The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

সামান্য সর্দি-জ্বর বা গলাব্যথা হলেই কী করোনা?

গলাব্যথা হলেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তাই গলাব্যথা হলেই ভয় পাবেন না। কারণ গলাব্যথা বিভিন্ন কারণেই হয়ে থাকে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ করোনা সংক্রমণের চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও আতঙ্ক রয়ে গেছে। সামান্য সর্দি-জ্বর বা গলাব্যথা হলে এখনও অনেকেই ভয় পেয়ে যান। এসব উপসর্গ দেখা দিলেই করোনা হয়েছে এমন ভাবার কিছু নেই।

দেখা যায় যে, গলাব্যথা হলেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তাই গলাব্যথা হলেই ভয় পাবেন না। কারণ গলাব্যথা বিভিন্ন কারণেই হয়ে থাকে।

করোনার গলাব্যথা

করোনা ভাইরাসের কারণে গলাব্যথা হলে সঙ্গে শরীরেও ব্যথা থাকবে। তাছাড়া গলাব্যথায় টনসিলে কোনো সাদা পুজও থাকবে না। ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে জ্বর হালকা হতে অনেক সময় মারাত্মকও হতে পারে।

গলাব্যথা কী কারণে হয়

টনসিল এক ধরনের লসিকাগ্রন্থি কিংবা লিস্ফয়েড টিস্যু। এতে কোনো প্রকার ইনফেকশন কিংবা প্রদাহ হলে আমরা এটিকে টনসিলাইটিস বলে থাকি। গলার ভেতরে দুপাশে একজোড়া Palatine tonsil থাকে। টনসিলের প্রদাহ বলতে আমরা সাধারণত এর ইনফেকশনকেই বুঝে থাকি। টনসিলের ইনফেকশন মূলত একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা।

ভাইরাস এবং ব্যাক্টেরিয়ার কারণে টনসিল ইনফেকশন হয়ে থাকে। যে কারণে গলাব্যথা হয়ে থাকে।

আরও যেসব কারণ বিদ্যমান-

১) অধিকাংশ গলার ব্যথার কারণ ভাইরাস সংক্রমণ। ফ্যারেঞ্জাইটিস, টনসিলাইটিস ও ল্যারিঞ্জাইটিস ভাইরাসের কারণে এটি হয়ে থাকে। গলাব্যথা হলে ভাইরাল জ্বর কিংবা ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় জ্বরও হতে পারে।

২) হাম, চিকেন পক্স হলেও গলায় তীব্র ব্যথা হয়ে থাকে এবং তখন খেতেও খুব কষ্ট হয়।

৩) ব্যাক্টেরিয়া কিংবা ছত্রাকের সংক্রমণেও গলাব্যথা হয়ে থাকে। স্ট্রেপ্টোকক্কাস জাতীয় এক ধরনের জীবাণুর আক্রমণে আমরা টনসিলে আক্রান্ত হয়ে থাকি। শিশুরা এই অসুখে খুব বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে টনসিলের চারপাশের খাজে সাদা পুজও দেখা যায়।

৪) সিগারেট কিংবা অন্য রাসায়নিকের কারণেও গলাব্যথা হতে পারে। তাছাড়া দূষণের কারণেও গলায় সমস্যা হতে পারে।

৫) পেরিটনসিলাইটিস, গ্যাস্ট্রোএসোফেগিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি) ও এপিগ্লটাইটিস- এই ধরনের কিছু অসুখেও গলাব্যথা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ঢোক গিলতে সমস্যা, গলায় জ্বালা জ্বালা ভাব এবং কথা বলতেও সমস্যা হতে পারে।

গলাব্যথা হলে কী করবেন

গলাব্যথা শুরু হলে প্রথমেই সামান্য উষ্ণ লবণপানি দিয়ে গড়গড়া করুন। লবণপানি টনসিলের সংক্রমণ রোধ করে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে থাকে। শুধু তাই নয়, উষ্ণ পানি দিয়ে গড়গড়া করলে গলায় ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণের আশঙ্কাও অনেক কমিয়ে দিতে পারে।

আপনি গরম চায়ের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। গরমপানিতে এক চামচ লেবুর রস, এক চামচ মধু এবং সামান্য পরিমাণ লবণ মিশিয়ে পান করতে পারেন।

গলাব্যথা শুরু হলেই প্রথম থেকেই আধা গ্লাস হালকা কুসুম গরম পানিতে ২ চামচ পরিমাণ ১ শতাংশ পভিসেপ আয়োডিন সল্যুশন মাউথওয়াশ মিশিয়ে গড়গড়া শুরু করুন। দিনে ৩-৪ বার মাউথওয়াশ দিয়ে গড়গড়া করতে হবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই মাউথওয়াশ ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রাথমিক পর্যায়ে অত্যন্ত কার্যকরী একটি পদ্ধতি।

এই সময় এসির ব্যবহার এবং ঠাণ্ডা খাবার খাওয়া হতে বিরত থাকতে হবে।

# লেখক : ডা. মো. আবদুল হাফিজ শাফী, বিসিএস (স্বাস্থ্য), নাক-কান-গলা বিভাগ, বিএসএমএমইউ (প্রেষণে), ঢাকা।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...