The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বিশ্বের অদ্ভুত কয়েকটি খাবার প্রতিযোগিতা!

এইসব খাবার প্রতিযোগিতায় প্রতি বছর অনেকেই অংশগ্রহণ করেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সবাই মজার মজার খাবার খেতে ভালোবাসে! তবে সেই খাবার খেয়ে যদি বাড়তি কোনো পুরষ্কার পাওয়া যায় তাহলে তো আর কথাই নেই। আজ জানুন বিশ্বের অদ্ভুত কয়েকটি খাবার প্রতিযোগিতা সম্পর্কে।

অনেকেই আছেন, যারা এক বসাতেই কয়েক প্লেট খাবার সাবাড় করে দেন। এরকম খাদক বন্ধুদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমরা হয়তো নানা সময় নানা জিনিস খেয়ে থাকি। ঠিক এমনই কিছু খাবার প্রতিযোগিতা প্রচলিত রয়েছে বিশ্ব জুড়ে। এইসব খাবার প্রতিযোগিতায় প্রতি বছর অনেকেই অংশগ্রহণ করেন। চলুন আজকে আমরা জেনে নেওয়া যাক বিশ্ব জুড়ে প্রচলিত এমনই অদ্ভুত কয়েকটি খাবার প্রতিযোগিতা সম্পর্কে।

রসুন

রসুনের কথা আমরা সবাই জানি। এটি মশলা হিসাবে অনেক জনপ্রিয়। রসুনে রয়েছে নানা রকম ঔষধি গুণ। কেও কেও সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে এক কোয়া রসুন কাঁচা খেয়ে নেন। তবে আপনাকে যদি এক বাটি কাঁচা রসুনের কোয়া দিয়ে বলা যায় ১ মিনিটের মধ্যে এগুলো শেষ করতে হবে। আপনি কী তাহরে পারবেন তা শেষ করতে?

রসুন খাওয়ার প্রতিযোগিতাটি হলো এক মিনিটের মধ্যে এক বাটি কাঁচা রসুন খেয়ে ফেলতে হবে। এমনই কাঁচা রসুন খাবার প্রতিযোগিতা হয় ইংল্যান্ডের ডরসেটে অবস্থিত চিডিওক নামে একটি ছোট্ট গ্রামে। ওই গ্রামে রয়েছে একটি রসুনের খামার। এখানেই প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে ‘বিশ্ব রসুন খাওয়া প্রতিযোগী’। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদেরকে এক মিনিটের মধ্যেই যতোগুলো সম্ভব কাঁচা রসুনের কোয়া চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে হবে। নিয়ম হলো রসুনের কোয়া না গিলে চিবিয়ে খেতে হবে যাতে এর ঝাঁঝালো স্বাদ সম্পূর্ণ মুখের মধ্যে বেরিয়ে আসে। তবে কাঁচা রসুন খাওয়ার সময় প্রতিযোগিরা ইচ্ছে করলেই পানি পান করতে পারবেন। ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাগুলোতে রসুন খাওয়ার জন্য ৫ মিনিট সময় দেওয়া হতো। পরবর্তীকালে সেটিকে কমিয়ে ১ মিনিটে নিয়ে আসা হয়েছে।

বিছুটি

বিছুটির কথা হয়তো অনেকের জানা আছে। ভয়ংকর একটি জিনিস হলো এই বিছুটি। ছোটবেলাই অনেকেই আমরা দুষ্টুমি করে বন্ধুর গায়ে বিছুটি পাতা ঘষে দিতাম, তারপর দেখা যেনো এক ভয়ংকর মজা। বিছুটি গাছ মূলত একধরনের খসখসে পাতাযুক্ত উদ্ভিদ। এই উদ্ভিদের পাতায় প্রচুর ‘হিস্টামিন’ নামক এক ধরনের পদার্থ থাকে যা আমাদের চামড়ায় লাগলে সেখানে প্রচুর ব্যথা এবঙ চুলকানির অনুভূতি হয়। যে কারণে সবাই চেষ্টা করে এই গাছ এড়িয়ে চলা হতো। তবে সবাই এড়িয়ে চললেও একদল মানুষ এই গাছের পাতা খেয়ে জিতে নেওয়ার চেষ্টা করেন পুরষ্কার। প্রতিবছর এই বিছুটি পাতা খাওয়ার প্রতিযোগিতা হয় ইংল্যান্ডের ডরসেটে!

