The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

করোনা থেকে বাঁচবেন কিভাবে: অনুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল এর কিছু পরামর্শ

প্রাণঘাতি করোনা সম্পর্কে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। অনুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল এর পরামর্শ নিয়ে ফেসবুকে একটি আর্টিক্যাল এসেছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ করোনা চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। কখন কার মধ্যে প্রবেশ করে তা বলা যায় না। করোনা থেকে বাঁচবেন কিভাবে; অনুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

করোনা থেকে বাঁচবেন কিভাবে: অনুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল এর কিছু পরামর্শ 1

প্রাণঘাতি করোনা সম্পর্কে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। অনুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল এর পরামর্শ নিয়ে ফেসবুকে একটি আর্টিক্যাল এসেছে। সেটি দি ঢাকা টাইমস্ এর পাঠক-পাঠিকাদের জন্য তুলে ধরা হলো।

সার্স ভাইরাসের কুইক টেস্ট পদ্ধতির আবিষ্কারক অনুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল-এর মতে, করোনাকে অঙ্কুরে বিনাশ করার দুটি পথ খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছন সংবাদ মাধ্যমে।

অনুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের র‌্যাপিড ডট ব্লট কিট উদ্ভাবন দলের একজন প্রধান বিজ্ঞানী। ১৯৯৯ সালে ছাগলের মড়ক ঠেকানোর জন্য পিপিআর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেন তিনি।

২০০২ সালে ডেঙ্গুর কুইক টেস্ট পদ্ধতির উদ্ভাবকও হলেন ড. বিজন। ২০০৩ সালে তিনি সার্স ভাইরাসের কুইক টেস্ট পদ্ধতিটির আবিষ্কার করেন। এটিও তার নামে প্যাটেন্ট করা।

বর্তমানে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) যা মূলত সার্স-২ ভাইরাস। সার্সের ভয়াবহতার কথা মনে করে মানুষ যেনো আতঙ্কিত না হয় সেজন্য বিজ্ঞানীরা কোভিড-১৯ নামকরণ করেছিলেন।

প্রচারবিমুখ ড. বিজন কুমার শীল সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে করোনা ভাইরাস হতে বাঁচতে কয়েকটি সহজ পদ্ধতি অনুসরণের কথা উল্লেখ করেছেন। তার সহজ ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো আজ তুলে ধরা হলো:

# ড. বিজন কুমার শীল বলেন, করোনাকে অঙ্কুরে বিনাশ একটি হচ্ছে, ভিটামিন সি জাতীয় খাবার পেয়ারা, লেবু, আমলকি বা ভিটামিন সি ট্যাবলেট খেতে হবে। এর সঙ্গে সম্ভব হলে প্রতিদিন রাতে একটি জিঙ্ক ট্যাবলেটও খাবেন। ভিটামিন সি ও জিংক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সতেজ, সজীব রাখে ও প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়।

# আরেকটি হচ্ছে কেও যদি আক্রান্ত হয়ে পড়েন, যেমন গলাব্যথা, শুকনো কফ ছাড়া কাশি, কাশি হবে তবে কফ বের হবে না। এটিই হলো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম লক্ষণ। অন্য ইনফ্লুয়েঞ্জাতে আক্রান্তদের হাঁচি, সর্দি এবং নাক দিয়ে পানি পড়তে দেখা যায়। তবে করোনা ভাইরাস শুকনো কাশি দিয়েই শুরু হয়।

এক্ষেত্রে সহজ পদ্ধতি হলো বেশি কড়া না হালকা রং চা বারবার পান করা, কুসুম গরম পানি দিয়ে গারগেল করা। এর চেয়ে ভালো উপায় হলো আদা, লবঙ্গ এবং একটা গোলমরিচ পানিতে মিশিয়ে গরম করলে কালোমতো একটা রং হবে। এর সঙ্গে সামান্য মধু বা চিনি দিয়ে চায়ের সঙ্গে খেলে কিংবা এই পানি দিয়ে গারগেল করতে হবে। যে কারণে গলায় যে ভাইরাসগুলো থাকে সেগুলো মারা যাবে।

এছাড়াও গলায় গরম লাগার কারণে রক্তপ্রবাহও বেড়ে যায়। যে কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। তাছাড়া রং চায়ের এন্টিসেপ্টিক গুণ রয়েছে। বারবার শুকনো কাশির কারণে গলার টিস্যুও ফেটে যেতে পারে। চা এই ইনফেকশনও রোধ করে।

আপনার জ্বর হোক কিংবা নাই হোক, এই মুহূর্তে আমাদের সবার উচিত সকালে ঘুম থেকে উঠে, দুপুরে ও সন্ধ্যায় গারগেল করা। যে কারণে শরীরে যদি ভাইরাস ঢোকেও তাহলে সেটা কখনও আর বাড়তে পারবে না। এটা শুধু করোনা ভাইরাস না আরও অনেক ইনফেকশনকেও রোধ করতে পারে। কেও যদি এটি প্রতিদিন করতে পারেন, তাহলে তার আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা খুবই কম হবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে যদি কখনও কারও পেটের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে নিমপাতা বেটে সবুজ রসের সঙ্গে এক চামচ হলুদের গুঁড়া পানির সঙ্গে মিশিয়ে সকালে ও রাতে খেলে তার পেটের ইনফেকশনও কমে যাবে। এই সময় এমন রোগীকে এন্টিবায়োটিক খাওয়ালে অনেক সমস্যা হতে পারে।

করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগকালেও যাদের বাইরে কাজ করতেই হয়, যেমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবীসহ অন্যান্যদের করণীয় সম্বন্ধে ড. বিজন কুমার শীল বলেছেন, করোনা ভাইরাস শরীরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই আক্রমণ করে না।

সময় নিয়ে আস্তে আস্তে শরীরের মধ্যে বাড়তে থাকে। এক্ষেত্রে বাসায় ফিরে গরম পানি পান করা, এক কাপ হালকা রং চা খাওয়া, নাক এবং মুখ দিয়ে গরম পানির ভাপ নেওয়া, পানির মধ্যে এক ফোঁটা মেন্থল দিলে আরও ভালো হবে। তাহলে নাকটা আরও ভালোমতো পরিষ্কার হয়ে যাবে। যে কারণে ভাইরাসটি ঢুকলেও শরীরের মধ্যে বাড়তে কিংবা সুবিধা করতে পারবে না।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...