The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

সৌদী রাজপরিবারে ধড়পাকড় কেনো?

সৌদী সিংহাসনের অন্যতম প্রাক্তন দাবিদার ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনকারী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফকেও গত শুক্রবার আটক করা হয়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শনিবার সৌদী রাজ পরিবারের ৪র্থ প্রবীণ সদস্য এবং সৌদী সিংহাসনের প্রাক্তন দাবিদার যুবরাজ আহমেদকে আটকের মধ্যদিয়ে সৌদী রাজপরিবারে আটকাভিযান সম্প্রসারিত হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

সৌদী রাজপরিবারে ধড়পাকড় কেনো? 1

যুবরাজ আহমেদ বিদেশে পাখি শিকারের প্রমোদ ভ্রমণ হতে ফিরে আসার ঠিক কয়েকদিন পরই এই সপ্তাহে নতুন আটকাভিযানের ধাক্কা আসে। এই সময় তার পুত্র যুবরাজ নায়েফ তার সঙ্গে ছিলেন বলে পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি শনিবার বিষয়টি জানিয়েছেন।

সৌদী সিংহাসনের অন্যতম প্রাক্তন দাবিদার ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনকারী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফকেও গত শুক্রবার আটক করা হয়। ২০১৭ সালে যুবরাজ সালমান তাকে পূর্বের পদ হতে সরিয়ে দেওয়ার পর বিন নায়েফকে গৃহবন্দি করা হয়। তার ছোট ভাই যুবরাজ নওয়াফ বিন নায়েফকেও দেশটির নিরাপত্তারক্ষীরা আটক করে। পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের মতে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইতিমধ্যে তার বৃদ্ধ পিতা বাদশাহ সালমানের নামে রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত শাসক হিসাবে তার ক্ষমতা একীভূত করছেন। তবে নতুন আটকাভিযান প্রমাণ করেছে যে যুবরাজ মোহাম্মদ বাদশাহ হওয়ার পথে সম্ভাব্য বাধা নির্মূলে কতোটা কঠোরভাবে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করতে পারেন।

পরিবারের আটককৃত সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ প্রিন্স আহমেদ বিন আব্দুল আজিজ, যুবরাজ নায়েফের পিতা ও বাদশাহ সালমানের সর্বশেষ জীবিত আপন ভাই। পিতা ও পুত্র উভয়ের গ্রেফতারই রাজপরিবারকে হতবাক করেছে। কারণ হলো যুবরাজ আহমেদের সঙ্গে বাদশাহের এতোদিনের ঘনিষ্ঠতা তাকে পরিবারের সদস্যদের প্রতি যুবরাজের রোষ হতে রক্ষা করে এসেছে।

একের পর এক আটকের ঘটনা রাজপরিবারের মধ্য হতে সিংহাসন দখলের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে যুবরাজ মোহাম্মদের ভয়কে মূলত স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনি সম্ভবত তার পিতার কাছ থেকে সম্পূর্ণ ক্ষমতা অধিগ্রহণের পথে সমস্ত বিরোধীদের নির্মূল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।

এই বিষয়ে রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ দুই সউদী জানিয়েছেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার বিরুদ্ধাচারণের গুজব পর্যন্ত মুছে দিতে সংকল্পবদ্ধ হয়েছেন। তারা জোর দিয়ে বলেন যে, যুবরাজ মোহাম্মদ তার বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের খুব একটা ভয় পান না। এর কারণ হলো তিনি ইতিমধ্যেই সামরিক, অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা বাহিনী ও জাতীয় রক্ষী সহ রাজ্যের অভ্যন্তরের সমস্ত ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করেন।

ওয়াশিংটন ডিসির আরব গাল্ফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিন স্মিথ দিওয়ান বলেছেন যে, অবাক হওয়ার একটি বিষয় হলো যে বাদশাহ থাকতেও তিনি যুবরাজ আহমেদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন।

তবে রাজদরবারের নিকটে থাকা যুবরাজ মোহাম্মদের দু’জন সমর্থক শনিবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, তিনি পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে অবিশ্বস্ত থাকা সদস্যদের প্রতি চরমভাবে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছেন।

‘দেখে মনে হচ্ছে এমবিএস সমস্ত প্রতিদ্বন্দীকে নির্মূল করে দিচ্ছে’, হবু সউদী বাদশাহের নামের সংক্ষিপ্ত অংশ ব্যবহার করে মন্তব্য করেন রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্টিফেনস। তিনি আরও বলেন, ‘তবে বিশ্বের কাছে তার কার্যকলাপের যথার্থতা প্রমাণ করা কঠিওন হতে পারে।’ ‘সমস্যাটি হলে খাশোগি হত্যাকান্ডের পর হতে সউদী আরব রাজ্যের প্রতি আস্থা খুব কম। সরকারি বর্ণনা কেও বিশ্বাস করবে না।’

ইতিপূর্বে সিংহাসনের উপর নিজের দখল পোক্ত করার জন্য যুবরাজ মোহাম্মদ বিশাল রাজপরিবারে একাধিকবার তার বিশেষাধিকার বলে ফাটল ধরিয়েছেন ও তিনি রাজ্যের আধুনিক ইতিহাসে নজিরবিহীন এবং নির্মম পদক্ষেপের একটি অব্যাহত উদাহরণ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

২০১৬ সালে যুবরাজ ঘোষণার পর হতে মোহাম্মদ বিন সালমানকে অঘোষিত শাসক বলে মনে করা হয়ে থাকে। ২০১৭ সালে সউদী রাজপরিবারের অনেক সদস্য, মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীকে রিয়াদের রিৎস-কার্লটন হোটেলে আটকে রাখা হয়েছিলো, কারণ হলো সউদী যুবরাজ তাদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার অংশ হিসাবেই তারা তাদের অধিকৃত বিশাল সম্পদের অর্থ ফেরত দেবেন।

তিনি ইয়েমেনে ৫ বছরের সামরিক হস্তক্ষেপের নেতৃত্বও দিয়েছিলেন যা কোনও বিজয়ের রেশ ছাড়াই বিশ্বের সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিলো। সউদী আরবের বাইরে, যুবরাজ ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলের সউদী কনস্যুলেটে সউদী এজেন্টদের দ্বারা জামাল খাশোগি নামে একজন বিরোধীতাকারী এবং ওয়াশিংটন পোস্ট কলামিস্টকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত হয়ে পড়েন। ওই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টান পড়ে সৌদির। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে সৌদি আরবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার পাঁয়তারা হিসেবে অনেক কিছুই করা হচ্ছে, যা বিশ্ববাসীও বুঝছেন। তবে কেও কোনো কথা বলছেন না সৌদির আভ্যন্তরীণ বিষয় বলে। তবে সব জবরদোস্ত ক্ষমতায় এক সময় বিলীন হবে সেটিই দুনিয়ার নিয়ম।

Loading...