The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

আয়া সোফিয়া করোনার মধ্যেও পর্যটকে মুখরিত

জাদুঘরকে মসজিদে রূপ দেওয়ার পর এ পর্যন্ত অন্ততপক্ষে ১৫ লাখ দর্শনার্থী মসজিদটি পরিদর্শন করেছেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ যাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তরিত তুরস্কের আয়া সোফিয়াতে এই করোনার মধ্যেও পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠেছে। দেখে মনে হবে না যে করোনা ভাইরাস নামে কিছু রয়েছে।

আয়া সোফিয়া করোনার মধ্যেও পর্যটকে মুখরিত 1

জাদুঘরকে মসজিদে রূপ দেওয়ার পর এ পর্যন্ত অন্ততপক্ষে ১৫ লাখ দর্শনার্থী মসজিদটি পরিদর্শন করেছেন। দীর্ঘ ৮৬ বছর পর ২৪ জুলাই আয়া সোফিয়া খুলে দেওয়া হয়।

ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশ্বের মুসলিম পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে অন্যতম হলো তুরস্ক। অন্য চারটি দেশ হলো- মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং কাতার।

দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে তুরস্কের সর্বাধিক দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- এই আয়া সোফিয়া। ১৯৮৫ সালে জাদুঘর হিসেবে স্থাপনাটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইস্তাম্বুলে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ৯১৬ বছর টানা চার্চ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছিলো। ১৪৫৩ সাল থেকে শুরু করে ১৯৩৫ সাল দীর্ঘ প্রায় পাঁচশত বছর ধরে মসজিদ হিসেবেই পরিচিত ছিল এই আয়া সোফিয়া। তারপর ৮৬ বছর যাবত এটি জাদুঘর হিসেবে পরিচিত ছিল।

এ বছরের ১০ জুলাই তুর্কি আদালতের এক রায়ে ১৯৩৪ সালের তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদের জাদুঘরে রূপান্তরিত করার আদেশটি রহিত করার পর আয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদ হিসেবে চালু করার সিদ্ধান্ত করে আদালত এবং ২৪ জুলাই আয়া সোফিয়ায় প্রথমবারের মতো দীর্ঘ ৮৬ বছর পর জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মসজিদটি চালু হয়।

বর্তমানে আয়া সোফিয়ায় নিয়মিত নামাজ চলছে। তবে স্থাপনাটি অমুসলিম এবং বিদেশী পর্যটকদের জন্যও খোলা রাখা হয়েছে। নামাজের সময় অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের স্থাপনা এবং নিদর্শনগুলো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আয়া সোফিয়া দেখার সুযোগও পান।

মসজিদে রূপান্তরিত হওয়ার পর থেকে তুরস্কের সংস্কৃতি এবং পর্যটন মন্ত্রণালয় আয়া সোফিয়ার সংস্কার ও সংরক্ষণের দায়িত্ব পেয়েছে। দেশটির ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তর ধর্মীয় সেবার দিকগুলো তদারকি করছে। মসজিদে রূপান্তরের পর হতে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি বিনামূল্যে পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আগে টিকিট কেটে আয়া সোফিয়া দেখতে হতো।

যে কারণে ভ্রমণপিয়াসুদের কাছে পর্যটনের ক্ষেত্রে তুরস্কের অন্যতম গন্তব্য হলো- এই আয়া সোফিয়া। এর প্রমাণ আবারও পাওয়া গেছে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপ দেওয়ার পর হতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১৫ লাখ দর্শনার্থী মসজিদটি পরিদর্শন করেছেন!

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে ইস্তাম্বুলের মুফতি মাহমুদ আমিন বলেছেন যে, সপ্তাহের কর্মদিবসে প্রায় ১৫ হাজার ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ২৫ থেকে ৩০ হাজার দর্শনার্থী আয়া সোফিয়া পরিদর্শনে আসেন। করোনা মহামারির মধ্যেও প্রতিদিন হাজার হাজার তুর্কি ও বিদেশী নাগরিক আয়া সোফিয়া দেখতে আসছেন বলে জানান তিনি।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...