The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

৪৬০ কোটি মানুষের সম্পদ মাত্র ২ হাজার লোকের পকেটে!

বিশ্বজুড়ে নারীরা কোনো ধরনের পারিশ্রমিক কিংবা স্বীকৃতি ছাড়াই প্রতিদিন মোট ১ হাজার ২৫০ কোটি ঘণ্টা কাজ করে থাকে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ খবরটি ছোট্ট কিন্তু এর পরিধি ব্যাপক। মাত্র ২ হাজার ১৫৩ জন লোকের পকেটে রয়েছে বিশ্বের ৪৬০ কোটি মানুষের মোট অর্থের চেয়েও বেশি অর্থ!

৪৬০ কোটি মানুষের সম্পদ মাত্র ২ হাজার লোকের পকেটে! 1

২০১৯ সালের এই তথ্যটি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম থেকে। সম্প্রতি ‘টাইম টু কেয়ার’ নামে এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয় যে, বিশ্বজুড়ে নারীরা কোনো ধরনের পারিশ্রমিক কিংবা স্বীকৃতি ছাড়াই প্রতিদিন মোট ১ হাজার ২৫০ কোটি ঘণ্টা কাজ করে থাকে। নারীদের মজুরিহীন সেবার ক্ষেত্রে গত এক বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে অন্তত ১০ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার মূল্য যোগ করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রযুক্তি খাতের অবদানের প্রায় তিনগুণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অক্সফাম ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী অমিতাভ বেহার বলেন, ‘আমাদের জন্য এটা বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যে, অর্থনীতির লুকানো ইঞ্জিন হলো নারীদের অবৈতনিক এসব কাজ। এটা পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়।’

অমিতাভ বেহার বিশ্ব অর্থনীতির অসাম্যের মাত্রা দৃষ্টিগোচর করার জন্য বুচু দেবী নামে ভারতীয় জনৈক নারীর জীবন তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, বুচু দেবী প্রতিদিন ১৬ হতে ১৭ ঘণ্টা কাজ করেন। তিনি হেঁটে হেঁটে ৩ কিলোমিটার দূরে গিয়ে সেখান থেকে পানি নিয়ে আসেন। তারপর তিনি রান্না করেন, ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করে দেন এবং নিম্নমজুরির একটি কাজও করেন।

অক্সফামের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অপরদিকে দাভোসে জমায়েত হওয়া বিলিওনিয়াররা তাদের ব্যক্তিগত বিমান, ব্যক্তিগত জেট এবং বিলাসবহুল জীবনধারা নিয়ে রয়েছেন।’

অমিতাভ বেহার বলেন, ‘এই বুচু দেবী শুধু একজন তা কিন্তু নয়। ভারতে প্রায় প্রতিদিন এই ধরনের নারীদের সঙ্গে আমার দেখা হয়, পুরো বিশ্বজুড়েই এই একই রকম গল্প। আমাদের এটি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। নিশ্চিতভাবে এই বিলিওনিয়ারের বাড়বাড়ন্তেরও ইতি ঘটানো প্রয়োজন।’

এর প্রতিকারের জন্য ধনীদের কর দেওয়া সরকারগুলোর নিশ্চিত করা উচিত বলেও মনে করেন বেহার। ওই করের টাকা বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং উন্নতমানের স্কুলের মতো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা উচিত বলেও মনে করেন অমিতাভ বেহার।

বেহার আরও বলেন, ‘বিশ্বের দিকে তাকিয়ে দেখুন, ৩০টিরও বেশি দেশে এর প্রতিবাদ হচ্ছে। মানুষজন রাস্তায় নেমে এসেছেন। আসলে তারা কী বলছেন? তারা এই বৈষম্যকে আর মেনে নেবেন না, তারা এই ধরনের পরিস্থিতিতে আর জীবনযাপনও করতে চান না বলে প্রতিবাদ করছেন।

Loading...