The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বনেতাদের যতো রাজনীতি!

হাসপাতালের ফেসমাস্ক চুরি হতে শুরু করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা ও জীবাণুযুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে এই ভাইরাস ব্যবহারের কথা- সব দাবিই শোনা যাচ্ছে রাজনীতিবিদদের মুখে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংকটের মধ্যে নানা রকম উদ্ভট তত্ত্ব বা দাবি অনলাইনে নিয়মিত ছড়াচ্ছে বিশ্বব্যাপি। এর মধ্যে আবার কিছু এসেছে বড় বড় রাজনৈতিক নেতার মুখ থেকেই।

করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বনেতাদের যতো রাজনীতি! 1

হাসপাতালের ফেসমাস্ক চুরি হতে শুরু করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা ও জীবাণুযুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে এই ভাইরাস ব্যবহারের কথা- সব দাবিই শোনা যাচ্ছে রাজনীতিবিদদের মুখে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পিছিয়ে নেই এ ক্ষেত্রে। শুরুতেই করোনা ভাইরাসকে তেমন একটা পাত্তাই দিতে চাননি তিনি, তবে পরে বলেন, এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েছে চীন। এই ভাইরাস বর্তমানে মহামারীতে পরিণত হয়েছে।

যখন ফেসমাস্কের চাহিদা বেড়ে গেলো, তখন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, নিউইয়র্কের হাসপাতালগুলো হতে বিপুলসংখ্যক সার্জিক্যাল মাস্ক চুরি হয়ে যাচ্ছে।

তিনি প্রশ্ন করেন যে, এতো মাস্ক কোথায় যাচ্ছে? এগুলো কী আসলে পেছনের দরজা দিয়ে অদৃশ্য হযে যাচ্ছে? তবে এমন বিপুলসংখ্যক মাস্ক চুরির কোনো প্রমাণই পাওয়া যায়নি।

বেশ কয়েকজন চীনা কর্মকর্তা বারবার বলার চেষ্টা করেছেন যে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সূচনা নাকি চীনে হয়নি। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজান বারবার এই কথায় বলেছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়াও বারবার এসব মিথ্যা দাবি তুলে ধরার চেষ্টা করে বলেছে যে, কোভিড-১৯ হয়তো সৃষ্টি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীই!

আরেকটি দাবি হলো, চীনের অনেক আগেই ইতালিতে এই ভাইরাসের সংক্রমণ হয়। তবে এ রকম দাবির সত্যতার পক্ষে কোনো প্রমাণই এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

বৈজ্ঞানিকরা একমত হয়েছেন যে, ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম বন্য প্রাণী থেকে করোনা ভাইরাস মানবদেহে সংক্রমিত হয়।

ইতালির জাতীয়তাবাদী নেতা মাত্তিও সালভিনি তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন যে, চীনই নাকি একটি ল্যাবরেটরিতে করোনা ভাইরাস সৃষ্টি করেছে।

যদিও বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত, কোভিড-১৯ মানুষের তৈরি কোনো ভাইরাসই নয়।

ভুয়া তথ্য প্রচারের জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারোর অনেক উক্তি সেন্সর করেছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্র্রাম, টুইটার ও ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়া।

এইসব পোস্টের একটিতে তিনি দাবি করেছিলেন যে, ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন সম্পূর্ণরূপে করোনার ভাইরাস সারাতে সক্ষম।

আসলে এই নিয়ে বিষদ পরীক্ষা হয়েছে, ওষুধটি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগও হচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে এর কার্যকারিতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

ভারতের একজন ঊর্ধ্বতন রাজনীতিবিদ সুব্রামানিয়াম স্বামী দাবি করেন যে, ভারতে যে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে সেটি এ ভাইরাসের একটি দুর্বল মিউটেশন ও মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একে কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে পারে।

সব ভাইরাসেরই মিউটেশন বা পরিবর্তন হয়ে থাকে, তবে বিজ্ঞানীরা এমন কোনো নমুনা এখনও পাননি যে কোভিড-১৯ কতোটা মারাত্মক হতে পারে। আসলে এই ব্যাপারে অনেক কিছুই এখনও মানুষের অজানা রয়ে গেছে।

এই কোভিড-১৯ আমাদের সবার জন্যই বিপদের কারণ হতে পারে। তবে তা অনলাইনে ভুয়া দাবি করে যে ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়াচ্ছে, তা ঠেকানো কঠিন ব্যাপার।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...