The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

করোনা মোকাবিলায় বিশ্বের যতো লকডাউন

ছোঁয়াচে হওয়ায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষকে ঘরে অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে চীন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রাণঘাতি ভাইরাস করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বিস্তার রোধে ভারতে ৮০টি শহর করোনার কারণে লক ডাউন করা হয়েছে। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের আরও অনেকগুলো দেশ লকডাউন করা হয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় বিশ্বের যতো লকডাউন 1

ভারতের তালিকায় রয়েছে দিল্লি, মুম্বাই, কোলকাতার মতো ব্যাপক জনবহুল শহরগুলো। এর আগে করোনার বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে নেওয়া হয় একই পদক্ষেপ।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর হতে প্রথম ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। ছোঁয়াচে হওয়ায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষকে ঘরে অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে চীন।

এই উদ্দেশ্যেই ২৩ জানুয়ারি উহানসহ প্রদেশের আরও ১৬টি শহরের ৫ কোটির বেশি বাসিন্দাকে লকডাউন করে দেয় চীন সরকার। যা কার্যকর করতে বসানো হয় সেনা চৌকি। লকডাউন চলে টানা দেড় মাস ধরে। এই পদক্ষেপকে বিস্ময়কর বলে উল্লেখ করেন খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চীনের প্রতিনিধিও।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চীনা প্রতিনিধি ড. গউডেন গ্যালিয়ে বলেন, এটি জনস্বাস্থ্যর ইতিহাসে প্রথম একটি ঘটনা। ১ কোটি ১০ লাখ লোকের প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া মোটেও সহজ ছিলো না।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চীন বহু মানুষকে সংক্রমণের হাত হতে বাঁচিয়েছে বলে মত দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। চীনের পর ২১ ফেব্রুয়ারি ছোট পরিসরে শুরু করে ধীরে ধীরে ১০ মার্চে পুরো দেশই লকডাউন করে দেয় ইতালি। এতে অবরুদ্ধ রয়েছেন প্রায় ৬ কোটি মানুষ। তবে খোলা রাখা হয়েছে খাদ্যপণ্য এবং ওষুধের দোকান। নিয়ম না মানলে করা হচ্ছে জেল-জরিমানা।

১৫ মার্চ হতে ১৫ দিনের জন্য ৬ কোটি ৭০ লাখ বাসিন্দাকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেয় ফ্রান্স। নির্দেশ না মানলেই করা হচ্ছে জেল-জরিমানা। একইভাবে স্পেনও প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে লকডাউন করেছে।

জার্মানিতে পরিবারের সদস্য ছাড়া দুইজনের বেশি বাসিন্দার একসঙ্গে চলাচল একেবারে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই নিয়ম ভাঙলে বড় অঙ্কের জরিমানাও হবে বলে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়।

যুক্তরাজ্যে তিন সপ্তাহের জন্য লকডাউনের ঘোষণা দেয় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। জনগণকে জোর করে অবরুদ্ধ রাখার জন্য পুলিশ কাজও করে যাবে। ইতিমধ্যেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

অপরদিকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনাও লকডাউন শুরু করেছে। অস্ট্রেলিয়া সব দোকানপাটের পাশাপাশি বন্ধ করে দিয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। এছাড়াও করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে লকডাউন। বাংলাদেশেও আনুষ্ঠানিকভাবে লকডাউন ঘোষণা করা না হলেও কার্যত ‌লকডাউন চলছে। কারণ বাস, ট্রেন, লঞ্চ সব কিছুই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি বেসরকারি অফিস আদালতও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

Loading...