The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

করোনার থেকেও বেশি মানুষ মরতে পারে ক্ষুধায়

করোনা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তা করছি। কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না এই বেয়াড়া ভাইরাসটিকে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুধু করোনা ভাইরাস নয়। গবেষণা বলছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের থেকেও অনেক বেশি মানুষ মারা যেতে পারেন স্রেফ না খেতে পেয়ে- ক্ষুধায়।

করোনার থেকেও বেশি মানুষ মরতে পারে ক্ষুধায় 1

করোনা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তা করছি। কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না এই বেয়াড়া ভাইরাসটিকে। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে দেখে আঁতকে উঠতে হচ্ছে আমাদের। তবে আঁতকে ওঠার আরও কারণ রয়েছে। সেগুলো প্রায় আড়ালেই থেকে যাচ্ছে এই করোনার চক্করে।

একটি গবেষণা বলছে, করোনা ভাইরাসের জন্য যে অতিমারী বর্তমানে চলছে বিশ্বজুড়ে, তাতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের থেকেও অনেক বেশি মানুষ মারা যেতে পারেন স্রেফ না খেতে পেয়ে- ক্ষুধায়।

দেশের সীমানা বন্ধ, বিভিন্ন দেশে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা, দেশের মধ্যে কারফিউ বা লক ডাউন- এর ফলশ্রুতিতে যেটা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে খাদ্যের জোগানে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই বিষয়ে কয়েকটা স্ট্যাটিসটিক্সের দিকে তাকানো যাক।

‘অক্সফ্যাম’ বলছে যে, কোভিডের কারণে প্রতিদিন বিশ্বে ১২ হাজার মানুষ মারা যেতে পারে শুধুমাত্র খেতে না পেয়ে। গত এপ্রিলে মাত্র এক মাসে কোভিডের দরুণ প্রতিদিন যতো মৃত্যু হচ্ছিল, তার থেকে ২ হাজার বেশি।

বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের মতো দেশ যেখানে মানুষের উপার্জন খুবই কম, সেখানে কোভিডের কারণে বড়ো সংখ্যক মানুষ খাদ্যসঙ্কটে ভুগছেন। রিপোর্ট বলছে যে, গত বছর সেপ্টেম্বরে দুর্ভিক্ষের প্রায় সীমানায় থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল ২৫ লক্ষ, সেটা গত মে মাসে বেড়ে হয়েছে ৩৫ লক্ষ। এর কারণ হলো, ইরানের সঙ্গে সীমানা বন্ধ হয়ে যাওয়া। বিদেশে যেসব শ্রমিকরা কাজ করতেন, তারা দেশে ফিরে আসা।

একই অবস্থা ইয়েমেনের ক্ষেত্র্রেও ঘটেছে। যেখানে দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ খিদের সঙ্গেই লড়ছেন। ইউনাইটেড নেশনন্স-এর ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম বলেছে যে, বিশ্বজুড়ে খাদ্যের অভাবে ইয়েমেনে ভুগবে ১২.২ কোটি মানুষ। কোভিডের কারণেই এই সংখ্যা বাড়বে। কারণ হলো, দেশের ৯০ শতাংশ খাদ্যই অন্য দেশ হতে আমদানি করতে হয়। সেই সবই এখন বন্ধ। কারণ হলো, কোভিডের জন্য সেসব দেশে খাদ্য সরবরাহ হচ্ছে না ঠিকমতো। যার মধ্যে, দীর্ঘ দিন ধরে হওয়া গৃহযুদ্ধ দেশের অর্থনীতিকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দিয়েছে। কোভিড হলো সেই কফিনে যেনো শেষ পেরেক।

শুধুমাত্র আফগানিস্তান বা ইয়েমেন নয়, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো, ভেনেজুয়েলা, সুদান, ইথিওপিয়া, সিরিয়া, হাইতি, এমনকি ভারতও রয়েছে তাদের দাগানো চূড়ান্ত ‘হাঙ্গার হটস্পট’-এর মধ্যে।

কাজেই কেওই জানে না পরিস্থিতি এরপর কোন দিকে ধাবিত হবে। একদিকে কোভিডের আশঙ্কা রয়েছে, অপরদিকে কাজ হারিয়ে না খেতে পেয়ে মৃত্যুর দুর্ভাবনাও। একদিকে যেমন মানুষ ভাবছে লকডাউনে ঘরবন্দি থেকে যদি কোভিড-১৯ এড়ানো যায়, অপরদিকে চিন্তা যে লকডাউন যতো বাড়বে, অর্থনীতির সংকট আরও গভীর হতে গভীরতর হবে। -এই সময় অবলম্বনে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...