The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

দু’শো বছর ধরে কাচের জারে সিরিয়াল কিলারের মাথা!

একটি কাচের জারে ডুবিয়ে রাখা একটা ধড়হীন মাথা!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কখনও কেও কী চিন্তা করতে পারবেন? একজন মৃত ব্যক্তির মস্তক কাচের জারের মধ্যে রেখে দেওয়া হয়েছে! তাও এক দিন দুদিন নয়, দীর্ঘ দু’শো বছর ধরে রেখে দেওয়া হয়েছে ঠিক এভাবেই! এখন প্রশ্ন হলো কেনো এমনটি করা হয়েছে?

দু’শো বছর ধরে কাচের জারে সিরিয়াল কিলারের মাথা! 1

একটি কাচের জারে ডুবিয়ে রাখা একটা ধড়হীন মাথা! যার বয়স হতে চলেছে প্রায় দু’শো বছর। আজকের কথা নয়, সেই ১৮৪১ সালে যার মৃত্যু ঘটেছিলো। তবু আজও সে মানুষের নৃশংসতার জলছাপ বয়ে বেড়াচ্ছে তার সেই হিমশীতল চাহনির মধ্যে। তবে কেনো এটি করা হয়েছে? কেনোই বা এভাবে রেখে দেওয়া হয়েছে এই মাথাটি? কী অপরাধ করেছিল ওই ব্যক্তি?

বর্তমান সময় ‘সিরিয়াল কিলার’ ব্যাপারটা আর কাওকে বোঝানোর কোনো প্রয়োজন নেই। থ্রিলার সিনেমা, ওয়েব সিরিজ কিংবা উপন্যাস ছুঁয়ে যাওয়া মানুষ সকলেই জানেন যে, অকারণে একের পর এক অনায়াসে খুন করে যেতে পারে যারা, তারাই হলো সিরিয়াল কিলার। জারে ডুবিয়ে রাখা মাথাটা তেমনই এক ভয়ানক সিরিয়াল কিলারের মাথা!

এই সিরিয়াল কিলারের নাম দিয়েগো আলভেজ। স্পেনে জন্ম নেওয়া এই পর্তুগিজ দিয়েগো আলভেজের দু’হাতে মাখানো রয়েছে প্রায় সত্তরজন নিরীহ মানুষের রক্ত। অন্ধকার রাতে যাদের সামনে তিনি আচমকাই আবির্ভূত হয়েছিল সাক্ষাৎ মৃত্যু হয়ে।

১৮১০ সালে জন্ম দিয়েগো আলভেজের। কৃষক পরিবারের ছেলে আলভেজকে সংসারের হাল ধরতে খুব অল্পবয়সেই স্পেনের গালিসিয়া হতে পর্তুগালের লিসবনে আসতে হয়। তখন তার বয়স মাত্র ১৯। তবে স্বল্পশিক্ষিত এক ছোকরাকে কে কাজ দেবে? কিন্তু কাজ সে এক সময় পেয়েছিল।

ধনী বাড়িতে ভৃত্যের কাজ পেয়েছিলো সে। কিংবা ওই ধরনের ফাইফরমায়েশ খাটার কাজ। নানা জায়গায় এলোমেলোভাবে রুটিরুজির সন্ধান করতে করতে ক্রমেই তার বখে যাওয়া শুরু হয়। এক সময় মদ খাওয়া ধরলো সে। সেইসঙ্গে জুয়া। তার বাড়িতে চিঠি লেখা ততোদিনে বন্ধ।

তখন এক ছিন্নমূল মানুষ দিয়েগো আলভেজ। মাথার মধ্যে বিনবিনিয়ে ঘুরতে শুরু করেছে অপরাধের নানা পোকা। সে ধরেই নিয়েছে যে, অপরাধের জীবন ঢের ঢের লাভজনক একটি কাজ। অনেক সহজেই পকেট ভরে ওঠে!

