The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

অফিস ও বাইরে যেভাবে করোনামুক্ত থাকা যাবে

ঘরের বাইরে বের হওয়ার পর সব সময় সাবান, হ্যান্ডওয়াশ হাতে রাখা সম্ভব হয় না। আবার জনবহুল জায়গায় দূরত্ব বজায় রাখাও কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় অনেক সময়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো লকডাউন পদ্ধতি। তবে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে লকডাউন খুলে দিতে হবে যতো দ্রুত সম্ভব। কাজ না করলে আয় রোজগার বন্ধ থাকবে। তাই কর্মক্ষেত্রে অর্থাৎ অফিসে যেতে হবে করোনা ঝুঁকি নিয়ে।

অফিস ও বাইরে যেভাবে করোনামুক্ত থাকা যাবে 1

ঘরের বাইরে বের হওয়ার পর সব সময় সাবান, হ্যান্ডওয়াশ হাতে রাখা সম্ভব হয় না। আবার জনবহুল জায়গায় দূরত্ব বজায় রাখাও কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় অনেক সময়। তাই সচেতন থাকতে হবে সব সময়। মাস্ক, সাবান ও স্যানিটাইজার এই নিতটির উপর নির্ভর করতে হবে সব সময়। কোভিড-১৯-কে ঘায়েল করার প্রধান অস্ত্রই হলো এই ৩টি সামগ্রী। লকডাউন চলাকালীন সময় তো বটেই, তা উঠলেও এই সাবধানতাগুলো আমাদের মেনে চলতেই হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। লকডাউন উঠলে ধীরে ধীরে জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বেরুতেও হবে। তাই নিয়ম ভাঙলে সংক্রমণ ছড়ানোর ভয়ও বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাড়ি থেকে পেট ভরে খেয়ে বের হবেন। কতো সময় বাইরে থাকতে হবে সেই অনুযায়ী কিছু খাবার সঙ্গে নিতে হবে আপনাকে। নিয়ম করে আপেল, কলা, লেবু, শসা কিংবা আঙুর খেতে হবে। বাইরের খাবার যতোটা সম্ভব এড়ানো যায়, ততোই ভালো। বাইরে বের হলে বা বাইরে থেকে বাড়ি ফেরার পর কী কী নিয়ম মেনে চলতে হবে সেগুলো জেনে নিন।

# অফিসে বের হওয়ার সময় চেষ্টা করুন ফ্লাক্সে গরম পানি নিয়ে যাওয়ার জন্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, বারে বারে অল্প করে গরম পানি পান করলে করোনা-সহ যে কোনও ড্রপলেট সংক্রমণ কিছুটা অন্তত প্রতিহত করা সম্ভব।

# ঘরে বের হওয়ার সময় মুখে কয়েক কুচি আদা রাখুন। আদার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রোগ ঠেকাতে আপনাকে সাহায্য করবে।

# এই সময় বাইরে বের হলে ঘড়ি ও আংটি না পরায় ভালো। এতে হাত পরিষ্কার করতে অনেক অসুবিধা হবে।

# বাজার-দোকান করার জন্য বাইরে যেতে হলে বাড়িতে মোবাইল রেখে যাওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ। যাদের অফিস করতে হয়, তারা অবশ্যই মোবাইল রাখুন ব্যাগের মধ্যে। পথে খুব দরকার না হলে মোবাইল ফোন হাতে নিবেন না। মোবাইল থেকেও যে সংক্রমণ ছড়ায়, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা একেবারে সন্দেহাতীত।

# যতোটুকু সম্ভব গণপরিবহন এড়িয়ে চলায় ভালো। অল্প রাস্তার যাতায়াত হলে প্রয়োজনে হেঁটেই চলে যান। একটু কষ্ট হলেও তা শরীরের জন্য খুবই ভালো। বিশেষ করে এই আতঙ্কের মধ্যে তো আরও বেশি ভালো হবে।

# যদি গাড়িতে যেতেই হয় তাহলে নিজস্ব গাড়িতে একা যাওয়াই ভালো। তখন পেছনের সিটে বসুন। সম্ভব হলে অফিসে অনুরোধ করুন গাড়িতে যেনো নিয়মমিতভাবে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়।

# নিয়মিতভাবে বের হতে হলে দু’টি মাস্ক ব্যাগে রাখুন। মুখে বাঁধা মাস্ক কোনও কারণে নষ্ট হয়ে গেলে বা ভিজে গেলে সেটি কাজে লাগবে।

# সূতি কাপড়ের মাস্ক হলে বাড়ি ফিরে মাস্ক নিয়মিত কাচতে হবে। অফিসে পৌঁছে কচলে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। সঙ্গে সাবান এবং স্যানিটাইজার রাখতে কখনও ভুলবেন না।

# জুতোর সঙ্গে মোজাও পরুন। বাড়ি ফিরে জুতো-মোজা খুলে সেটি হাতে নিয়ে সোজা বাথরুমে চলে যান।

# জুতো সাবান দিয়ে ধোওয়া সম্ভব নয় সব সময়। এমন হলে জুতোর তলা স্যানিটাইজার দিয়ে ধুয়ে নিন। রোদে শুকাতে পারলে আরও ভালো হয়। তা সম্ভব না হলেও বাড়ির ভেতরের যে কোনো কোণায় বাতাসে শুকিয়ে নিন।

# বাজারের ব্যাগ তো বটেই, অফিসের ব্যাগও সাবান পানি, কীটনাশক মেশানো পানি বা পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মেশানো পানিতে তুলো ভিজিয়ে তা দিয়ে ভালো করে মুছে নিতে পারেন। বাজারের ব্যাগ নিয়মিতভাবে অবশ্যই কেচে নেবেন।

# সার্জিক্যাল মাস্ক হলে এক দিন ব্যবহারের পর সেই মাস্ক অবশ্যই ফেলে দিন। ধোয়া-কাচা যায় এমন মাস্ক পরলে বাড়ি ফিরে মাস্ক ও যাবতীয় পোশাক সাবান দিয়ে প্রত্যাহ কেচে নিতে হবে।

# মোবাইল ফোন বন্ধ করে ভালোভাবে স্যানিটাইজার দিয়ে মুছে নিতে হবে। মোবাইলের কভার আলাদা করে সাবান পানিতে ডুবিয়ে কিংবা সাবান দিয়ে ঘষে কেচে নিতে পারেন।

বাড়িতে থাকলেও ঘন ঘন হাত ধুয়ে নিন এবং প্রতিবার হাত ধোয়ার আগে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...