The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

সন্তানের জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী এক পাখির গল্প!

ওই অতিরিক্ত ভারী শরীর বাবা বহন করে নিয়ে আসে অন্তত ৬০ মাইল!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আজ রয়েছে সন্তানের জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী এক পাখির গল্প। পাখিদের জীবনযাপন থেকে নেওয়া হয়েছে এমন একটি ঘটনা। সেই পাখি প্রজাতিটির নাম স্যান্ডগ্রাউস।

সন্তানের জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী এক পাখির গল্প! 1

এই পাখিগুলো বসবাস করে আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিতে, কখনওবা কালাহারি মরুভূমিতেও। সেখানে আকাশ থাকে সবসময় ঝকঝকে, মেঘমুক্ত এবং রুক্ষ। ওই এলাকায় বৃষ্টি হয় অনেক দিন পর পর। তার অর্থ বুঝতেই পারছেন গরম সেখানে ঠিক কতোখানি।

কখনও কখনও দীর্ঘসময় ধরে প্রবাহিত হয় লু হাওয়া (অর্থাৎ গায়ের ত্বক জ্বালা করানোর মতো গরম বাতাওস)। আবার অনাবৃষ্টির কারণে পানিও পাওয়া যায় না সহসা কোথাও। মা স্যান্ডগ্রাউস যখন ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলে তখন দরকার হয় পানির। তবে শিকারি প্রাণির আনাগোনা ও তীব্র রোদ হতে বাঁচাতে মা স্যান্ডগ্রাউসকে তার দুই ডানা দিয়ে ঢেকে রাখতে হয় ওই ছানাগুলোকে।

ওদিকে বাবা স্যান্ডগ্রাউস পাখিরা দলবেঁধে উড়ে বেড়ায় জলাশয়ের খোঁজে। এই দীর্ঘপথে কখনও কখনও বাজপাখিদের সঙ্গে যুদ্ধে অনেক বাবা স্যান্ডগ্রাউস মারাও পড়েন অনেক সময়। তারপরও যে কয়টি বাবা স্যান্ডগ্রাউস বেঁচে থাকে, তারা পানির কাছে গিয়ে তৃপ্তি ভরে প্রথমে নিজেরা পানি পান করে। তারপর নিজেদের পালকের ভেতরে ছানাদের জন্যে পানি ভরে শুরু করে উড়াল দেওয়া!

ওই অতিরিক্ত ভারী শরীর বাবা বহন করে নিয়ে আসে অন্তত ৬০ মাইল! বাবা পানি নিয়ে আসলে বাবার বুকের পালকের ভেতরে মুখ ঢুকিয়ে পানি পান করতে থাকে ছোট্ট ছোট্ট ছানারা।

এভাবেই ছানা জন্মের পর দু’মাস পর্যন্ত তাদেরকে পানি পান করানোর মতো কঠিন কাজটিই মা ও বাবা স্যান্ডগ্রাউস করে খুব আনন্দের সঙ্গে। কারণ হলো, চোখের সামনে ছানাদের বেড়ে ওঠা দেখতে দেখতে তাদের চোখ যেনো জুড়িয়ে যায়।

কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়াটা মোটেও খুব সহজ নয় কোনও দিক দিয়েই। প্রচুর সময় সাপেক্ষও ব্যাপার। গস বাজপাখি, যারা মূলত এই স্যান্ডগ্রাউসের শিকার করে থাকেন, তারা তখন এসে হামলা করতে থাকে স্যান্ডগ্রাউসের উপর। ঠোকরাতে থাকে তাদের। এর মধ্যে ছিঁড়ে খায় তাদের শরীর!

তবুও বার বার প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই নিজের পালকের ভেতরে পানি ভরতে থাকে বাবা স্যান্ডগ্রাউস। যতো বেশি পানি নেওয়া যায় ততোই ভালো। এইদিকে শিকারির দল শিকারের সন্ধানে ওত পেতে বসে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও শুধুমাত্র সন্তানের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার উদ্দেশ্যেই প্রাণের বলি দিতেও রাজি মা-বাবা!

প্রতিদিন যে কতো স্যান্ডগ্রাউসের মৃত্যু ঘটে এই পানি আনতে গিয়ে, আর তার সঙ্গে মৃত্যু ঘটে তাদের সন্তানের এমনকি তাদের পরিবারেরও। সেসব পারোয়া না করেও প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে স্যান্ডগ্রাউসের বাবারা পৌঁছে যায় পানি আনতে বহু দূরে। এই ধরণের ছোট ছোট উদাহরণ বার বার চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয় যে, মা-বাবার তুলনা শুধু মা-বাবাই!

ওইসব পাখি তাদের ছানাদের জন্যে যা করে, তারচেয়ে কতো গুণ বেশি করে মানুষরা তাদের সন্তানের জন্যে। এই করার মধ্যে থাকে আনন্দ, তৃপ্তি ও অন্য রকম এক সুখ।

আজ পর্যন্ত মনে হয় আমরা এমন মা-কে খুঁজে পাইনি, যিনি কোনও মজার খাবার নিজে আগে খান, সন্তানদের কথা না ভেবেই। বরং একটু টেস্ট করে যদি দেখেন যে, খাবারটি খুব ভালো হয়েছে। নিজের ভাগেরটাও তখন রেখে দেন সন্তানদের জন্যেই। শুধু নিজের সন্তান, পরিজনই নয়; প্রতিবেশি, বন্ধুবান্ধব, এমনকি অজানা অচেনা মানুষের জন্যেও মানুষ কখনও কখনও অনেক কিছুই করে থাকেন।

Loading...