The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

করোনা ভাইরাসের কারণে হালাল খাবারে ঝুঁকছে বিশ্ব

যে মানুষগুলো কুকুর, বিড়াল, বাদুড়, ইদুর, সেদ্ধ, আধা সেদ্ধ বা কাঁচা সবকিছুই গপাগপ খেয়ে সাবাড় করতো, সেও এখন কিছু মুখে তোলার আগে দুবার ভাবছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ যুদ্ধ, দাঙ্গা-হাঙ্গামার ভয় বাদ দিয়ে পুরো বিশ্ব যেনো কাঁপছে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে। চীনের মাত্র একটা প্রদেশে প্রায় দেড় হাজার খানেক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া করোনা গোটা বিশ্বের মানুষের জীবন-যাপনের ধরন, খাদ্যাভ্যাস সবকিছুই যেনো বদলে দিচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে হালাল খাবারে ঝুঁকছে বিশ্ব 1

যে মানুষগুলো কুকুর, বিড়াল, বাদুড়, ইদুর, সেদ্ধ, আধা সেদ্ধ বা কাঁচা সবকিছুই গপাগপ খেয়ে সাবাড় করতো, সেও এখন কিছু মুখে তোলার আগে দুবার ভাবছে যে খাবারটা আসলেও স্বাস্থ্যকর কিনা। এমনকি করোনার আতঙ্কে অনেকেই ছাড়তে বসেছেন চাইনিজ খাবার।

করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়েছে চীনাদের খাদ্যাভ্যাসগুলো। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখানো হচ্ছে যে, চীনারা সর্বভুক বলেই তারা ভয়ঙ্কর করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি বিষয় হলো, হালাল খাবার খাওয়ার কারণে উইঘুরসহ চীনা মুসলিমদের করোনা স্পর্শ করতেও পারছে না। সেজন্য ভয় পেয়ে অনেকেই অস্বাস্থ্যকর জীবজন্তুর মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়ে হালাল খাবারে আকৃষ্ট হচ্ছেন।

বিজ্ঞান বলছে যে, অস্বাভাবিক যতো রকম খাওয়া দাওয়া সেখান থেকেই ভয়াবহ সব অসুখগুলো ছড়িয়ে থাকে। চীনের উহান শহরের একটি বন্য ও সামুদ্রিক প্রাণীর বাজার থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। করোনার আঁতুড়ঘর বলে পরিচিত সেই বাজারটি করোনা মহামারি আকার ধারণ করার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে চীনের প্রায় সব প্রদেশেই অস্বাস্থ্যকর পশু পাখি খাওয়াও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের অন্য দেশগুলোরও একই অবস্থা হয়েছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি বাজার গবেষণায় দেখা গেছে যে, করোনা ছড়ানোর পর গোটা বিশ্বেই পশু পাখি খাওয়ার হার প্রায় অর্ধেক নিচে নেমে এসেছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশের রেস্টুরেন্টেই কয়েক মাস আগেও চাহিদার শীর্ষে ছিল চাইনিজ খাদ্য। অথচ এখন মানুষ চাইনিজ খাবার হতে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও চাইনিজ খাবার ভীতি জেঁকে বসেছে। এর বদলে রেস্টুরেন্টপ্রেমীরা বেছে নিচ্ছে নিজেদের দেশের ছোলা বাটোরা কিংবা দোসা। অনেক রেস্টুরেন্ট ও ফুড শপ আবার প্রবেশ পথের সামনে বড় করে হালাল খাবারের বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতা আকৃষ্টে করার চেষ্টাও করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হালাল বা হারাম খাবার নয়, প্রত্যেকটা মানুষের জন্য যেটা দরকার সেটা হলো স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। সব প্রাণীর মাংসই স্বাস্থ্যকর নয়। তাছাড়াও মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাটাও অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। মাংসটা ঠিকভাবে কাটা হয়েছে কিনা, অস্বাস্থ্যকর অংশগুলো ফেলে দেওয়া হয়েছে কিনা সেটি নিশ্চিত হয়েই খাবার রান্না করা উচিৎ। রান্নার ক্ষেত্রে খাবারটা সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধ হওয়াটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ আধাসিদ্ধ বা কাঁচা খাবারে জীবানু থেকে যেতে পারে। এই বিষয়গুলোই হালাল খাবার ও স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে একটা যোগসূত্র তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

চীনের উইঘুর মুসলিমরা করোনায় আক্রান্ত না হওয়া সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মুসলিমরা অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত নয় বলেই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন না এ কথাটা মোটেও ভুল নয়। তবে এটাও সত্য যে, চীনের হুবেই প্রদেশের বাইরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম। সে জন্যেও উইঘুররা হয়তো এখন পর্যন্ত সুস্থ রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, সব খাবারে আতঙ্কিত হওয়াটা যেমন যৌক্তিক কোনো কারণ নয়। ঠিক তেমনি, সর্বভুকের মতো সব খাবার হাপুস হুপুস খাওয়াটাও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। মোট কথা অস্বাভাবিক যেকোনো খাদ্যাভাসই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। সেটি ভয়াবহ কোনো ভাইরাসের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, ঠিক তেমনি অন্য যেকোনো ধরনের অসুখের জন্যও এই বিষয়টি মেনে চলা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

Loading...