ওই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের সামনে রাখা হয় ২ ফুট লম্বা বিছুটি গাছের কয়েকটি ডাল। প্রতিটি প্রতিযোগিকে এই গাছের ডাল থেকে মুখ দিয়ে প্রত্যেকটি পাতা ছাড়িয়ে ছাড়িয়ে সম্পূর্ণ ডালটি পরিষ্কার করে খেতে হবে। এই বিছুটি পাতার মজা ভালোভাবে বোঝানোর জন্য তাদেরকে দেওয়া হয়ে থাকে ১ ঘন্টা সময়। এই ১ ঘন্টায় যে যতো বেশি বিছুটি পাতা খেতে পারবে, তার গলাতেই উঠবে বিজয়ীর মালা।

তেলাপোকা

তেলেপোকা দেখলে অনেকেই ভয়ে দৌড়ে পালান। তেলাপোকা উড়ে এসে গায়ে বসলেই অনেকেই আবার দুই হাত-পা লাফিয়ে ওঠেন। সেই তেলাপোকাই যদি আপনাকে খেতে বলা হয়, তাও আবার জ্বলজ্যান্ত কচকচ করে চিবিয়ে খেতে হয়, তাহলে আপনি কী করবেন? দুঃস্বপ্নেও আপনি যা ভাবেন না, সেই তেলাপোকা খাওয়ার প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বে!

ফ্লোরিডার এক পোষা প্রাণীর দোকানের দোকানদার আয়োজন করে থাকেন এমনই এক তেলাপোকা খাওয়ার প্রতিযোগিতা।প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা পান একটি মূল্যবান পোষা অজগর! আপনি কী ভয় পেয়ে গেলেন? আপনি ভয় পেলেও বহু প্রতিযোগিই অংশ নেন এতে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এক প্রতিযোগী প্রায় ৬০ গ্রাম কেঁচো জাতীয় পোকার লার্ভা, ৩৫টি বড়সড় কেঁচো এবং এক বালতি জ্যান্ত তেলাপোকা খেয়ে বিজয়ী হন। তবে বিধিবাম! জেতার ঠিক কয়েক মিনিট পরেই দোকানের বাইরে অজ্ঞান হয়ে উল্টে পড়েন এডওয়ার্ড আর্কবল্ড নামে ওই ব্যক্তি। পরবর্তীতে মৃত্যু হয় তার।

মরিচ

অনেকেই মরিচ খেতে ভালোবাসেন। ঝাল ঝাল ফুচকা বা চোখের জল নাকের জল এক করা নাগা বার্গার, এসব এখন অনেকের কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আমাদের দেশে। এই ঝালপ্রেমীদের জন্যই বিশ্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহু মরিচ খাওয়ার প্রতিযোগিতা। কে কার চেয়ে বেশি ঝালযুক্ত মরিচ খেতে পারেন, তা দেখা হয় এই প্রতিযোগিতায়।

পানি

হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন যে, পানি পান করা আর এমন কি কঠিন কাজ! এ তো পানির মতোই সহজ হবে। তবে এক নাগাড়ে কয়েক লিটার পানি পান করতে গেলে বিপদেও পড়তে হতে পারেন অনেকেই।

আজকের কথা নয়, সেই ২০০৭ সালে এক রেডিও স্টেশন এমনই এক পানি পান করার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলো। ঘোষণা করা হয় প্রতিযোগিতার বিজয়ীকে দেওয়া হবে একটি ‘নিন্টেন্ডো উই (Nintendo Wii)’ বা ভিডিও গেমিং কনসোল। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর ৮ আউন্স (প্রায় ১ কাপ) পরিমাণ পানি পান করতে হবে। এক্ষেত্রে কেও যদি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে টয়লেটে যেতে চান, তাহলে সে হেরে যাবে। প্রতিযোগিতা শুরু হলে বড় বড় পানির বোতল দেওয়া হয় প্রতিযোগিদের। জেনিফার স্ট্রেঞ্জ নামে জনৈক প্রতিযোগী এই প্রতিযোগিতায় প্রথম হন। তবে পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মাথাব্যথা শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তিনি বাসায় ফিরেই ‘ওয়াটার ইনটিক্সিকেশনের’ কারনে মৃত্যুবরণ করেন। ‘ওয়াটার ইনটক্সিকেশন’ কিংবা ‘হাইপোনাট্রেমিয়া’ হলো এমন একটি অবস্থা যখন অতিরিক্ত পানি পান করার কারণে শরীরের লবণের পরিমাণ কমে যায়। শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে শুরু হয়ে যায় মাথাব্যথা এবং বমিবমি ভাব। এই সময় মস্তিষ্ক ফুলে যায় এবং ফুসফুসে তরল জমে যায়। মস্তিষ্ক ফুলে যাওয়ার কারণে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। যে কারণে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি।প্রতিযোগিতায় স্ট্রেঞ্জ ৭.৬ লিটার (২ গ্যালন) পানি পান করেছিলেন। অন্যান্য প্রতিযোগীরা জানিয়েছেন যে, তিনি এতো বেশি পানি পান করেছিলেন যে তার পেট প্রচণ্ড আকারে ফুলে গিয়েছিলো। স্ট্রেঞ্জের স্বামী পরবর্তীতে আয়োজকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং ১৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পান। তবে এতো টাকা পেলেও তিনি হারিয়ে ফেলেন তার প্রিয় স্ত্রীকে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...