The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

এক যুবতী মাছ খেয়েই হয়ে গেলেন বৃদ্ধা!

২৩ বছরের ওই তরুণীকে দেখলে মনে হবে যেনো ৭৩ বছরের বৃদ্ধা!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মাঝে মধ্যেই কিছু খবর আমাদের বিস্মিত করে। যেমন করেছে এক যুবতী। তিনি নাকি মাছ খেয়েই হয়ে গেছেন বৃদ্ধা! আসলে বাস্তবে কী কখনও এমনটি হতে পারে?

এক যুবতী মাছ খেয়েই হয়ে গেলেন বৃদ্ধা! 1

আমরা সবাই জানি মাছ খেলে স্বাস্থ্য আরও ভালো থাকে। মাছ খেলে ত্বক ও মস্তিষ্কের আরও উন্নতি ঘটে। তবে এই মাছ খেয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই এক যুবতী হয়ে গেছেন বৃদ্ধা। তরতাজা ফুটফুটে চেহারায় এখন যেনো বৃদ্ধার ছাপ, মুখভর্তি ভাঁজ, ঝুলে পড়া চামড়া…২৩ বছরের ওই তরুণীকে দেখলে মনে হবে যেনো ৭৩ বছরের বৃদ্ধা!

সম্প্রতি অবিশ্বাস্য এই ঘটনাটি ঘটেছে ভিয়েতনামে। প্রতিদিনের মতোই এক মধ্যাহ্নভোজনে মাছ খেলেন ২৩ বছর বয়সী গৃহবধূ থি ফুয়ং। এরপরই ওই তরুণীর শরীরে শুরু হলো অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন। এমনই এক অ্যালার্জি, যার জেরে রাতারাতি তরুণী হতে বৃদ্ধায় পরিণত হলেন থি ফুয়ং।

২০০৮ সালের কোন এক দিন থি ফুয়ং খেয়েছেন মাছ, তারপর হতেই বুড়িয়ে যেতে থাকেন ২৩ বছর বয়সী ওই টগবগে তরুণী। দীর্ঘ ১২ বছরেও মেলেনি এর কোনো সমাধান। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে তার জীবনে। উপায়ান্ত না পেয়ে সম্প্রতি ভিয়েতনামের মেকং ডেলটা অঞ্চলের বেন ট্রি এলাকার বাসিন্দা থি ফুয়ং এবং তার স্বামী থান টুয়েন সাহায্য চেয়ে পুরো ঘটনাটি মিডিয়ার সাহায্যে প্রকাশ্যে এসেছেন।

থি ফুয়ং-এর বিয়ে হয় ২০০৬ সালে। সেই ছবি দেখে এখন যেনো ভেঙে পড়েন থি ফুয়ং। মিডিয়ার কাছে তিনি বলেছেন যে, মাছ খাওয়ার পর প্রথমে তার গোটা শরীর চুলকাতে শুরু করে। তখন স্থানীয় একটি ওষুধের দোকান থেকে অ্যালার্জির ওষুধ কিনে খান তিনি। তারপর বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর তার স্বামী তাকে একজন বুড়ি হিসেবে দেখতে পান তাকে। প্রথমে তিনি ঘাবড়ে যান। তবে পরে কণ্ঠ শুনে বুঝতে পারেন তিনিই তার স্ত্রী।

পরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে গেছেন ওই দম্পতি। শেষ পর্যন্ত তারা চীন শহরে যান ডাক্তার দেখাতে। চীনের চিকিৎসকরা জানান, তারা যে মাছ খেয়েছিলেন তাতে এক ধরনের মারাত্মক বিষ ছিল। সেই বিষক্রিয়ায় তার এমন অবস্থা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এ রোগের জন্য তাকে অনেক দামী দামী ওষুধ খেতে হবে। শেষ পর্যন্ত স্বামী তার প্রায় সব সম্পদ বিক্রি করে স্ত্রীর জন্য সেইসব ওষুধ কেনেন। তবে তাতেও কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

থি ফুয়ং-এর এই জটিলতাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় লাইপোডিসট্রফি। এটি এমন একটি অসুখ যেখানে ত্বকের নীচে পুরু ফ্যাটি টিস্যুর স্তর সৃষ্টি হয়। এই সিনড্রোমের কোনো চিকিৎসা বিশ্বে এখন পর্যন্ত নেই বললেই চলে। এই অসুখে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চামড়া ঝুলে যায়, গোটা শরীরই বুড়িয়ে যায়। মারাত্মক বিরল এই অসুখটি। গবেষণা বলছে যে, গোটা বিশ্বে মাত্র ২ হাজার মানুষ এই অসুখে আক্রান্ত আছেন।

তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল

Loading...