তবে কি শুধুই পকেট ভারী হওয়ার বিষয়? আসলে তা নয়। তার অপরাধের ফিরিস্তি শুনলেই বোঝা যাবে মানুষকে কীটের মতো দলে মেরে ফেলতে দারুণ আমোদ পেতো সে। সে কাজ করতো একটা বাড়িতে। আসলে সবটাই তার বাহানা। কারণ সেই বাড়ির একদম কাছেই ছিল এমন একটি দীর্ঘ জলাধার, যেটিকে সেতু হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

সেই সেতুর পাশেই রাতের দিকে ওত পেতে বসে থাকতো দিয়েগো আলভেজ। ওখান দিয়েই বাড়ি ফিরতো নিরীহ সব কৃষকরা। একা একা বাড়ি ফেরা সেই সব কৃষকদের উপরে হানা দিয়ে টাকাপয়সা সব ছিনতাই করে নিতো।

তবে এখানেই শেষ নয়। সেই মানুষটিকে মেরে আহত করার পর তাকে ২১৩ ফুট লম্বা সেতুর উপর নিয়ে যেতো। সেখান থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিতো অন্ধকার নদীর পানিতে। ১৮৩৬ সাল হতে শুরু হয় এই হত্যালীলা। যা চলে ১৮৩৯ সাল পর্যন্ত। এই তিন বছরে প্রায় সত্তর জনকে একই কায়দায় খুন করেছিল দিয়েগো আলভেজ। অথচ বয়স তখনও তিরিশ হয়নি তার!

স্থানীয় পুলিশও অবশ্য বুঝতে পারেনি বিষয়টি। তারা ধরেই নেয় একের পর এক কৃষক আত্মহত্যা করার জন্যই লাফ মেরেছে নদীতে। যে কারণে পরে ওই সেতুর উপর দিয়ে কৃষকদের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

যদিও ততোদিনে ওই সেতুর কাছে থাকা স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে অন্ধকার ফুঁড়ে বেরিয়ে আসতে থাকে এক ভয়ংকর খুনির আবছায়া মিথ। অবশ্য পুলিশ সেদিকে পাত্তাই দেয়নি।

আর তাই বেঁচে যায় দিয়েগো আলভেজ। তবে একবার খুনের নেশায় মেতে উঠলে সহজেই তার নিস্তার নেই। এবার সে তৈরি করে ফেলে এক বিশাল ডাকাতের দল। শুরু হয়ে যায় লুটতরাজ। এক চিকিৎসকের বাড়ি ডাকাতি করতে গিয়ে ৪ জনকে খুন করার সময় সেখানে হানা দেয় পুলিশ। আর দিয়েগো আলভেজের অপরাধের ডায়রির সেটিই শেষ পাতা।

বাকি যে ক’দিন সে বেঁচেছিল, বন্দি হয়েই ছিলো। তারপর আদালতের নির্দেশে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তার। ১৮৪১ সালেই পৃথিবী থেকে মুছে যায় দিয়েগো আলভেজ। রয়ে যায় এক অমানুষিক খুনির কাহিনী।

তবে মুছে যায়নি দিয়েগো আলভেজ। অধরা না হয়েই যেনো সে রহস্যময় হয়ে উঠলো আরও বেশি। সেই সময় বিজ্ঞানীরা তার মাথাটা কেটে ডুবিয়ে রেখে দিয়েছিলেন ফরমালিনের মধ্যে। উদ্দেশ্য একটাই, ওই মস্তক নিরীক্ষণ করে মানুষের খুনি প্রবৃত্তিকে খুঁজে বের করা।

যদিও তেমন কিছু অবশ্য বুঝে ওঠা হয়নি। অনেক চেষ্টা করেও আলাদা কোনও তথ্যের খোঁজ মেলেনি আলভেজের কাটা মাথা হতে। তবে সেই থেকে লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে জারের ভিতর দিয়ে এখনও তাকিয়ে রয়েছে দিয়েগো আলভেজ।

আজও দিয়েগো আলভেজ দেখলে শিউরে ওঠে ছাত্ররা। ভিড় জমান ট্যুরিস্টরাও। ভাবার চেষ্টা করেন ওই শীতল চাহনির আড়ালে কিভাবে লুকানো ছিল নৃশংসতার রাক্ষুসে সেই প্রবৃত্তি। কিন্তু কেনো যেনো কোনো কিছুই তার ওই মস্তক থেকে খুঁজে পাওয়া যায় না।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...