The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

৩০ মিনিটেই কম খরচে করোনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে!

এই পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৫ ডলার অর্থাৎ ৫শ’ টাকার নিচে খরচ পড়বে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশ্বের ১৩৩টি দেশে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার নতুন এক প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই পরীক্ষা পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটেই ফল পাওয়া যাবে।

৩০ মিনিটেই কম খরচে করোনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে! 1

বিবিসি’র এক খবরে বলা হয়েছে, এই পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৫ ডলার অর্থাৎ ৫শ’ টাকার নিচে খরচ পড়বে। ৬ মাসে ১২০ মিলিয়ন পরীক্ষা হবে এইসব দেশগুলোতে এমন চুক্তি হয়েছে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে, নতুন এই পরীক্ষা ব্যবস্থা দরিদ্র এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এক নাটকীয় পরিবর্তন এনে দেবে। তাদেরকে আরও অনেক বেশি সক্ষম করে তুলবে।

অনেকে দেশে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা এবং তার ফল পেতে যে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে, তাতে করে সেসব দেশ সংক্রমণ প্রতিরোধে অনেকটা পিছিয়ে যাচ্ছে।

গতকাল (সোমবার) জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসাস বলেছেন যে, ‘নতুন, সহজে বহন এবং ব্যবহারযোগ্য’ এই পরীক্ষা কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন নয়, ১৫ হতে ৩০ মিনিটের মধ্যে ফল সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করতে পারবে।

ইতিমধ্যেই ১২০ মিলিয়ন পরীক্ষা পদ্ধতি উৎপাদনে দাতব্য সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনকে সম্মতিও দিয়েছে ঔষধ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান অ্যাবট অ্যান্ড এসডি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার রয়েছে এমন ১৩৩টি দেশকে এই পরীক্ষা ব্যবস্থাটি দেওয়া হবে।

টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসাস আরও বলেছেন যে, পরীক্ষার ল্যাব খুব কম বা সহজে পৌঁছানো যায় না, সেসব অঞ্চলে পরীক্ষার ব্যবস্থার সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এই পরীক্ষা ব্যবস্থাটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে জানা যায়, এটি মূলত এক ধরনের ‘অ্যান্টিজেন র‍্যাপিড টেস্ট’। এই পরীক্ষাতেও নাক কিংবা গলা থেকে সোয়াব বা নমুনা সংগ্রহ করে দেখা হয় ভাইরাসের অস্তিত্ব রয়েছে কিনা।

অ্যান্টিজেন হলো ভাইরাসের প্রোটিন, যা শরীরের ভেতর প্রবেশ করে কোষের প্রোটিন তৈরির পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে শুরু করে দেয়। শরীরের ভেতর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্যারাসাইটস প্রবেশ করলেই তখন শরীর সেটাকে অ্যান্টিজেন হিসাবে গণ্য করে। কারও পরীক্ষায় অ্যান্টিজেন পাওয়া গেলে তিনি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশও গত আগস্ট মাসের শেষের দিকে অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমোদন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...