The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

সেই নির্ভয়ার ধর্ষক-হত্যাকারীদের ফাঁসি ৩ মার্চ

তবে আইনজীবী মহল এই দিনক্ষণ নিয়ে মোটেও নিশ্চিত নন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দুই দুইবার দিনক্ষণ নির্ধারণ করেও আইনি জটিলতার কারণে ভারতে নির্ভয়া ধর্ষণ-হত্যাকাণ্ডের দণ্ডিত চার আসামীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়নি। তবে নতুন করে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট।

সেই নির্ভয়ার ধর্ষক-হত্যাকারীদের ফাঁসি ৩ মার্চ 1

দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট এর বিচারকের নির্দেশ, আগামী ৩ মার্চ সকাল ৬টায় তিহার কারাগারে চার আসামীর ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।

তবে আইনজীবী মহল এই দিনক্ষণ নিয়ে মোটেও নিশ্চিত নন। কারণ হলো, পবন গুপ্তের হাতে এখনও দুটি আইনি বিকল্প রয়ে গেছে। তাছাড়া সব আইনি প্রক্রিয়ার পরও ১৪ দিন সময় দিতে হয় ফাঁসির জন্য। সেই হিসেবে পবনের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে ২ দিনের মধ্যে। পবন এই দুদিনের মধ্যেই আবেদন করবেন কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

২০১২ সালে দিল্লিতে প্যারামেডিক্যাল ছাত্রী নির্ভয়াকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ এবং নৃশংস অত্যাচারের পর খুনের ঘটনায় চার দণ্ডিত মুকেশ সিং, বিনয় শর্মা, অক্ষয় ঠাকুর ও পবন গুপ্তর ফাঁসির আদেশ দেয় দেশটির নিম্ন আদালত।

এরপর থেকেই দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে আসছে। পবন গুপ্ত ছাড়া ইতিমধ্যেই তিনজন তাদের সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ করে ফেলেছেন। সর্বশেষ প্রাণ ভিক্ষার আর্জিও খারিজ করে দেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

গতকাল (সোমবার) আদালতে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছে তিহার জেল কর্তৃপক্ষ। পবন গুপ্তের হাতে এখনও রায় সংশোধনের আর্জি (কিউরেটিভ পিটিশন) ও রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানানোর মতো বিকল্প থাকলেও তারও কোনো আবেদন কোথাও আটকে নেই বলেও জানিয়েছে জেল কর্তৃপক্ষের আইনজীবীরা।

জেল কর্তৃপক্ষের আইনজীবীদের এমন বক্তব্যের পরই বিচারক তৃতীয় বারের জন্য মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন। এর দণ্ডিতদের ফাঁসির দিনক্ষণ নির্ধারিত করে দু দুবার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। প্রথম পরোয়ানায় ফাঁসি কার্যকরের তারিখ ছিল গত ২২ জানুয়ারি। তারপর দ্বিতীয় পরোয়ানায় সেই তারিখ ছিল গত ১ ফেব্রুয়ারি।

তবে ইতিমধ্যেই সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় গত ৩১ জানুয়ারি পাতিয়ালা হাউস কোর্ট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। সেই স্থগিতাদেশ তুলে নতুন মৃত্যু পরোয়ানা জারির আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে যায় কেন্দ্র এবং দিল্লির রাজ্য সরকার।

দিল্লি হাইকোর্ট গত ৫ ফেব্রুয়ারি জানিয়ে দেন যে, ৭ দিনের মধ্যে অপরাধীদের সব আইনি প্রক্রিয়া অবশ্যই শেষ করতে হবে। তারপরও মৃত্যু পরোয়ানার আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয় সরকার পক্ষ।

গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের দেওয়া সময়সীমা শেষের পর শীর্ষ আদালত জানিয়েছে যে, নিম্ন আদালতে এবার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করতে আর কোনো রকম বাধা নেই। সুপ্রিম কোর্টের কথামতো পাতিয়ালা হাউস কোর্টে মৃত্যু পরোয়ানার আর্জি জানিয়েছিলো সরকার পক্ষ। তারপরই গতকাল (সোমবার) চার আসামীর ফাঁসি কার্যকর করার এই রায় দিলেন আদালত।

অনলাইন প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, গতকাল (সোমবার) রায় ঘোষণার পর নির্ভয়ার মা এ নিয়ে তার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘নতুন করে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করায় আমি খুশি হয়েছি। তবে ৩ মার্চ ফাঁসি কার্যকর হলে আরও বেশি খুশি হবো। নির্ভয়ার বাবা বলেন, ‘ফাঁসির রায় কার্যকর হলে দেশে অপরাধের সংখ্যা কমে আসবে।’

Loading...