The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

করোনার উৎপত্তিস্থল চীনের উহান হতে লকডাউন প্রত্যাহার

২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষদিকে ওই শহর হতেই প্রথম এই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব শুরু হলে গত ২৩ জানুয়ারি পুরো উহান লকডাউন ঘোষণা দেওয়া হয়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি নভেল করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ হুবেইয়ের রাজধানী উহান হতে লকডাউন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

করোনার উৎপত্তিস্থল চীনের উহান হতে লকডাউন প্রত্যাহার 1

২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষদিকে ওই শহর হতেই প্রথম এই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব শুরু হলে গত ২৩ জানুয়ারি পুরো উহান লকডাউন ঘোষণা দেওয়া হয়।

এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার ঠেকাতে গোটা বিশ্বে একের পর এক দেশ যখন লকডাউন করে দিচ্ছে তখন এর উৎপত্তিস্থল উহানে বুধবার মধ্যরাত হতে সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। মানুষ এখন সেখানে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন।

আজ হতে চীনের উহান শহর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে গেছে। ইতিপূর্বে রাজধানী উহান বাদে হুবেই প্রদেশে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে কর্তৃপক্ষ। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পরপরই বেইজিং কর্তৃপক্ষ শহরটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিরো। ঘরবন্দি করে রাখা হয় ১ কোটিরও বেশি মানুষকে।

উহানে আজ হতে ট্রেন, সড়কে চলাচলকারী সব ধরনের পরিবহন ও অন্যান্য রেল সংযোগ পুনরায় চালু করে দেওয়া হয়েছে। উহানের বাসিন্দারা বর্তমানে চাইলেই শহর ছেড়ে অন্য যে কোনো স্থানে যেতেও পারবেন। তবে হেলথ অ্যাপের যারা সবুজ সংকেত পাবেন সেসব সুস্থ বাসিন্দা এবং পর্যটকই চলাচল করতে পারবেন।

করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর প্রায় ১১ সপ্তাহ ধরে উহানের ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি বাসিন্দারা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পুরো উহান পরিণত হয়েছিল অচল ও ভূতুড়ে এক নগরী। বাইরের কেও শহরটিতে ঢুকতে পারতো না, আবার সেখান থেকেও কেও বাইরে যেতে পারেনি এতোদিন। বন্ধ হয়ে ছিল সব ধরনের যান চলাচল।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর চীনের মূল ভূখণ্ডে ৩ হাজার ৩০০ এর বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। এরমধ্যে বেশিরভাগই রাজধানী উহানসহ হুবেই প্রদেশের মানুষ। এছাড়াও প্রায় ৮২ হাজার কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ ৭৭ হাজারেরও বেশি। করোনা মোকাবিলায় চীন পুরোপুরি সফল বলেও মনে করা হচ্ছে।

এদিকে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর হতে প্রথমবারের মতো এই সংক্রমণে কোনো মৃত্যু ছাড়াই একটি দিন পার করার কথা জানায় চীন। দিনটি ছিল গত সোমবার। ওইদিন গোটা চীনে করোনা আক্রান্ত কেও মারা যাননি। তবে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা এখনও বাড়ছে। মূলত বিদেশফেরত এবং উপসর্গবিহীন রোগী বাড়তে থাকায় ফের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে চীনে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...