The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মহামারী শেষ হলেও স্কুলে ফিরবে না বিশ্বের ১ কোটি শিশু

ইউনেস্কোর উপাত্তের বরাত দিয়ে সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৭ লাখ শিশু আর কখনও স্কুলে ফিরবে না। সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে ব্রিটেনভিত্তিক এনজিও সেভ দ্য চিলড্রেন।

মহামারী শেষ হলেও স্কুলে ফিরবে না বিশ্বের ১ কোটি শিশু 1

ইউনেস্কোর উপাত্তের বরাত দিয়ে সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে যে, গত এপ্রিল হতে বিশ্বব্যাপী ১৬০ কোটি শিশু স্কুল ও কলেজের বাইরে রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী কোভিড-১৯ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি সামলাতে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো শিক্ষা খাতে খরচ কমাচ্ছে। সেই অর্থই খরচ করা হবে অন্য খাতগুলোতে। যে কারণে প্রায় ৯৭ লাখ শিশু আর কখনও স্কুলের মুখ দেখবে না। সেই সঙ্গে ৯ হতে ১২ কোটি শিশুর পরিবারও দারিদ্র্য হয়ে পড়বে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের ধারণা মতে, শিক্ষা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব এক জরুরি অবস্থা আসতে চলেছে। বিশ্বের ১২টি দেশের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। বাকি গরিব কিংবা মাঝারি আয়ের দেশের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়।

সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী দেখা যায়, মহামারীর কারণে ওইসব দেশগুলো শিক্ষা খাতে ৭ হাজার ৭০০ কোটি ডলার কাটছাঁট করবে। যার প্রভাব পড়বে প্রায় এক কোটি শিশুর ওপর। তাদের জীবন থেকে স্কুল যেনো হারিয়ে যাবে। যে ১২টি দেশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ সেই তালিকায় আছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নাইজার, নাইজেরিয়া, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল, ইয়েমেন, গিনি, মৌরিতানিয়া, শাদ ও লাইবেরিয়া।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, মানুষের ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বজুড়ে শিশুদের পুরো প্রজন্মের শিক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত ঘটলো। তাই সংগঠনের রিপোর্টের মূল প্রতিবাদ্য বা শিরোনাম হলো ‘আমাদের শিক্ষা বাঁচাও’। ৯ হতে ১১ কোটি ৭০ লাখ শিশু আরও গরিব হয়ে যাবে। যে কারণে তারা আর স্কুলে থাকবেই না। তারা বাধ্য হয়ে পরিবারকে সাহায্য করার জন্য কাজ শুরু করবে। দরিদ্র হয়ে যাওয়ার কারণে মেয়েদের দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও বাড়বে। সেইসব পরিবারে শিশুদের পড়াশোনা করানোর ক্ষমতাও থাকবে না। যে কারণে প্রায় ১ কোটি শিশু আর স্কুলের মুখই দেখবে না।

প্রায় ৯৪ পৃষ্ঠার ওই রিপোর্ট অনুসারে জানা যায়, ছেলেদের থেকে মেয়েদের অবস্থা আরও বেশি খারাপ হতে পারে। লিঙ্গবৈষম্যও বাড়বে। মেয়েদের শিশু অবস্থায় বিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও বাড়বে। যে কারণে তারা বাধ্য হবেন কম বয়সে গর্ভবতী হতে। এতে আগের মতো মাতৃমৃত্যুহারও বেড়ে যাবে।

সেভ দ্য চিলড্রেন আরও বলছে, এখন থেকে ২০২১-এর শেষ নাগাদ নিম্ন এবং মাঝারি আয়ের দেশগুলো শিক্ষা খাতে ৭ হাজার ৭০০ কোটি ডলার বরাদ্দ কমিয়ে দেবে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ২০২১ সালের শেষ নাগাদ এই বাজেট কাটতির পরিমাণ ছাড়াতে পারে ১৯ হাজার ২০০ কোটি ডলারে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...