The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

করোনার কারণে কী রোবট যুগে ধাবিত হচ্ছে মানব সভ্যতা?

করোনা ভাইরাসের মতো সংকট পৃথিবীতে এটাই শেষ নয়। সামনে এ রকম আরও সংকট আসছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে রোবটায়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এটাকে অনেকেই মানুষের জন্য আরেক বিপদ বলেও মনে করছেন।

করোনার কারণে কী রোবট যুগে ধাবিত হচ্ছে মানব সভ্যতা? 1

এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনা ভাইরাসের মতো সংকট পৃথিবীতে এটাই শেষ নয়। সামনে এ রকম আরও সংকট আসছে। তাই বলা যায় পৃথিবী ক্রমেই রোবট নির্ভর হয়ে উঠছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট বিশেষজ্ঞ মার্টিন ফোর্ড এই বিষয়ে বলেছেন, মানুষ স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের কাজের জন্য মানুষের সংস্পর্শ পছন্দ করে থাকেন। তবে করোনা সংক্রমণের কারণে মানুষের সেই পছন্দ বদলে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, করোনার থাবায় মানুষ মানুষের স্পর্শ এড়িয়ে স্বয়ংক্রিয় সবকিছুর দিকে কেবল আকৃষ্ট হচ্ছে। বড় ছোট সব সংস্থাগুলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য ও যাতে কম সংখ্যক কর্মী দিয়ে কাজ করানো যায়, তাই ভরসা রাখছেন রোবটের ওপর।

রোবট ব্যবহারের কারণে এই সময়ে কর্মীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণেরও সুযোগও নেই। অন্যদিক কম সময়ে বেশি কাজ করানোও সম্ভব।

বিবিসির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই সামাজিক দূরত্বের (সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং) চর্চা করতে গিয়ে রোবটের ব্যবহার বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করছে। এছাড়াও অফিসে এসে যে কর্মীদের কাজ করতে হয়, তাদের সংখ্যা কমানোর চেষ্টাও করছেন অনেকেই।

বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ব্রান্ড তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর ফ্লোর পরিষ্কারের জন্যও রোবট ব্যবহার করে আসছে অনেক দিন ধরেই। দক্ষিণ কোরিয়ায় তাপমাত্রা মাপার জন্য এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদান করার জন্যও রোবটের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়েছে সাম্প্রতিক সময়।

তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে পৃথিবীতে যে লকডাউন অবস্থা নেমে এসেছে, তা ২০২১ সালে পুরোটা সময় পর্যন্ত স্থায়ীও হতে পারে। যদিও ক্রমেই এই অবস্থা শিথিল হবে বলা যায়। তবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যাতে রোবটের চাহিদা আরও বাড়বে বই কমবে না।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...