The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

প্লাজমা থেরাপিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার না

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় বহুল আলোচিত রেমডেসিভিরসহ অন্যান্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধেরও চূড়ান্ত ব্যবহার না করার সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাটি (ডব্লিউএইচও)

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন প্লাজমা থেরাপির দিকে ধাবিত হচ্ছে ঠিক তখন প্লাজমা থেরাপিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা না করলো।

প্লাজমা থেরাপিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার না 1

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় বহুল আলোচিত রেমডেসিভিরসহ অন্যান্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধেরও চূড়ান্ত ব্যবহার না করার সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাটি (ডব্লিউএইচও)। সেই সঙ্গে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক এই সংস্থাটির সর্বশেষ (বুধবারের) করোনা গাইডলাইনে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে প্লাজমা থেরাপিও ব্যবহার না করার পরামর্শও দিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রেমডেসিভির ব্যবহার না করার এই পরামর্শ এমন এক সময় দেওয়া হলো যখন বাংলাদেশের বেশ কিছু ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি ওষুধটির উৎপাদন ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক ট্রায়ালে সফলতা আসায় প্ল্যাজমা থেরাপিও বিভিন্ন হাসপাতালে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

নভেল করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় কোনও ধরনের অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহারের কোনো অনুমোদন দেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত বুধবার সংস্থাটির প্রকাশিত করোনা গাইডলাইনে বলা হয়েছে, তাদের পূর্বের গাইডলাইনে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। পূর্ববর্তী ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানসম্মত গাইডলাইনের সঙ্গে সমন্বয় করে গাইডলাইনগুলো তৈরি করা হয়।

রেমডেসিভির ও অন্যান্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের ব্যাপারে ডব্লিউএইচও বলেছে যে, কয়েকটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে বিদ্যমান গাইডলাইন তৈরি হয়েছে। করোনার চিকিৎসায় এসব ওষুধের কোনোটিরই উচ্চমানের ইতিবাচক ফল পাওয়ার প্রমাণ এখনও মেলেনি। এমনকি এসব ওষুধের জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও পাওয়া গেছে।

ইতিপূর্বে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক এই সংস্থাটি কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ারোধী ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইন ব্যবহারের বিরুদ্ধেও সতর্ক করে দেয়। সংস্থাটি বলেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ মানুষের শরীরে মৃদু ও ৪০ শতাংশের মধ্যে মাঝারি উপসর্গ দিয়ে রোগটির শুরু হয়।

এছাড়াও ১৫ শতাংশের গুরুতর আকার ধারণ করে; যাদের অক্সিজেন প্রয়োজন পড়ে। অন্য ৫ শতাংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে থাকে; যারা আগে থেকে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কিডনিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের প্রথম উপস্থিতি ধরা পড়ে। তারপর এই ভাইরাসটি বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে ছড়িয়ে প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ৩ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি মানুষের এবং আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৫৯ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষের।

তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, নভেল করোনা ভাইরাসের চূড়ান্ত ভ্যাকসিন পেতে ১২ হতে ১৮ মাস সময় লাগতে পারে। এমনকি কোভিড-১৯ এর কোনও ভ্যাকসিন কখনও নাও পাওয়া যেতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...