The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা যেসব সুবিধা পেয়ে থাকেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে হৈ চৈ পড়ে গেছে। পৃথিবীর এই দেশটির নির্বাচন সারা বিশ্বেই সাড়া ফেলেছে। নভেম্বরেই দেশটির নির্বাচন। কী কী সুবিধা পান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা?

সকলেই অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন- কে হচ্ছেন পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্বজুড়ে প্রভাব-প্রতিপত্তির পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের রয়েছে আকর্ষণীয়, বিলাসবহুল অনেক সুযোগ-সুবিধাও। এর মধ্যে কয়েকটি আর্থিক সুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

৬ অঙ্কের সেলারি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বার্ষিক সেলারি ৬ অঙ্কের। ২০০১ সালে কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের বেতন ২ লাখ হতে বাড়িয়ে ৪ লাখ ডলার করে। পাশাপাশি বাড়তি খরচ হিসেবে রয়েছে ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দ। এছাড়াও ভ্রমণ বাজেট ১ লাখ ডলার এবং প্রমোদ ব্যয় ১৯ হাজার ডলার।

এই অর্থ অবশ্য বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য খুবই নস্যি। ফোর্বসের হিসাব মতে, তিনি এমনিতেই ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের মালিক। ২০১৬ সালে প্রচারণার সময় প্রতীকী ১ ডলার বেতন নেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল বেতনের ওপর করও কাটা হয়। বাকি সুযোগ-সুবিধা রয়েছে করমুক্ত।

বিখ্যাত বাড়িতে বসবাসের সুবিধা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা বিলাসবহুল হোয়াইট হাউসে বসবাস করার সুযোগ পান। ১৭৯২ সাল হতে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা হোয়াইট হাউসে বসবাস করে আসছেন। হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সে ৬টি ফ্লোর এবং ১৩২টি রুম রয়েছে।

এখানে টেনিস কোর্ট, সুইমিংপুল, ফিটনেস সেন্টার এবং বাগানের ভেতরে চলার পথ রয়েছে। হোয়াইট হাউস কিংবা সাদা বাড়ি একক বাড়ি হিসেবে পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত বলা যায়।

বাড়ি সাজানোর জন্য ১ লাখ ডলার প্রদান

বিখ্যাত হোয়াইট হাউস তথা সাদা বাড়ি ওঠার পর নতুন করে বাসস্থান সাজানোর জন্য ১ লাখ ডলার দেওয়া হয় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। এটি দেওয়া হয় প্রেসিডেন্ট যাতে একে পরিচিত বাড়ির মতোই ভাবতে পারেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই ডেকোরেশন ভাতা নেননি। অপরদিকে ট্রাম্প এই ডেকোরেশন বাবদ ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার খরচও করেছেন। তবে এটি কোনো খাত থেকে ব্যয় হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

রান্না করা খাবার পরিবেশন

হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা হলেই রান্না করা খাবার-দাবারের সুবিধা পেয়ে থাকেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খাবারের জন্য একজন নির্বাহী শেফ এবং নাস্তার বেকারি আইটেমের জন্য নির্বাহী পেস্ট্রি শেফও রয়েছেন হোয়াইট হাউসে। ১৫ বছর ধরে ক্রিস্টেটা কমাফোর্ড প্রথম নারী নির্বাহী শেফ হিসেবে কাজ করে আসছেন।

হোয়াইট হাউসের তাজা ফল-সবজি সরবরাহ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাইসের তাজা ফলমূল এবং সবজি খেতে পারেন। ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মিশেল ওবামা সবজি চাষ শুরু করেন। ট্রাম্প আসার পর মেলানিয়াও সেটি অব্যাহত রেখেছেন।

পাঁচক ও গৃহকর্মী

পুরো হোয়াইট হাউসজুড়ে প্রেসিডেন্টের সহায়তার জন্য নিয়োজিত রয়েছে চাহিবা মাত্র পাঁচক এবং গৃহকর্মী। রান্নার বুবর্চি, গৃহকর্মী, কাঠ মিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি এবং ইলেকট্রনিক মিস্ত্রিসহ প্রয়োজনীয় সব কাজের ১০ জনের মতো শ্রমিক হোয়াইট হাউসে রয়েছে। এদের পেছনেই বছরে ব্যয় হয় ৪০ লাখ ডলার।

বল খেলার জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র মাঠ

মার্কিন প্রেসিডেন্টদের জন্য নিজে খেলার মাঠের পাশাপাশি বিলিয়ার্ড রুম এবং অন্যান্য খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা ও সুনির্দিষ্ট জায়গাও রয়েছে। টেনিস কোর্ট, বাস্কেটবল কোর্টসহ সব ধরনের খেলা এবং চিত্তবিনোদনের সুবিধা বিদ্যমান হোয়াইট হাউস এ।

