The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

গত ২০ বছরে কয়েকটি ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানুন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যান্ত্রিক ত্রুটি, মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং চালকের অসাবধানতাসহ বিভিন্ন কারণে এইসব দুর্ঘটনা ঘটে থাকে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পরিবহন ক্ষেত্রে আরামদায়ক ও নিরাপদ মনে করা হয়ে থাকে নৌপথকে। তবে মাঝে মধ্যেই এ পথেও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। আজ জানুন দেশের কয়েকটি ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনা সম্পর্কে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যান্ত্রিক ত্রুটি, মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং চালকের অসাবধানতাসহ বিভিন্ন কারণে এইসব দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাতে প্রাণহানী ঘটে বহু যাত্রীর। তেমনই কয়েকটি লঞ্চ দুর্ঘটনা বা লঞ্চডুবি সম্পর্কে আজ জেনে নিন।

এমভি রাজহংসী

২০০০ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঈদুল আজহার রাতে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার ষাটনল এলাকায় মেঘনা নদীতে ‘এমভি জলকপোত’ এবং ‘এমভি রাজহংসী’ নামে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাণ হারান রাজহংসীর ১৬২ যাত্রী।

এমভি সালাউদ্দিন

২০০২ সালের ৩ মে চাঁদপুরের ষাটনল সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ডুবে যায় সালাহউদ্দিন-২ নামে যাত্রীবাহী লঞ্চটি। ওই দুর্ঘটনায় ভোলা এবং পটুয়াখালী জেলার ৩৬৩ জন যাত্রী মারা যান।

এমভি নাসরিন-১

২০০৩ সালের ৮ জুলাই ঢাকা হতে লালমোহনগামী ‘এমভি নাসরিন-১’ চাঁদপুরের ডাকাতিয়া এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ও মালবোঝাইয়ের কারণে পানির তোড়ে লঞ্চটির তলা ফেঁটে যায়। এতে প্রায় ২ হাজারের বেশি যাত্রীসহ লঞ্চটি ডুবে যায়। এই দুর্ঘটনায় ১২৮ পরিবারের প্রধানসহ সরকারিভাবে ৬৪১ ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে বেসরকারি হিসেবে লাশ উদ্ধার করা হয় প্রায় ৮০০ জন।

এমভি লাইটিং সান

২০০৪ সালের ২২ মে আনন্দ বাজারে ‘এমভি লাইটিং সান’ লঞ্চ দুর্ঘটনায় পতিত হলে ৮১ জন এবং ও ‘এমভি দিগন্ত’ ডুবির ঘটনায় শতাধিক যাত্রীর মৃত্যু ঘটেছিলো। এ ছাড়াও ভৈরবের মেঘনা নদীতে এমএল মজলিসপুর ডুবে ৯০ জনের মৃত্যু ঘটে।

এমএল শাহ পরাণ

২০০৬ সালে মেঘনা সেতুর নিকটে ‘এমএল শাহ পরাণ’ লঞ্চ দুর্ঘটনায় ১৯ জন যাত্রী মারা যায়।

এমভি কোকো

২০১১ সালের ২৮ মার্চ চাঁদপুরের বড় স্টেশন মোলহেড এলাকায় মেঘনা নদীতে দুটি লঞ্চের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় এমভি কোকো-৩ নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ।

এমভি মিরাজ

২০১৪ সালের ১৫ মে মুন্সীগঞ্জের নিকটে মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি মিরাজ-৪ ডুবে যাওয়ার পর অন্তত ২২ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুশ’র বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ঢাকা হতে শরীয়তপুরের সুরেশ্বরের দিকে যাচ্ছিল ওই লঞ্চটি।

পিনাক

২০১৪ সালের ৪ আগস্ট পদ্মায় স্মরণকালের ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনায় আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় পিনাক-৬ নামে একটি লঞ্চ। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ২১ জনকে শিবচর পৌর কবরস্থানে (অজ্ঞাতনামা হিসেবে) দাফন করা হয়।

গ্রীন লাইন-২

২০১৭ সালের ২২ এপ্রিল বরিশাল সদর উপজেলার কীর্তনখোলা নদীর বেলতলা খেয়াঘাট এলাকায় বালুবাহী একটি কার্গোর ধাক্কায় এমভি গ্রীন লাইন-২ লঞ্চের তলা ফেটে যায়। লঞ্চটি তাৎক্ষণিকভাবে তীরের ধারে নেওয়ায় দুই শতাধিক যাত্রী সেই সময় প্রাণে বেঁচে যায়।

৩ লঞ্চডুবি

২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীর ওয়াপদা চেয়ারম্যান ঘাটের টার্মিনালে তীব্র স্রোতের কারণে ডুবে যায় ৩টি লঞ্চ। এতে করে একই পরিবারের তিন জনসহ লঞ্চ স্টাফ এবং যাত্রীসহ ২২ জন লোক ছিল।

এমভি রিয়াদ

২০১৯ সালের ২২ জুনের ঘটনা। মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে এমভি রিয়াদ নামে একটি লঞ্চের তলা ফেটে অর্ধেক পানিতে ডুবে যায়। লঞ্চের তলা ফেটে পানি উঠতে শুরু করলে অন্য ট্রলার গিয়ে লঞ্চযাত্রীদের উদ্ধার করে।

দুটি লঞ্চের সংঘর্ষ

২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি বরিশাল-ঢাকা নৌ-পথের মেঘনা নদীর চাঁদপুর সংলগ্ন মাঝ কাজীর চর এলাকাতে মাঝ নদীতে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত ও ৮ জন আহত হয়। হতাহতদের মধ্যে নিহত দুজনসহ আহত ৩ জন এমভি কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের এবং বাকি আহত ৫ জন এমভি ফারহান-৯ লঞ্চের যাত্রী ছিলেন।

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল (২৯ জুন) রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। বড় একটি লঞ্চের (ময়ুরী-২) ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় ৩৩ জনের লাশ উদ্ধার ও একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...