The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কাজ নাই বলে টাকাও নাই : খালেদা আক্তার কল্পনা

প্রায় ১০ বছর ধরেই অভিনয় থেকে দূরে আছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ঢাকাই সিনেমার জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম হলো খালেদা আক্তার কল্পনা। ৩৮ বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ৫ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। তবে ইচ্ছে থাকলেও দু:স্থদের সাহায্য করতে পারছেন না এই অভিনেত্রী।

কাজ নাই বলে টাকাও নাই : খালেদা আক্তার কল্পনা 1

প্রায় ১০ বছর ধরেই অভিনয় থেকে দূরে আছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা। অভিনয়ের জন্য এখন আর ডাক পড়ে না তেমন। অফুরন্ত অবসরে নাটক লিখেন ঘরে বসেই।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের এই দিনে ঘর থেকে যখন বের হওয়ার সুযোগ তার নেই, তখন কীভাবে কাটছে এই নন্দিত অভিনেত্রীর দিন? কেমন আছেন অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা? খোঁজ নিয়ে জানা যায় এখন ছেলের সংসারেই থাকেন তিনি। তার ছেলের বউ সন্তান সম্ভবা। সামনে মাসে হয়তো নাতি বা নাতনির মুখ দেখবেন তিনি। এক সময়ের পর্দা কাঁপানো এই অভিনেত্রী খোঁজ রাখে না কেওই। না, এ নিয়ে তার কারো প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। এই সময়ও চারপাশের মানুষকে নিয়েই ভাবেন তিনি।

খালেদা আক্তার কল্পনা একটি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘মানুষকে সহযোগিতা করার মতো আমার কোনো সামর্থ্য নাই। চোখের সমস্যা নিয়ে বেশ কিছুদিন ভুগছি। ভারতে গিয়ে চিকিৎসাও করিয়েছি। এখন কাজ নাই, তাই টাকাও নাই। তারপরও কিছু কিছু মানুষকে আমার পক্ষ হতে যতোটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। সেটা আমার আত্মীয় এবং পরিচিতদের মধ্যেই করেছি। আমার কষ্ট লাগছে আমি সেই ভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছি না তাই।’ এই প্রবীণ অভিনয় শিল্পী যারা মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, সহযোগিতা করছেন তাদের প্রতিও ভালোবাসা জানিয়েছেন।

খালেদা আক্তার কল্পনা আরও বলেন, ‘করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে ,আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। কতো লোক বেকার, টাকা-পয়সা নাই, কাজকর্মও নাই, খাওয়া নিয়ে চিন্তাই। ত্রাণ দিচ্ছে সরকার। এছাড়াও অনেক সচ্ছল ব্যক্তিরাই এগিয়ে এসেছেন, অসহায়দের পাশেও দাঁড়াচ্ছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। এসব দেখে খুবই ভালো লাগছে।

তবে যারা সহযোগিতা করছেন তারা আর কতোদিনইবা করতে পারবেন! আবার যারা সহযোগিতা নিচ্ছেন, কতোদিনই বা চলবে এসব খাবার দিয়ে তাদের। আবার অনেক মানুষ রয়েছেন তারা কারও কাছে চাইতেও পারছেন না; তাদের কী হবে? আবার অনেকেই আছে তারা চাইলেও বিশ্বাস করবে না কেও! লোকে বলবে, আপনারও সাহায্য দরকার? যারা চাইতে পারছে না তাদের জন্য আরও বেশি সমস্যা হচ্ছে।’

চিকিৎসক, পুলিশ, সেচ্ছ্বাসেবদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে খালেদা আক্তার কল্পনা বলেছেন, ‘আমাদের চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবকদল বা এরকম আরও যারা রয়েছেন। যারা জীবন বাজি রেখে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এগিয়ে আসছেন। সেসব করোনা যোদ্ধাদের অনেক অনেক শ্রদ্ধা জানাই। উনাদের প্রতি আমার অনেক ভালোবাসা রইলো। অনেক চিকিৎসকও আক্রান্ত হয়েছেন এই করোনায়। উনারা যেটা করছেন তার তুলনাই হয় না। মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছেন তারাই, উনাদের প্রতি অনেক অনেক ভালোবাসা।’

এখনো যারা সচেতন না হয়ে অযথা ঘোরাঘুরি করছেন বাইরে তাদের উদ্দেশ্যে খালেদা আক্তার কল্পনা বলেছেন, ‘যারা শিক্ষিত সচেতন তারাই নিয়ম মানছেন। আবার কোয়ারেন্টাইন মানছে না তাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। তারা তো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। এতো বলেও তো কাজ হচ্ছে না। যারা এলোমেলো ঘোরাঘুরি করছেন, তারা যদি কথা শুনতেন তাহলে ওদের জন্যই ভালো হতো, আমাদের জন্যও ভালো হতো। খুব তাড়াতাড়ি আমরা করোনা ভাইরাসের এই ভয়াবহতা হতে মুক্তি পেতে পারতাম।’

উল্লেখ্য যে, ১৯৮৪ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন কল্পনা। মিজানুর রহমানের ‘হনুমানের পাতাল বিজয়’ চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করলেও তার অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র হলো মতিন রহমানের ‘রাধাকৃষ্ণ’। নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত ‘জিনের বাদশা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...