The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মৃত বিড়ালের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত স্পেনে

প্রাণীজ এই ভাইরাসটি মানুষ ছাড়াও অন্য প্রাণীদেহে সংক্রমিত হওয়া সত্যিই অকল্পনীয়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কিছুদিন পূর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি বাঘের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। এবা মৃত বিড়ালের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত স্পেনে।

মৃত বিড়ালের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত স্পেনে 1

এই ঘটনার পর তৈরি হয় নতুন আতঙ্ক। তাই মানবদেহ বাদেও এই ভাইরাস অন্যান্য প্রাণীর শরীরে থাকতে পারে কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে গবেষকরা জোর দিয়েই বলেছেন, প্রাণীজ এই ভাইরাসটি মানুষ ছাড়াও অন্য প্রাণীদেহে সংক্রমিত হওয়া সত্যিই অকল্পনীয়। তাদের কাছে এ পর্যন্ত কোনো পোষা প্রাণী হতে মানুষের শরীরে এর সংক্রমণ হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এবার স্পেনের একটি বিড়ালের মৃত্যুর পর বাড়ছে জল্পনা। প্রায় এক সপ্তাহ পূর্বে বার্সেলোনার অ্যানিমেল হেলথ রিসার্চ সেন্টারের (ক্রেসা) বিশেষজ্ঞরা একটি বিড়ালের মরদেহ পান। পোষা প্রাণীটি এমন একটি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত যেখানে বেশ কয়েকজন সদস্যের কোভিড -১৯ এর পরীক্ষায় পজিটিভ ধরা পড়েছে।

শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল বিধায় পরিবারের পক্ষ হতে বিড়ালটিকে পশু চিকিৎসালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই বিড়ালটিকে ক্রেসায় পাঠানো হয়। সেখানকার গবেষকরা SARS-COV-2 ভাইরাসের সন্ধানে বিড়ালটির বেশ কয়েকটি অঙ্গ নিয়ে গবেষণা করেন।

৮ মে অ্যানিমেল হেলথ রিসার্চ সেন্টার (ক্রেসা) জানায়, বিড়ালটির হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি নামে পরিচিত একটি জিনগত হৃদরোগ ছিল যা এটির হঠাৎ মৃত্যুর কারণও হতে পারে। বিড়ালটির শরীরে পাওয়া সমস্যাগুলোর কোনোটিই করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পশু চিকিৎসকদের মতে, ভাইরাসটি বিড়ালের স্বাস্থ্যের ওপরে কোনো প্রভাবই ফেলেনি।

বিড়ালটির বয়স চার বছর এবং বিড়ালটি নাম নেগ্রিটো। গবেষকরা গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বিড়ালের মালিকদের সম্পর্কে আর কোনো তথ্যই সরবরাহ করেননি।

তবে বার্সেলোনার অ্যানিমেল হেলথ রিসার্চ সেন্টার (ক্রেসার) প্রধান নাটালিয়া মাখো বলেছেন, খুবই বিচ্ছিন্নভাবে বিড়াল এই মহামারিটির সমান্তরাল শিকারও হতে পারে। তবে তাদের মাধ্যমে মানুষের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...