানকে ভ্রমণের দিক থেকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে তেমনি বাংলাদেশের সকল স্থান থেকে করেছে এক অনন্য স্থান।

রাঙ্গামাটি

রাঙ্গামাটির কথা মনে জলেই সেই গানের কথা মনে পড়ে। ‘রাঙ্গামাটির পথে লো, মাদল বাজে – বাজে বাঁশের বাঁশি’। মাদল ও বাঁশির সুরে ঘেরা রাঙ্গামাটি বাংলাদেশের উপজাতিদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের জানান দিতে নিজ বুকে দাঁড় করিয়েছে উপজাতীয় জাদুঘর। জাদুঘরের কাছেই রয়েছে চাকমা রাজার বাড়ি এবং বৌদ্ধদের তীর্থস্থান রাজবন বিহার। তবে রাঙ্গামাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণই হলো ঝুলন্ত সেতু। সিম্বল অফ রাঙ্গামাটি খ্যাত ঝুলন্ত সেতু দেখার জন্য অসংখ্য মানুষ এখানে প্রতি বছর বেড়াতে ছুটে আসেন। কাপ্তাই হ্রদের তীরে রিজার্ভ বাজার এবং তবলাছড়ি বাজার নামে জনবহুল দুটি লোকাল বাজার দেখা যায়। এখান থেকেই নৌকায় করে শুভলং বাজারের দিকে গেলে শুভলং ঝর্নার দেখা পাওয়া যাবে। শীতকালে এই ঝর্না মনোরম এক পর্যায়ে না থাকলেও যাত্রা পথে পাহাড়ি আদিবাসী খাবারের স্বাদ নেবার জন্য নামকরা কিছু রেস্তোরাঁ পাবেন এখানে।

সুন্দরবন

শুধু পাহাড় বা সমুদ্র নয়, শীতকালে ঘুরার জন্য বনভূমিও আলাদাভাবে সৌন্দর্যপ্রেমীদের আকর্ষণ করে থাকে। ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যে জায়গা করে নেওয়া প্রায় ৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকার এই সুবিশাল ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলটি ওয়াইল্ড লাইফ প্রেমীদের কাছে যেনো এক স্বর্গের নাম। সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, বানর, কুমিরসহ নানা বৈচিত্র্যময় প্রাণীকুলের দেখা পাওয়া যাবে। ৩৩০ প্রজাতির ছোট বড় গাছের সাম্রাজ্য যেমন এই সুন্দরবনে কটকা, হিরনপয়েন্ট, কচিখালী, কোকিলমণি, দুবলার চর, পুটনি দ্বীপ এবং মান্দার বাড়িয়াসহ নানা দর্শনীয় স্থান রয়েছে। লঞ্চে করে গহীন বনে ভ্রমণ, গা ছমছমে এলাকায় বাঘের খোঁজে ভয়ে ভয়ে মাটিতে পা রাখা নিশ্চিতভাবে আপনার ভ্রমণকে আরও বাড়তি অ্যাডভেঞ্চারের যোগান দিবে তাতে সন্দেহ নেই।

বাগেরহাট

সুন্দরবন দেখতে গেলেই বাগেরহাট জেলাকে ভ্রমণ পরিকল্পনায় যুক্ত করে নেওয়া যায় অনায়াসে। বাগেরহাটে অবস্থিত প্রাচীন মসজিদের মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ, ৯ গম্বুজ মসজিদ, জিন্দাপীর মসজিদ, রণবিজয়পুর মসজিদ, সিংরা মসজিদ, চুনাখোলা মসজিদ ও হজরত খান জাহান আলীর সমাধিসৌধ ইত্যাদি। প্রাচীন ইতিহাসের পাশাপাশি এসব মসজিদের নির্মাণশৈলীও আপনার মনকে অভিভূত করবে।

এই শীতে কোন কোন স্থানে আপনি ভ্রমণে যেতে চান? আপনার পছন্দের গন্তব্যে যাওয়ার বিস্তারিত সকল তথ্য রয়েছে ভ্রমণ গাইডের তথ্য ভাণ্ডারে। সেই সঙ্গে আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন।

তথ্যসূত্র: https://vromonguide.com

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...