The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

হাজারখানেক সন্তান এমন এক রক্তপিপাসু রাজার গল্প!

মৌলে ইসমাইল অত্যন্ত নির্মম একজন শাসক ছিলেন। অথচ তার শাসনকালকে একটি স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এখনও!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রাজা বাদশাদের কারবার ছিলো যেনো রক্তের খেলা। নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করতে তারা যখন-তখন মানুষ খুন করতে পিছপা হতেন না। আজ রয়েছে হাজারখানেক সন্তান এমন এক রক্তপিপাসু রাজার গল্প!

হাজারখানেক সন্তান এমন এক রক্তপিপাসু রাজার গল্প! 1

আগেকার আমলে শাসক ছিলেন রাজা। তারা শাসন করেছেন বিশ্বকে। তাদের মধ্যে অনেকেই এখনও নিজের কৃতকর্মের মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। কেও কেও আবার বিতর্কিত হয়ে আছেন ইতিহাসের পাতায়। তবে রাজা মৌলে ইসমাইল যে রেকর্ড গড়েছিলেন, তা এখনও কে সেই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি। হাজারখানিক সন্তানের জনক ছিলেন এই শাসক মৌলে ইসমাইল।

১৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দে মরক্কোর সিজিলমাসায় মৌলে ইসমাইল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন আলাউইট রাজবংশের দ্বিতীয়তম শাসক। এখনও এই রাজবংশ মরক্কোকে শাসন করে আসছে। ১৫ জন ভাইয়ের মধ্যে মৌলে ইসমাইল ছিলেন সপ্তম। তিনি ১৬৬৭ হতে ১৬৭২ সাল পর্যন্ত মরক্কোর ফেজের কিংডমের গভর্নরও ছিলেন। তারপর তার সৎ-ভাইয়ের মৃত্যু ঘটলে তিনি শাসক হন।

মৌলে ইসমাইল অত্যন্ত নির্মম একজন শাসক ছিলেন। তার রাজত্বকাল ফেজের দেওয়ালে ৪০০ বিদ্রোহীর মাথা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। তিনি ১৬৩০ সালে ফেজে সুলতান ঘোষিত হওয়ার পূর্বে তার ভাগ্নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। মৌলে ইসমাইল সিংহাসনে বসার পূর্বে মাত্র ৫৫ বছর ধরে এই বংশ মরক্কো শাসন করে। ইতিহাস এই সুলতানকে তকমা দিয়েছে একজন রক্তপিপাসু হিসেবে।

যেনো রক্তের নেশা সারাক্ষণই তাকে তাড়িত করে বেড়াতো। মানুষ হত্যা করা তার কাছে ছিল যেনো এক খেলার মতো। মৌলে ইসমাইলের শাসনকাল রাজকীয় ইতিহাসের এক বিশেষ আকর্ষণও ছিল। তার পূর্বে বা পরে কোনো রাজার রাজত্বকাল এতোটা দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। তার ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে, মরক্কান রাজতন্ত্ররা পুরুষ শাসক সরবরাহের জন্য উপজাতিদের উপরই মূলত নির্ভর করতো। তবে মৌলের রাজত্বকালে এই ধারনাটির অবসান ঘটেছিলো।

মৌলে ইসমাইল তার অঞ্চলকে সীমাবদ্ধ করার জন্য প্রতিষ্ঠিত করে ব্ল্যাক গার্ড বাহিনী। যেখানে পুরোপুরি কালো দাসদের একটি বাহিনী ছিল। যা আবিদ আল বুখারি কিংবা বুখারীর দাস নামে পরিচিত। এই সৈন্যবাহিনী দিয়েই সে তার সকল ইচ্ছা হাঁচিল করতো। এই বহরটি ক্রমবর্ধমান ভূমধ্যসাগর হতে কৃষ্ণ সাগরের সর্বত্রই অভিযানের মাধ্যমে সুলতানকে ক্রমাগতভাবে খ্রিস্টান অস্ত্র ও দাস সরবরাহ করেছিল।

মরক্কো কিংডম ইসমাইলের রাজত্বকালে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে, বিশেষত ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন ও স্পেনের রাজ্যের সঙ্গে। ইউরোপীয়রা তার নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতার কারণে তাকে “ব্লাডি ব্লু কিং” কিংবা “ব্লাথ থারস্টি” নাম দেওয়া হয়েছিলো। মরক্কোতে তিনি “ওয়ারিয়র কিং” হিসেবেও অধিক পরিচিত ছিলেন।

এতোসব বিতর্কিত বিষয় থাকার পরও ইতিহাসে এমনকি পরবর্তীতে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও তার নাম উঠে আসে! মৌলে ইসমাইল ৮৮৮ জন সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন, যা হলো রেকর্ড করা ইতিহাসের সর্বোচ্চ সন্তানের জনক।

এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ফরাসী কূটনীতিক ডোমিনিক বুসনট যিনি প্রায়শই মরক্কোতে অভিযান চালাতে যান, তিনি বলেছেন যে সুলতানের আসলে ৪ স্ত্রী ও ৫০০ জন উপপত্নী ছিল। যাদের মোট ১১১ জন সন্তান ছিল। ওই প্রতিবেদনটি করার সময়, মৌলে ইসমাইলের বয়স ছিল ৫৭ বছর এবং তখন ছিলো তার ৩২ বছরের শাসনকাল। তবে বিভিন্ন নথি পত্র এবং ইতিহাসবিদদের মত অনুযায়ী তার সন্তান সংখ্যা ছিল ৮৮৮ জন। যার বেশিরভাগ শিশুই ছিল অবৈধ। তার উপপত্নীদের সঠিক সংখ্যাও পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হয় হাজারের বেশি ছিলো।

ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ দ্বারা তৈরি সিমুলেশন অনুসারে জানা যায়, সুলতানকে বহু বংশ চালানোর জন্য প্রতিদিন গড়ে ০ দশমিক ৮৩ হতে ১ দশমিক ৪৩ বার যৌনমিলনের প্রয়োজন ছিল। গবেষকদের মতে, এটি করার জন্য তার হেরেমে ছিল ৬৫ হতে ১১০ জন নারী। বাকিগুলো ছিল যুদ্ধের পর ধরে নিয়ে আসা নারীরা। বেশিরভাগই তার হেরেমে ও পুরো মরক্কোতে দাসের কাজ করতো।

তবে একটি বিষয় হলো যতোই নির্মম হন না কেনো, তার আমলেই নাকি মরক্কোতে শান্তি ফিরে এসেছিল। তার শাসনকালকে একটি স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এখনও! সেই সময়কালে সুরক্ষা এবং শৃঙ্খলা রক্ষিত হয়েছিল। তিনি দেশকে একীভূত করেছিলেন ও যথেষ্ট পরিমাণে দেশকে প্রসারিতও করেছিলেন। তিনি রাজ্যের চারপাশে অসাধারণ সব শৈলী স্থাপত্য নির্মাণ করেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...