মেরিল্যান্ডে অবকাশ যাপন কেন্দ্র

হোয়াইট হাউসের এলাহিকাণ্ডের পাশাপাশি রয়েছে কাউন্টি বা গ্রাম্য পরিবেশে অবকাশ যাপনের সুবিধাও রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য। মেরিল্যান্ডের ফেডেরিক কাউন্টিতে অবস্থিত এই অবকাশ যাপন কেন্দ্রের নাম হলো ক্যাম্প ডেভিড।

৫১ আসনবিশিষ্ট্য সিনেমা হল

প্রেসিডেন্টরা হোয়াইট হাইসে বসে সিনেমা দেখার এবং অতিথিদের দেখানোর ব্যবস্থাও রাখা রয়েছে হোয়াইট হাউসে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট একটি রুমকে ৫১ আসনবিশিষ্ট্য থিয়েটারে রূপান্তরিত করেছিলেন।

এয়ারফোর্স-১ এর মতো অত্যাধুনিক বিমান ব্যবস্থা

এয়ারফোর্স-১ হলো কেবলমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনের জন্য নিয়োজিত বিশেষ একটি বিমান ব্যবস্থা। উন্নত প্রযুক্তি এবং উচ্চ বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-২০০বি বিমান প্রেসিডেন্টের জন্য সবসময়ই রিজার্ভ থাকে। ৪ হাজার স্কয়ারফিটের বিমানটিতে মেডিক্যাল রুম এবং প্রাইভেট রুমও রয়েছে। ১০০ জন যাত্রী ধারণে সক্ষম এই বিমানটি ঘণ্টায় ২ লাখ ডলার খরচ হয়।

বিশেষ উড়োজাহাজ

এয়াসফোর্স-১ এর পাশাপাশি বিশেষ একটি উড়োজাহাজও রিজার্ভ থাকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য। প্রেসিডেন্ট যেখানেই যেতে চান, এটি তার জন্যই অপেক্ষমাণ থাকে।

সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা

একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় মোড়ানো থাকেন। এমনকি অবসরের সময়ও তার চতুর্পার্শ্বে থাকে সিক্রেট সার্ভিসের বিশেষ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ২০১৭ সালে সিক্রেট সার্ভিসের জ্যন বাজেট করা হয়েছিল ১৯০ কোটি ডলার। বর্তমানের হিসাবটি অবশ্য জানা যায়নি।

বুলেট ও বোমাপ্রুফ গাড়ি

মার্কিন প্রেসিডেন্টর জন্য বুলেট ও বোমাপ্রুফ গাড়ির ব্যবস্থাও রয়েছে। এটিকে বলা হয়ে থাকে দ্য বিস্ট। প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিলাসবহুল এই গাড়িটিকে ঘিরে থাকে অনেকগুলো গাড়ির বহর।

৬০ হাজার স্কয়ারফিট গেস্ট হাউস

মার্কিন প্রেসিডেন্টে গেস্ট হলে তিনিও হয়ে যান স্পেশাল। ৬০ হাজার স্কয়ারফিটের এক বিশাল বাড়ি অপেক্ষা করে একজন অতিথির জন্য। ব্লেয়ার হাউস নামে ওই গেস্ট হাউসটিতে রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিশেষ মেহমানরা থাকেন। ৪টি বাড়ির সমন্বয়ে তৈরি গেস্ট হাউসটিতে ১২০টি রুম এবং ১৮ জন সার্বক্ষণিক কর্মী রয়েছেন সেবাদানের জন্য।

রয়েছে প্রিমিয়ার স্বাস্থ্য বীমা

দায়িত্ব পালন করার সময় সরকারি চিকিৎসক ও সব ধরনের মেডিকেল সেবার পাশাপাশি সাবেক প্রেসিডেন্টরা প্রিমিয়ার স্বাস্থ্য বিমার সুবিধাও পেয়ে থাকেন।

প্রেসিডেন্ট সাবেক হলেও রয়েছে অবকাশ সুবিধা

এক বা দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সাবেক হয়ে গেলেও তাদের ছুটি কাটানোর জন্য সুবিধা বরাদ্দ থাকে। ভ্রমণ, অবকাশ এবং অন্যান্য কাজের জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট বার্ষিক দুই লাখ ডলার পেয়ে থাকেন।

পেনশন সুবিধা

মার্কিন প্রেসিডেন্টরা বার্ষিক ২ লাখ ৫ হাজার ডলারের বেশি পেনশন পেয়ে থাকেন। এটি সময়ের সঙ্গে কম বেশি করা হয়ে থাকে। এছাড়াও অফিস ও অন্যান্য বয়ের জন্যও বরাদ্দ রয়েছে।

দায়িত্ব হস্তান্তরের খরচ

মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অন্য প্রেসিডেন্টের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য বাড়তি সুবিধা পান প্রেসিডেন্টরা। এটি অফিস ট্রানজিশন খরচ নামেও পরিচিত। ওবামা ট্রাম্পের কাছে অফিস ট্রানজিশনের জন্য ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার পান।

রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

প্রেসিডেন্ট এবং তাদের কিটাত্মীয়রা রাষ্ট্রীয় খরচে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া তথা দাফন-কাফন এবং অনান্য আনুষঙ্গিক খরাংদি পেয়ে থাকেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...